স্বাস্থ্য


  • এই গরমে শিশুর যত্ন নিবেন কীভাবে ?গরমে শিশুকে সুস্থ রাখার কিছু টিপস

                           নবজাতকের পরিচর্যায় কিছু টিপস, যা আমরা খেয়াল করি না!                                           ডাঃ মৌ প্রিয়া সেন, শিশু বিশেষজ্ঞ ভরা গ্রীষ্মের মাঝে কোলে এসেছে বাড়ির খুদে সদস্যটি। বাড়ির বড়রা যেখানে দিনে ৩-৪ বার গায়ে জল ঢেলে নিচ্ছেন, ফ্যানের তলায় বসে আইসক্রিম খাচ্ছেন বা লু কাটাতে আম-পোড়ার শরবতে চুমুক দিচ্ছেন; সেখানে ওই একরত্তির কান্নাই একমাত্র সম্বল। আর বেচারি নতুন মা পড়েছে মহা বিপদে। এক তো গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত, তার ওপর ওইটুকু বাচ্চাকে কীভাবে সে আরাম দেবে বুঝে উঠতে পারছে না। চারিদিক থেকে আসা নরম গরম উপদেশের যদিও কোনও অভাব নতুন মায়ের নেই, তাও যেন খুঁতখুঁতুনি যায় না তার। নতুন মায়ের জন্য আমাদের প্রথম পরামর্শ, সবার আগে আপনি মাথা ঠান্ডা রাখুন এবং নিজেকে সুস্থ রাখুন। তবেই না কচিটাকে আরাম দিতে পারবেন! গরমে ডিহাইড্রেশন, হিট র‍্যাশ, ডায়াপার র‍্যাশ, খেতে না চাওয়া বা শরীর গরম হয়ে যাওয়া, এইসব কিছু থেকে শিশু বাঁচতে পারে আপনি একটু সতর্ক থাকলেই। কী করলে এই প্রচণ্ড গরমেও ভালো থাকবে সদ্যোজাত শিশুটি, দেখে নিন এক নজরে।        গরমে শিশুকে সুস্থ রাখার কিছু টিপস   1. শরীর যেন আর্দ্র থাকে (Keep the baby hydrated) গরমে আমাদের যেমন ঘন ঘন জল তেষ্টা পায়, শিশুরও কিন্তু গলা শুকিয়ে যায়। যেহেতু, সদ্যোজাত শিশু মায়ের দুধই খায়, তাই ওকে কিছুক্ষণ পরপর একটু করে দুধ খাইয়ে দিন। যদি কোনও কারণবশত আপনি ওকে ব্রেস্ট মিল্ক দিতে পারছেন না এবং ফর্মুলা খাওয়াতে শুরু করেছেন, তা হলে বাচ্চাকে ফর্মুলার সাথেই জল দিতে হবে। কিন্তু, অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে। বাচ্চাকে জল খাওয়াতে হলে সেই জল যেন অতিমাত্রায় বিশুদ্ধ হয় এবং জলের বোতল যেন অবশ্যই স্টেরিলাইজড করা হয়। শিশুকে জল দেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি। বাচ্চা ব্রেস্ট মিল্ক খেলে লক্ষ্য রাখতে হবে আপনার খাওয়া-দাওয়ার ওপর। বেশি করে জল খান আপনিও। দিনে অন্তত ৩ লিটার তো বটেই।   #2. স্নান করার শিশুকে (Bathe your baby regularly) প্রচণ্ড গরমে বাচ্চাকে স্নান করানো অবশ্যই উচিত। তবে, মনে রাখবেন, বাচ্চার স্নানের জল যেন কখনই খুব গরম বা খুব ঠান্ডা না হয়। কুসুম গরম জলে বাচ্চাকে স্নান করান। হাতের কনুই জলে ডুবিয়ে জলের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন। বাচ্চাকে স্নান করালে বাচ্চার দেহের তাপমাত্রাও কমে এবং ও আরাম পায়। এমনকি, ডাক্তার যদি অনুমতি দেন, তা হলে আপনার ছোট্ট শিশুটিকে আপনি দিনে এক বারের বেশিও স্নান করাতে পারেন। স্নানের সময় বগল ও গোপনাঙ্গের খাঁজ পরিষ্কার করে দিন। এইসব স্থানে ঘাম বেশি হয় বলে নোংরা বেশি বসে ইনফেকশন হতে পারে। #3. তেল মালিশের খুঁটিনাটি (Oil massage is must) গরম কাল বলে ভাববেন না, যে শিশুকে তেল মাখানো যাবে না। আমরা না হয় বড়, গরম কালে তেল মাখার নাম শুনলে আঁতকে উঠি। কিন্তু, শিশুর ক্ষেত্রে একেবারেই এই ধারণা কাজ করে না। বাচ্চাকে ভালো কোম্পানির বেবি অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করে দিন। লক্ষ্য রাখবেন, বাচ্চাকে যে বেবি অয়েল মাখাচ্ছেন সেটা ওর স্যুট করছে কি না। যেহেতু, বাচ্চা একেবারেই ছোট, তাই যে কোনও নতুন কিছু শুরুর আগে একটু বিশেষ লক্ষ্য রাখতেই হবে। ভালো গুণমানের বেবি অয়েল শিশুকে মাখালে শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়, ত্বক নরম থাকে এবং ওর ঘুমও ভালো হয়। তবে, যেহেতু গরম কাল, তাই শিশুকে তেল মালিশ করে দেওয়ার পর ভালো করে ভিজে কাপড় দিয়ে সব তেলটা মুছে দিন বা স্নান করিয়ে দিন। শিশুর গায়ে যেন অতিরিক্ত তেল লেগে না থাকে বা তেল প্যাচপ্যাচে ভাব না থাকে। গরম কালে সরষের তেল মাখাবেন না কারণ; এই তেল শরীর গরম করে। গরমে সরষের তেল মাখালে শিশুর র‍্যাশ, ফুসকুড়ি বা ঘামাচি হতেই পারে। বেবি অয়েল ছাড়া নারকেল তেল, তিল তেল বা অলিভ অয়েল শিশুর মালিশের জন্য খুব ভালো।এই তেলগুলি মাখালেও শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়।   #4. বেবি পাউডার সঙ্গে থাকুক (Start using baby powder) ভালো কোম্পানির বেবি পাউডার শিশুটিকে অনেক আরাম দিতে পারে। গরমে ঘাম থেকে হওয়া র‍্যাশ বা বিছানার সাথে ঘষা লেগে শিশুর পিঠে যে র‍্যাশ হয়, তার থেকে রক্ষা করতে পারে এই বেবি পাউডার। বেবি পাউডারে কুলিং এজেন্ট থাকায় বাচ্চার শরীর ঠান্ডাও রাখে। তবে, কোনও কিছুই তো অতিরিক্ত ভালো নয়। এই একই কথা পাউডারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বেশি পাউডারে লোমকূপ বন্ধ হয়ে র‍্যাশ গজাতে পারে। বাচ্চার গায়ে সরাসরি পাউডার ঢালবেন না। নিজের হাতে পাউডার ঢেলে হাতে মেখে নিন, তারপর বাচ্চার গায়ে আপনার হাতে করে পাউডার মাখিয়ে দিন। এর ফলে, বাচ্চাকে অতিরিক্ত পাউডার মাখানোও হয় না, আবার বাচ্চার নাকে পাউডার ঢুকে যায় না।   #5. ঢিলেঢালা জামা-কাপড় (Choose right clothes) বাচ্চাটিকে এমন জামা-কাপড় পরান, যেন তাতে যথেষ্ট হাওয়া বাতাস খেলে। বাচ্চার গায়ে ঘাম হলে কিছু সময় পরপর ওর জামা পাল্টে দিন। দুপুরের চড়া রোদে ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে না বেরোলেই ভালো। সারাদিন ডায়াপার পরিয়ে রাখবেন না। প্রয়োজনে শুধুমাত্র রাতেই ডায়াপার পরান।   #6. ঘরের তাপমাত্রায় বেশি পরিবর্তন আনবেন না (Don’t change the room temperature frequently) জন্মের পর বাচ্চারা পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করে। তাই বাচ্চা যেখানে থাকে, সেই ঘরের তাপমাত্রার হঠাৎ হঠাৎ রদবদল তার ছোট্ট শরীর ঠিক ভাবে মানিয়ে নিতে পারে না। বাচ্চা যে ঘরে থাকবে, সেখানে ফ্যানের স্পিড বা এয়ারকন্ডিশনের তাপমাত্রা একই রকম রাখুন। বাচ্চার ঘরের আদর্শ তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি হওয়া উচিত। এয়ার কুলার ব্যবহার করলে তা যেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।                                                            এই গরমে শিশুর যত্ন নিবেন যেভাবে/ উপরোক্ত বিষয়গুলি ছাড়াও বাড়ির আশেপাশের জায়গা বা জল জমার মতো জায়গা থাকলে, সেগুলি পরিষ্কার করিয়ে নিন। এতে জমা জলে মশা জন্মাতে পারবে না। বাড়িতে জানলায় নেট লাগিয়ে রাখলে ঘরে হাওয়া চলাচল হয় আবার শিশু পোকামাকড়-মশা ইত্যাদির কামড়ের থেকে রক্ষা পায়। গরমকালে দুপুরে কোনও ভাবেই বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে বেরোবেন না। কোনও ঘিঞ্জি জায়গায় ছোট্ট শিশুকে নিয়ে যাবেন না। একটু সতর্ক থাকুন, আরামে কাটবে গরম।

  • ডায়রিয়া নিয়ে সচেনতা শিবির মালদা সহ মানিকচকে

    newsbazar24: ডায়রিয়া একটি জলবাহিত রোগ। গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরমে এবং বর্ষাকালে এই রোগের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে বেড়ে যায় । যার কারণে প্রতি বছর অসংখ্য লোক বিশেষ করে শিশুরা মৃত্যুমুখে পতিত হয়।   প্রোটজোয়া কিংবা রোটা ভাইরাস জনিত ডায়রিয়া যার অন্যতম প্রধান কারণ।সুনির্দিষ্ট ভাবে রোগ নির্ণয় ও দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে মূল্যবান জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই মালদা শহরের জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালনায় আয়োজিত হল ডায়রিয়া শিবিরের। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদা জেলার উপ স্বাস্থ্য আধিকারিক(৩) ডঃ কোপনীল জোশী ।ডায়রিয়া নিয়ে সচেনতা বাড়াতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষদের ডাইরিয়া সমন্ধে সচেতন করেন। ৫ বছরের নিচে যে সকল শিশুরা ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে তার হার কমাতে ১৫ দিন ব্যাপি সচেতনা মূলক অনুষ্ঠান শুরু হয় মালদা সহ মানিকচকে।প্রত্যেকের বাড়িতে ও আর এস ও জিঙ্কের বড়ি বিলি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা ।পাশাপাশি গ্রামের যে সকল কুয়ো ও নলকূপ গুলি আছে সেগুলোতে দূষন মুক্ত করার জন্য ব্লিচিং পাউডারের দ্রবন দিয়ে বিশুদ্ধ করা হচ্ছে । ডায়রিয়া কি বা কাকে ডায়রিয়া বলা হয়: স্বাভাবিক ভাবে শিশুর পাতলা পায়খানা হলেই তাকে ডায়রিয়া নামে অভিহিত করা হয়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডায়রিয়া বলতে একটু ভিন্ন অর্থ বোঝায়। যদি কারো দিনে ৩ বা তার অধিকবার জলের মত তরল পায়খানা হয় অথবা কেউ যদি তার স্বাভাবিক বারের বেশি জলের মত তরল পায়খানা করে তবে তাকেই ডায়রিয়া বলা হয়। ডায়রিয়ার প্রকারভেদ: সাধারণত ডায়রিয়া কে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় : ১. Acute watery diarrhoea - যে  ডায়রিয়া কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। ২. Acute bloody diarrhoea - এই ডায়রিয়াকে dysentery ও বলা হয়। ৩. Persistent diarrhoea - যে  ডায়রিয়া ১৪ দিন পর্যন্ত বা তার বেশি সময় ধরে থাকে। ডায়রিয়ার কারন: তিন ধরনের জীবানু দ্বারা ডায়রিয়া হয়ে থাকে: ১। ভাইরাস ২। ব্যাকটেরিয়া, এবং ৩। প্রোটোজোয়া এগুলো সাধারণত পচাঁ বাসি দূষিত খাদ্য, নোংরা জল, মলমূত্র, মাছি প্রভৃতির মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। ডায়রিয়া সম্পর্কে কিছু তথ্য: ৫ বছরের নিচের শিশুদের মৃত্যুর ২য় প্রধান কারন হচ্ছে ডায়রিয়া রোগ। ডায়রিয়া রোগে প্রতি বছর ১.৫ মিলিয়ন শিশু মারা যায়। প্রতি বছর বিশ্বে ২ বিলিয়ন শিশু ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়। ডায়রিয়া রোগে প্রধানত ২ বছরের নিচের শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। ৫ বছরের নিচের শিশুদের অপুষ্টির অন্যতম কারন ডায়রিয়া। শিশুদের ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে রোটা ভাইরাস। ৫ বছরের নিচের শিশুদের মধ্যে ৪০% শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় রোটা ভাইরাস দ্বারা। ভাইরাল ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে শিশুর আলাদা কোন চিকিৎসার তেমন প্রয়োজন হয় না। ৭-১০ দিনের মধ্যে আপনা আপনি রোটা ভাইরাস ডায়রিয়া ভালো হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আলাদা কোন চিকিৎসা দিয়েও দ্রুত শিশুকে ভালো করে তোলার উপায় নেই।  তবুও আমাদের দেশের লোকজন শিশুদের ডায়রিয়া হলেই অযথা এন্টিবায়োটিক খাইয়ে দ্রুত শিশুকে সুস্থ করতে চায়। এটা মোটেও করা উচিত নয়; উল্লেখ্য - এন্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগে কাজ করে। আমাদের শরীরের নিজস্ব একটা প্রতিরোধ সিস্টেম আছে যা শিশুকাল থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণুর সংস্পর্শে এসে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী করতে সহায়তা করে। অনর্থক এবং অযাচিত এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে শিশুর লাভতো কিছুই হয় না বরং ক্ষতির কারনও হতে পারে। ডায়রিয়া রোগে মৃত্যুর কারন: ডায়রিয়া রোগে জল শূন্যতা ও লবনের ঘাটতি দেখা দেয়।  অধিক পরিমানে ডায়রিয়ার কারনে জল শূন্যতা জীবনের জন্য হুমকি স্বরুপ হতে পারে ১. শিশু, ২. অপুষ্ট মানুষ, ৩. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম যাদের - এমন মানুষদের জন্য। এই জল শূন্যতা ও লবনের ঘাটতির কারনে রোগীর মৃত্যু পর্যস্ত হতে পারে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয়: প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। নিম্নলিখিত পরামর্শগুলো মেনে চললে সহজেই ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। ১। পরিচ্ছন্ন অবস্থায় খাদ্য গ্রহন করুন,খাদ্য গ্রহনের পূর্বে সাবান দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং পরিস্কার হাতে খাদ্যবস্তু ধরার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ২। খাবার ঢেঁকে রাখুন,খাদ্যবস্তু ও খাবার সরঞ্জাম সবসময় ঢেঁকে রাখতে হবে যাতে মাছি বা পোকামাকড় বসতে না পারে। ৩। পরিস্কার পাত্রে খাদ্য গ্রহন করুন, খাওয়ার পূর্বে থালা বাসন পরিস্কার জলে ধুয়ে ফেলুন। ৪। জীবানু মুক্ত বিশুদ্ধ জল পান করুন, খাবার জল ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন বা ফিটকিরি বা জল শোধনকারী ট্যাবলেট দিয়ে জল জীবানুমুক্ত করে নিন। ৫। বাসি ও পচাঁ খাবার খাবেন না, নষ্ট ও গন্ধ হয়ে যাওয়া, বাসি ও পচাঁ খাবার পরিহার করুন। ৬। স্যানিটারি পায়খানা ব্যবহার করুন, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করুন এবং মল ত্যাগের পর সাবান বা ছাই দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলুন। ৭। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, হাত ও পায়ের নখ সবসময় ছোট ও পরিষ্কার রাখুন। ৮। আপনার শিশুকে রোটা ভাইরাসের টিকা প্রদান করুন ৯। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতাই আপনার পরিবারকে ডায়রিয়া মুক্ত রাখতে সহায়তা করবে। ডায়রিয়া হলে করণীয়: ডায়রিয়া প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা। তারপরও ডায়রিয়া হয়ে গেলে অবহেলা না করে আপনার নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন অথবা কোন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করুন। অতিরিক্ত দ্রুত রোগমুক্তির চেষ্টা কিংবা অবহেলা কোনটিই করা অনুচিত।  রোটা ভাইরাস ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা এবং ব্যাকটেরিয়া বা প্রোটোজোয়া ডায়রিয়ার  ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহনই ডায়রিয়ায় খারাপ পরিস্থিতির হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।  

  • ডায়েট ও ব্যায়াম না করেই কি ওজন কমানো সম্ভব ? আসুন জেনে নিই

    newsbazar24: ডায়েট ও ব্যায়াম না করেই কি ওজন কমানো সম্ভব ? কিন্তু চাইলে অনেক কিছুই সম্ভব। আমরা অনেকেই অনেক কিছু করে থাকি ওজন কমানোর জন্য। কিন্তু ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে কঠোর ডায়েট করে, ব্যায়াম করে কত কষ্টটাই না করতে হয় আমাদের। কিন্তু আমরা চাইলেই তিনবেলা পরিমাণ মত খেয়ে ও ব্যায়াম না করে শুধু মাত্র ২টি জাদুকরী পানীয় দিয়েই ওজন কমাতে পারি। চলুন আজ জেনে নিই কীভাবে শুধু মাত্র পানীয় দিয়েই ওজন কমানো সম্ভব। গ্রিন টিঃ গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে প্রতিদিন ৪ কাপ গ্রিন টি পানের ফলে প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত ৪০০ ক্যালরি পর্যন্ত ক্ষয় করা সম্ভব। এবং গ্রিন টি-তে আছে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহের ওজন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন গ্রিন টি অবশ্যই পান করুন। প্রচুর পরিমানে জল পান করুনঃ আমাদের দেহে জলের উপকারিতা অনেক বেশি। প্রতিদিন ৭-৮ গ্লাস তরল খাবার (জল হলে সবচাইতে ভালো) শুধু আমাদের সুস্থই রাখেনা, সাথে আমাদের দেহের ত্বক ভালো রাখে এবং ওজনও রাখে নিয়ন্ত্রণে। জল আমাদের দেহের হজম ক্রিয়ায় সাহায্য করে এবং আপনি যখন কাজ করেন তখন ঘামের মাধ্যমে আপনার শরীর থেকে ঘামের পাশাপাশি চর্বিও খরচ হয়। তাই বেশি করে জল পান করুন। তাছাড়া প্রচুর পরিমানে জোল পান করলে তা আপনার বার বার ক্ষিদার সমস্যাও দূর করবে। অন্যদিকে বিপাক ক্রিয়ার উন্নতি হবে, ফলে শরীরে বাড়তি ফ্যাট জমবে না।

  • আবার কলকাতা সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনে।

    Newsbazar ডেস্ক, ২৯ মেঃ আবার কলকাতা  সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনে। এবার  গ্রিন করিডরের মাধ্যমে মাত্র ১৬ মিনিটে দমদম বিমানবন্দর থেকে বাইপাসের ধারে  একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছয় প্রতিস্থাপন যোগ্য মুম্বইয়ের এক কিশোরের হৃৎপিণ্ড। ঐ বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা  দমদমের ৪৩ বছরের অনুষা অধিকারীর শরীরে তা সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন । সূত্রে জানা যায় গত ২৬ মে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মুম্বইয়ের ওই ১৭ বছরের কিশোর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল অর্থাৎ ২৮ মে, হাসপাতালের তরফে ওই কিশোরের ব্রেন ডেড হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিবারের সম্মতিক্রমে ওই কিশোরের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের জন্য তার শরীর থেকে বের করেন ডাক্তাররা। ঠিক হয়, কলকাতার বেসরকারি  হাসপাতালে ফোর্টিসে  গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন  দমদমের বাসিন্দা ৪৩ বছরের অনুষা অধিকারীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হবে। সেই মতো মঙ্গলবার রাত ১০.১৫ নাগাদ মুম্বইয়ের ওই কিশোরের হৃৎপিণ্ড বিশেষ বিমানে পৌঁছয় কলকাতায়। দমদম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের তৎপরতায় ১০.২২-তেই সেটি ফোর্টিস হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায়। গ্রিন করিডরের মাধ্যমে মাত্র ১৬ মিনিটে হাসপাতালে হৃৎপিণ্ডটি পৌঁছে দেয় বিধাননগর ও কলকাতা পুলিশ। সেই সময় ট্রাফিক সামলাতে রাস্তায় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সব থানা এবং ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি-রা। হৃৎপিণ্ডটি ফোর্টিস হাসপাতালে পৌঁছয় রাত ১০.৩৮-এ। এরপর অনুষা অধিকারীর শরীরে শুরু হয় হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন সফল। এবং অনুষা দেবী ভাল আছেন।  

  • যোগাভ্যাসের উপকারিতার চারটি দিক জেনে নিন

    newsbazar24: যোগব্যায়াম যে ভীষণ উপকারী একটি অভ্যাস সেতো প্রায় সকলেই একমত। কিন্তু যাঁরা উদ্যোগপতি কিংবা উদ্যোগপতি হতে চান তাঁদের জন্য যোগাভ্যাসের কিছু মৌলিক তাৎপর্য আছে। স্টার্টআপ আর অ্যান্তেপ্রেনিওরদের অনেক পরিশ্রমী হতে হয়। নিত্য যোগব্যায়াম চর্চা তাঁদের মানসিক এবং শারীরিক বল বৃদ্ধি করে। তাঁদের আরও বেশি বেশি করে সৃজনশীল আর উৎপাদনশীল করে তোলে। প্রতিকূলতার সাথে লড়বার শক্তি দেয়। মনকে চাঙ্গা করে আর চাপমুক্তও রাখে। বৌধ্যিক, মানসিক এবং সর্বোপরি স্নায়বিক নানান দিক থেকে যোগার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন কয়েক মিনিটের যোগাভ্যাস আপনার দেহ আর মনকে একটি শক্তিঘরে রূপান্তরিত করে। ভেষজবিজ্ঞানীরা যোগাকে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার সারানোর আর মনোযোগ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসাবে প্রয়োগ করেন। গবেষণা অনুযায়ী যোগা মগজে রক্ত সঞ্চালন আর অক্সিজেনের প্রবাহকে দ্রুত করে। যোগা আপনাকে শারীরিক আর মানসিক দু ধরণের অবসাদ থেকে মুক্তি দেয়। একটি দীর্ঘ এবং গভীর যোগা সেশানের পর জীবনের প্রতি আপনি নতুন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারবেন। বেশিরভাগ অ্যান্তেপ্রেনিওরই স্বাস্থ্য সচেতন। কিন্তু মানসিক শুদ্ধিকরণ করাটাও দরকার। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এটাই সত্যি যে, ব্যস্ত স্টার্টআপের জীবনে প্রতিকূলতা অগণিত হারে বেড়েই চলে। যে প্রবল মনোবল আর শারীরিক তৎপরতা এই জীবন দাবী করে তার বেশির ভাগটাই দিতে পারে একমাত্র নিত্য যোগাভ্যাস। প্রচলিত বিশ্বাসের বিপরীতে এটা বলা হয় যে শ্রম করা অনেক সময় স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। আদিম মানুষের বেঁচে থাকার রসদই ছিল কায়িক শ্রম। প্রাগৈতিহাসিক কালে এই শ্রমই আদিমানুষকে ঘাতক শত্রু, ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দূরে রাখত। আমাদের পূর্বপুরুষদের ধন্যবাদ, আজ তাঁদের কারণে আমাদের জিনে পরিশ্রমী সত্তা এখনও রয়েছে। প্রত্যেক অ্যান্তেপ্রেনিওরের কিছু ভ্রান্ত ধারণা থাকে। তবে নিজের ব্যবসা দাঁড় করাতে যখন আপনি শুরু থেকে অবিরাম লড়াই করছেন, জেনে রাখবেন শরীর হল প্রথম বিষয় যা ধাক্কা খাবে। হাড়ভাঙ্গা খাটুনি আর বহু বাধাবিপত্তি টপকে যাবার পরীক্ষার জবাব দিতে হবে আপনার শরীরকেই। জীবনে প্রথমবার যোগাভ্যাস করা একজন মানুষও প্রথম সেশানের পর বেশ শান্তি আর আরাম অনুভব করেন। যাঁরা নিয়মিত এই চর্চার ভিতর আছেন তাঁরা অবশ্যই মানসিক চাপকে তাঁদের সিস্টেম থেকে কমাতে পেরেছেন। যোগা কিছু টেকনিক আর ধ্যানের মাধ্যমে মানুষের মনের চঞ্চলতাকে কমিয়ে দেয়। শুনতে সোজা লাগলেও, কিছু না ভেবে থাকতে পারা খুবই কঠিন। যোগা মনকে শান্ত করে। নীরব করে। মন বিশ্রাম পায়। বিশ্বাসের উর্দ্ধে গিয়ে মন এবং শরীরের ঐকতান ঘটে। যোগব্যায়াম চর্চার সময় শরীরের সাথে স্নায়বিক যোগসূত্রগুলো সঠিকভাবে সাম্যাবস্থায় থাকে। শরীরে পবিত্র এনার্জির অবিরত ধারা বয়। মন, দেহ এবং মাথা আরাম পায়। যোগা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। পড়াশোনা করার ইচ্ছে বাড়ে। দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়। বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়ে। যোগা মানুষের ভাববিনিময় প্রথা আর মানসিক গভীরতাকেও উন্নত করে। আজকের যুগে মানুষ উৎপাদনশীলতার পূজারী। বড় বড় আইডিয়া তাঁদের মাথায় ঘুরপাক খায়। মনে রাখতে হবে সেখানে আমাদের ভিতরের মানুষটাকেই তৎপর হতে হবে সর্বাধিক। যোগা আপনার আত্মার সাথে আপনাকে জুরে দেয়। এই স্কিলটাকেই আয়ত্তে রাখতে হাঁকিয়ে মরেন অ্যান্তেপ্রেনিওররা। যোগা উত্তেজনা আর অবসাদ কমায়। নিজের প্রতি সন্দেহকে মেরে ফেলে। আত্মিক এবং শারীরিক চেতনা বৃদ্ধি করে। ফলে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। ভিতরের সৃষ্টিশীল মানুষটি বাইরে বেড়িয়ে এসে সহজেই ছুঁতে পারে সীমানা। প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যেই একজন অনন্য স্রষ্টা আছেন। যোগা তাঁকেই চিনিয়ে দেয়। সামাজিক কর্মদক্ষতা, নিজের ওপর ভরসা, মনোযোগ সব লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। ব্যক্তি তিরিক্ষি মেজাজকে না বলতে শেখেন। টেনশান আমাদের ভিতর থেকে খোকলা করে দেয়। একজন হাসিখুশি মানুষের বদলে পড়ে থাকে একটি ফাঁপা খোলস। আমাদের কাজ করার প্রবৃত্তি কবর চাপা পড়ে। প্রেরণা হারিয়ে যায়। যোগা এইপ্রকার পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেয়।

  • এই গরমে আম খাওয়া কি স্বাস্থ্যের পক্ষে নিরাপদ?

    newsbazar24: এই গরমে আম খাওয়া কি স্বাস্থ্যের পক্ষে নিরাপদ?প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলা গরমের জ্বালা বাঙালি অয়ায়াসে ভুলতে পারে যদি পাতে থাকে ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর বা আম্রপালি আমের মোলায়ম টুকরোগুলো।এখন আমের ভরা মরসুম। কাঁচা হোক বা পাকা, প্রায় প্রতিদিনের বাজারের সঙ্গেই আম আসছে বাড়িতে কিন্তু জানেন কি কতটা আম খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত আম খেলেও শরীর স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক ১) আম রক্তে চিনির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই যাঁরা ডায়াবিটিসে আক্রান্ত, তাঁদের পক্ষে আম খাওয়া মোটেই নিরাপদ নয়। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই আম খান মেপে মেপে। প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। ২)যাঁরা আর্থারাইটিস বা বাতের সমস্যা ভোগেন তাঁদের আম এড়িয়ে চলাই ভাল। আম খেলে আর্থারাইটিস বা বাতের ব্যথা বাড়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। ৩)অতিরিক্ত পরিমাণে আম খেলে বাড়তে পারে হজমের সমস্যা। অতিরিক্ত আম খাওয়ার ফলে গ্যাসটাইট্রিসের সমস্যাও মাথা চাড়া দিতে পারে। ৪) আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আর ক্যালোরি। যাঁরা স্থুলতা বা ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের আম এড়িয়ে চলাই ভাল। ৫) খেয়াল রাখবেন, আমের গায়ে লেগে থাকা আঠা যেন কোনও ভাবে মুখে না লাগে! আমের এই আঁঠা মুখের কোমল ত্বকে লাগলে জ্বালা, চুলকানির মতো নানা সমস্যা হতে পারে। ৬) যাঁদের ত্বকে অ্যালার্জির প্রবণতা আছে, তাঁদের আম এড়িয়ে চলাই ভাল। কারণ, আম খেলে ত্বকে জ্বালা, চুলকানি, র‌্যাশ বেরনোর মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ৫ টি কারন জেনে নিন

    newsbazar24: রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ৫ টি কারন জেনে নিন,রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে কী কী ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়, সে সম্পর্কে আমরা কমবেশি সকলেই অবগত। বিশেষ করে যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, মাঝে মধ্যেই রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গিয়ে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়। হাজারও বিধি-নিষেধ মেনে চলার পরও হঠাৎ করেই রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। জানেন কেন এমনটা হয়? আসুন এর কারণগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক... ১) নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খাওয়া হলে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের আলু, ভাত খেতে বারণ করা হয়। ২)এমন বেশ কিছু খাবার-দাবার রয়েছে যেগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। হোয়াইট ব্রেড, কাজু, কলা ইত্যাদি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের এই খাবারগুলি এড়িয়ে চলাই ভাল। ৩)যাঁরা নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ খান বা ইনসুলিন নেন, তাঁরা কোনও দিন বা কোনও বেলা ওষুধ খেতে, ইনসুলিন নিতে ভুলে গেলে ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ৪) দীর্ঘদিন ধরে কোনও রকম শরীরচর্চা না করলে বা কোনও রকম অসুস্থতার কারণে শারীরিক ভাবে সচল না থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ৫) মাত্রাতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণেও হঠাৎ করেই ব্লাড সুগার বেড়ে যেতে পারে।

  • জানেন কি ডেঙ্গি থেকে ক্যান্সার সারাতে পেঁপে পাতার কয়েকটি আশ্চর্য গুণ ?

    newsbazar24: জানেন কি ডেঙ্গি থেকে ক্যান্সার সারাতে পেঁপে পাতার কয়েকটি আশ্চর্য গুণ ? শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অসুখের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে পেঁপের জুড়ি মেলা ভার! পেঁপের একাধিক স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে আমরা প্রায় সকলেই কম-বেশি জানি। কিন্তু পেঁপে পাতাও মোটেই ফেলনা নয়! জন্ডিস থেকে ডেঙ্গি এমনকি ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ক্ষেত্রেও পেঁপে পাতা অত্যন্ত উপকারী! আসুন জেনে নেওয়া যাক ১) পেঁপে পাতার রস রক্তে প্লেটেলেটের সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে। ডেঙ্গি হলে রক্তে প্লেটেলেটের সংখ্যা দ্রুত হারে কমতে থাকে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় পেঁপে পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী। ২) ব্রণর সমস্যা কিছুতেই কমছে না? শুকনো পেঁপে পাতা জলের সঙ্গে বেটে ত্বকের ব্রণ আক্রান্ত অংশের উপরে মাখিয়ে দিন। শুকিয়ে গেলে ভাল করে ধুয়ে নিন। এই ভাবে পর পর ৪-৫ দিন শুকনো পেঁপে পাতা বেটে ত্বকের ব্রণ আক্রান্ত অংশে লাগালে ফল পাবেন হাতে নাতে। ৩) পেঁপে পাতা করোনারি হার্ট ডিজিজ-সহ হৃদযন্ত্রের নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। পেঁপে পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি (নিয়াসিন), সি আর পটাশিয়াম যা আমাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ৪) ‘এইচ পাইলোরি’ নামের এক প্রকার ব্যাকটিরিয়া যা মূলত পাকস্থলিতে ঘা বা ক্ষত সৃষ্টি (আলসার) করে, পেঁপে পাতায় থাকা ‘কারপেইন’ তা ধ্বংশ করতে সাহায্য করে। ৫)ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের দাবি, পেঁপে পাতায় রয়েছে ‘অ্যাচেটোজেনিন’ নামের এক প্রকার উপাদান যা ক্যান্সার কোষকে নষ্ট করে ফেলতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, কোমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতেও পেঁপে পাতার রস অত্যন্ত কার্যকরী। ৬) পেঁপে পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ প্যাপেইন, প্রোটিজ এনজাইম এবং অ্যামাইলেইজ এনজাইম যা গম জাতীয় খাবারে থাকা গ্লুটেন ভেঙ্গে তা দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে। পেঁপে পাতার রস কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে। 

  • তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে কমলালেবুর গুণাবলী

    newsbazar24: দ্রুত ওজন কমাতে চান? কমলালেবু খান, আজকাল প্রায় সারা বছরই বাজারে কমলালেবু পাওয়া যায়। কমলালেবু হল ভিটামিন সি-সহ একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের উত্স। একাধিক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, কমলালেবুর রস স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম। এ ছাড়াও নিয়মিত কমলালেবুর রস খেতে পারলে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে সহজেই দূরে থাকা যায় ১) কমলালেবুর রস আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা সর্দি-কাশি, জ্বর-সহ একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে আমাদের রক্ষা করে। ২) কমলার রসে ক্যালোরি আর ফ্যাট প্রায় নেই বললেই চলে। ওজন কমাতে চাইলে কমলালেবুর রস অত্যন্ত কার্যকর একটি বিকল্প হতে পারে। ৩) কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি যা ফ্রি র‍্যাডিকেলের প্রভাবে ত্বকের শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা ত্বককে বলিরেখা পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে থাকা ভিটামিন সি ত্বককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, দীপ্তিময় করে তুলতে সাহায্য করে। ৪) কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি উপাদান। এ ছাড়াও কমলালেবুতে রয়েছে হেস্পিরিডিন (hesperidin) এবং নারিঞ্জেনিনের (naringenin) মতো ফ্ল্যাভনয়েডস (জৈব সংশ্লেষণ) যা আর্থ্রাইটিসের মতো ব্যথা উপশমে অত্যন্ত কার্যকর। ৫)কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সাইট্রেট। এই সাইট্রেটের ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনি পাথর জমা ঠেকাতে সাহায্য করে। কিডনিতে জমা পথরের জন্য যে ব্যথা হয়, তা থেকেও মুক্তি দিতে কমলালেবুর রস অত্যন্ত কার্যকরী।

  • জেনে নিন পিত্তথলি ভাল রাখতে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি

    newsbazar24: খাদ্যাভাসের কারণে আজকাল অনেকেরকেই পিত্তথলিতে পাথর জমা প্রায় সাধারণ রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিত্তথলির সমস্যা হলে বুক জ্বালা করে, বমি হয়। খাবার খেতে না পারা, খাবার হজম না হওয়াও পিত্তথলির দুবর্লতার লক্ষণ। পিত্তথলি ভাল রাখতে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। যেমন- ১. খাওয়া-দাওয়ার উপর পিত্তথলির কর্মক্ষমতা অনেকাংশে নির্ভর করে। যত বেশি ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া হবে পিত্তথলির উপর ততই চাপ সৃষ্টি হবে। এ কারণে ফ্যাট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। এই ধরনের খাবার রক্তে কোলেস্টেরলের    পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় যা পিত্তথলির জন্য খুবই ক্ষতিকারক। পিত্তথলি ভাল রাখতে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বাদাম, বিনস, টকজাতীয় ফল, মাছ, অলিভ তেল রাখুন। ২. নিয়মিত ব্যায়াম পিত্তথলির যেকোনো রকমের সমস্যা থেকে আপনাকে দূরে রাখবে। আসলে অতিরিক্ত ফ্যাট জমলেই তা পিত্তথলির ক্ষতি করে। বিশেষজ্ঞের মতে, দিনে অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমবে।    সেই সঙ্গে পিত্তথলির পাথর হওয়ার ঝুঁকিও কমবে। ৩. পেটের উপরের ডানদিকের অংশে ব্যথা অনুভব করলে কাঁচা হলুদ খেতে পারেন। কাঁচা হলুদে থাকা কারকুমিন উপাদান জ্বালা ও ব্যথা দুটিই কমাতে কার্যকরী। চায়ে দিয়ে এই হলুদ খেতে পারেন। ৪. আপেল সিডার ভিনেগার ব্যথা কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। হালকা গরম পানিতে দুই চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে অল্প অল্প করে খেতে থাকুন। এতে পিত্তথলির ব্যথা ও জ্বালা দুই -ই কমে যাবে। ৫. পুদিনা পাতার চা ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। পেটের ব্যথা , মাথার ব্যথা দূর করতে এটি দারুণ কাযর্করী। পিত্তথলিতে ব্যথা হলে নিয়মিত পুদিনা পাতার চা খেতে পারেন। এর ঠাণ্ডা প্রভাব ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।