You are here: Homeরাজ্যপশ্চিম বঙ্গকৃষ্ণেন্দুর চোখের কোণায় জল

কৃষ্ণেন্দুর চোখের কোণায় জল Featured

Written by  Published in West Bengal Monday, 11 April 2016 17:42

                            অবহেলিতদের পাশে দাঁড়ানো-ই আমার মানবিক কর্তব্য : কৃষ্ণেন্দু

সুুমিত ঘোষ-:এ এক অজানা কাহিনী।হয়তো আমাদের আর মনে নেই মর্মান্তিক এই ঘটনার কথা।মনে নেই পাশবিক এই ঘটনার শিকার এক তরুণীর কথা ও।আমরা এই কথা ভুলে গেলেও এই ঘটনার কথা ভুলতে পাড়েননি ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ইংরেজবাজারের প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী।সেই নারকীয় ঘটনার কথা বলতে গিয়ে চোখের কোণায় জল চলে এলো কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর।শুধু একটি কথায় বললেন,অবহেলিতদের পাশে দাঁড়ানো-ই আমার মানবিক কর্তব্য।কিছুটা স্বস্তি,কিছুটা সুুখকর পরিস্থিতি।তার দেওয়া নাম মালালা,এখন ভালো আছে।

দনটি ছিল ২১ শে ডিসেম্বর ২০১৩।বারটি ছিল শনিবার।রাত্র তখন ৯টা।শীতটা বেশ জাঁকিয়ে পড়েছিল।আর সেই কালো নিকশ অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছিল মালালা।জীনযুদ্ধে লড়াই করে সেখান থেকে আজ মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পেড়েছে মালালা।বলাবাহুল্য তার কৃতিত্ব কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর।বাগবাড়ির বিদ্রোহী পল্লীর এই করুণকাহিনীর কথা আজ আমরা সকলেই ভুলে গেছে।কিন্ত মালালা এখনও সেই রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি।একান্ত আপনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মালালা ত্রদিন ভাগ করে নিলেন দুঃখের সেই কথা।মালালা আমাদের জানাল সে এখন ক্লাস নাইনে পড়ে।আর্থিক সমস্যা রয়েছে।কিন্ত গ্রামের মানুষ তার পাশে রয়েছে,আর রয়েছে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী।তাই বর্তমানে কোন বাধায় তার কাছে বাধা হয়ে উঠে না।কারণ জীবনের সব থেকে বড় বাধা সে পাড় করে এসেছে।সকালে ঘুম থেকে উঠেই বই হাতে নিয়ে,শিক্ষকের কাছে পড়তে যায় সে।বাংলা তার প্রিয় বিষয়।পাশে রয়েছে কচিকাচারা।তারা সবাই গুনগুনিয়ে পড়ার বোল তুলে।কেউ ছড়া কাটে,কেউ ছবি আঁকে।তার মধ্যে খানে শিক্ষক,এক লম্বা লাঠি নিয়ে বসে থাকেন।অবশ্য এই লাঠিটা শাসন করার জন্য।মামালা জানাল সে স্থানীয় বাগবাড়ি হাইস্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়ে।২০১৩ এর ২১ শে ডিসেম্বরের কথা মনে পড়লে তা গা কাটা দিয়ে উঠে।কি হয়েছিল সেই দিন রাত্রে।মালালা নিজের মুখেই কান্নাতে কান্নাতে বলল সেই দিনের মর্মান্তিক ঘটনার কথা।তখন সে ষষ্ট শ্রেণীতে পড়ত।প্রতিবেশি এক যুবক সাইকেল ত্রবং শীতের গরম পোশাক দিবে বলে বাড়ি থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দুরে ধানতলার নির্জন এক এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।ধর্ষণের পর মালালার গলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়া হয়।শীতের অন্ধকার রাত্রে রক্তাত্ত অবস্থায় চার কিলোমিটার পথ হেটে একা মালালা বাড়ি পৌঁছাতেই অচৈতন্য হয়ে পড়ে।এরপর তা কিছু মনে নেই।তাহলে এরপরের ঘটনা টুকু আমরা বলি আপনাদের।স্থানীয়দের মারফৎ খবর পেয়ে রাত্রেই,নিরাপত্তার কোন তুয়াকা না করে নিজে গাড়ি চালিয়ে মালালার বাড়ি পৌঁছান বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী।তড়িঘড়ি তাকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।কৃষ্ণেন্দু নিজে উদ্যোগ নিয়ে ওই তরুণীর সমস্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।রাত্রেই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে।কিন্ত মালালাকে বাঁচানো গেলেও মালালা হারিয়ে ফেলে তার কন্ঠস্বর।কিন্ত এখানেই থেমে থাকেননি কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী।কলকাতায় নিয়ে গিয়ে মালালার চিকিৎসা করান তিনি।কিনে দেন নতুন সাইকেল,কিনে দেন শীতের গরম পোশাক-ও।মালালা এখন কথা বলতে পারে।তাই মালালা বলে উঠল তার এই কৃতিত্ব কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী এবং গ্রামবাসিদের ভালোবাসা।তাইতো মালালা এখন নবম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।কিন্ত একই সঙ্গে সে বলল দোষীর যাতে ফাঁসি হয়।
মালালার পরিবার দিন আনে দিন খায়।মালালার বাবা নেই।মা-ই একমাত্র ভরশা।পেশা জনমজুরী।তবে যে ঝড় বয়ে গেছে তার ওপর দিয়ে,সেই ঝড় আজ ও তাকে সামাল দিতে হচ্ছে। পাশে রয়েছে গ্রামের মানুষ।কিছুটা সাহসের ওপর ভর করে,এই পরিবারটি ঘুরে দাঁড়াতে চাইচ্ছে।সুুস্থভাবে বেচে থাকার আবেদন ও সমাজের কাছে।
গ্রামবাসিদের-ও বক্তব্য দুর্ঘটনার পর কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী না থাকলে মালালা নতুন জীবন ফিরে আসত না।মালালার মতো তারাও চাই দোষীর শাস্তি হোক। তবে কৃতজ্ঞতা বোধটুকু জানাতে চায় কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীকে।
মালালার মা জুলি দেবি ধন্যবাদ জানিয়েছে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীকে।কারণ তার মেয়ে আজ পাড়ার অন্যান্য মেয়েদের মতো মাথা উচু করে বাচছে।কথা বলতে পারছে।পড়াশোনা করছে।কৃষ্ণেন্দু বাবু কথা দিয়ে, কথা রেখেছেন।আর কিছু চাওয়া বা পাওয়ার নেই তাদের।
আমরা হয়তো মালালার এই কথা সকলেই ভুলে গেছে,কিন্ত ভুলে যাননি কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী।বাগবাড়ির ঘটনার কথা বলতে বলতে চোখের কোনায় জল চলে এলো কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর।বললেন অবহেলিতদের পাশে দাঁড়ানো-ই মানবিক কর্তব্য তার।কিছুটা স্বস্তি,কিছুটা সুুখকর পরিস্থিতি।তার দেওয়া নাম মালালা এখন ভালো আছে।
কিন্ত,এই দুরারোগ্য ব্যাধীকে দুর করতে হলে দরকার গণচেতনা।মালালার মতো আর যেন অন্য কোন মেয়ের জীবনে কালো এই ভয়ানক দিন নেমে না আসে।এই টুকুই অনুরোধ গ্রামবাসিদের।

 

Read 1694 times Last modified on Monday, 11 April 2016 18:29

Login to post comments

ফটো গ্যালারী

Market Data

সম্পাদকের কথা

শপথ নিলেন মুফতি মহম্মদ : বিজেপির হাত ধরে ভূস্বর্গে ফুটল পদ্ম

শপথ নিলেন মুফতি...

ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে PDP-র সঙ্গে জোট সর...

'অদ্ভুত শর্ত' রাখল বরপক্ষ :একটাই দাবি, আগে চুক্তি। পরে বিয়ে।

'অদ্ভুত শর্ত' র...

ডেস্ক: পাত্রী নাবালিকা। বিয়ে করতে গিয়ে ত...

স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করল পুরুলিয়া জেলার ক্রেতা সুরক্ষা আদালত

স্বাস্থ্য দফতরে...

ডেস্ক: স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে ৪ লক্ষ ...

উদাসী হাওয়ায় গা ভাসিয়ে বলতেই পারেন, ""হোলি হ্যায়''!!!

উদাসী হাওয়ায় গা...

শান্তিনিকেতনে বসন্ত উত্সবের সূচনা হয় প্র...

আপগ্রেড করুন

Contact Us

<iframe width="640" height="360" src="https://www.youtube.com/embed/jFfRBUxTuxQ" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

About Us

Live Aap is one of the renowned media group in print and web media. It has earned appreciation from various eminent media personalities and readers. liveaapnews of the best multi language news websites in India that provides full coverage of latest news and breaking news in India & all over the World.