কলকাতা

  • মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় রাজি জুনিয়র চিকিৎসকরা, তবে একটি শর্তে

    ১৬ই জুনঃ জুনিয়র ডাক্তারদের  কর্মবিরতি এক সপ্তাহ  চলার পর, তাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় রাজি বলে জানালেন  জুনিয়র চিকিৎসকরা। শনিবার রাতের পর রবিবার সকালে এনআরএস-এর অডিটোরিয়ামে জুনিয়র ডাক্তারদের  জিবি বৈঠক বসে। রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা। তারপরেই তাঁরা জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এই অচলাবস্থার অবসান চাই, তবে স্বচ্ছতার জন্য এই বৈঠক রুদ্ধদ্বার হবে না, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বৈঠক হবে”।  তারা আরও জানান মুখ্যমন্ত্রীর বলে দেওয়া স্থানেই বৈঠক করতে তারা রাজি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের  মেডিক্যাল কলেজের পর্যাপ্ত সংখ্যায় প্রতিনিধিরা হাজির থাকবেন। সেই বৈঠকে মিডিয়াও হাজির থাকবে। শনিবার জুনিয়র চিকিৎসকরা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যেটা ইগোর লড়াই, তাঁদের কাছে সেটাই বাঁচার লড়াই। শনিবারের মতো রবিবারেও জুনিয়র চিকিৎসকরা মুখ্যমন্ত্রীর  সাংবাদিক সম্মেলনে  নিয়ে অভিযোগ করে বলেন ‘আমাদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মানুষের মনে ভুল ধারনা তৈরি করেছেন। শনিবারে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি ছিল বিভ্রান্তিমূলক। এ ব্যাপারে সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর দেওয়া হয় নি।    

  • মুখ্যমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্ত করে আমাদের বিরুদ্বে ব্যবহার করতে চাইছেন অভিযোগ জুনিয়র চিকিৎসকদের

    ডেস্ক, ১৫ জুনঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনগণকে বিভ্রান্ত করে আমাদের বিরুদ্বে লড়াইয়ে  নামিয়ে দিতে  চাইছেন , এমনই অভিযোগ করলেন আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা। শনিবার ৫ ম দিনে জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি। এনআরএস-এর জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের সবকটি সরকারি হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা। রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসকদের আন্দোলনের রেশ পৌঁছে গিয়েছে সারা দেশে। আজ নবান্ন থেকে  সাংবাদিক সন্মেলন করে জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে  মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, চিকিৎসকদের সব দাবি মানা হয়েছে। তিনি ৫ ঘন্টা অপেক্ষা করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।  তিনি আরও  দাবি করেন, এনআরএস-এর হামলার ঘটনায় ৫ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে এমন ধারা দেওয়া হয়েছে, যাতে আদালতে গিয়েও তারা জামিন পায়নি। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিছুক্ষণের জন্য উঠে যান। পরে এসে বলেন কোনও কোনও জুনিয়র চিকিৎসক কাজে যোগ দিতে চান। পরে জানা যায় জুনিয়র চিকিৎসকরা যাতে কাজে যোগ দেন, তার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে আইএমএ-র প্রেসিডেন্ট তথা তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন।  মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনেরই পরেই জুনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তারা অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী' জনগণ কে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন  তাঁদের মধ্যে থেকে কেউ কাজে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি বলেই দাবি করা হয়। পাশাপাশি তাঁরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সমস্যার সমাধানে না গিয়ে আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরী করতে  চাইছেন।    

  • মুখ্যমন্ত্রীকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পরামর্শ রাজ্যপালের।

    ডেস্ক, ১৫ জুনঃ চিকিৎসকদের ধর্মঘট নিয়ে   রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী. রাজ্যের স্বাস্থ পরিষেবা তলানিতে এসে ঠেকেছে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিফল হতে হচ্ছে বহু রোগীকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে । রোগীকেই। মৃত রোগীর পরিবারের হাতে আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদে চিকিৎসকদের ধর্মঘট করা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঝড় উঠেছে। উপযুক্ত নিরাপত্তা না পেলে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়, বলে জানিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। চিঠিতে রাজ্যপাল, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পরামর্শ দিলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে, স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার পাশাপাশি রাজ্যে জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্মঘটের  ফলে তৈরি হওয়া সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।চিকিৎসদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে তাঁদের ভরসা জোগানোর পাশাপাশি তাঁদের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও কথা বলেছেন রাজ্যপাল।   শুক্রবার রাজ্যপাল বলেন, জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্মঘট  নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন, তবে তিনি কোনও উত্তর পান নি। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন রাজ্যের সরকারী হাসপাতালগুলিতে তৈরি হওয়া সমস্যা মেটাতে তাঁর সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানিয়েছেন বলে  শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, চিকিৎসকদের সমস্ত নায্য দাবিগুলি মেনে নেবেন তিনি, এবং কাজ শুরু করার জন্য চিকিৎসকদের আর্জি জানালেন। শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আমরা কোনও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি না”। এদিকে, সূত্রের খবর, রাজ্যের থেকে রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। চিকিৎসকদের নিগ্রহ করলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। সোমবার, এক রোগীর মৃত্যু হলে দুই চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে মৃতের পরিবারের বিরুদ্ধে, তারই প্রতিবাদে শুরু হয় কর্মবিরতি,যা ছড়িয়ে পড়ে অন্য রাজ্যেও।  

  • রাজ্যজুড়ে পালিত হলো বিশ্ব রক্ত দাতা দিবস

    --কলকাতা,রাজকুমার দাস:--- ১৪ জুনের দিনটা সকলকে মনে করিয়ে দিতে ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন (হু)বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে(২০০৪সাল থেকে) বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালন করে আসছে।মানুষের মনে রক্ত দান করার প্রবণতা যেন আরও বিস্তার লাভ করতে পারে সেই উদ্যোগে।পাশাপাশি ১৪ই জুন কার্ল ল্যান্ডসেইনার এর জন্মদিন পালন কে সামনে রেখে এই দিনটাকে ওয়ার্ল্ড ব্লাড ডোনার ডে হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।মুমূর্ষ রোগী হোক কিংবা এক্সিডেনটাল কোনো রোগী সবার জন্য যেন রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচিয়ে তোলা যায় সেই প্রচেষ্টা এবং এই দিনটি পালনের মধ্যে মানুষের মনে জাগ্রত করা রক্তদানের মতো মহৎ কাজে সামিল হওয়ার জন্য আজকের এই দিন বেশ গুরুত্ব পূর্ণ। রক্তদান করলে কোনো অসুবিধা হয় না।তারই এক জাগ্রত রূপকে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আজকের দিনে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।আজ বাংলা তথা ভারতের নানা স্থানে চলছে রক্তদান করার হিড়িক।এই মহৎ দান মানুষের উপকারে লাগবে তা বলাই বাহুল্য।ধর্ম জাত পাতের উর্ধে আমাদের একে অপরের সাথে হাত ধরে এগিয়ে চলার শপথ ও নিতে হবে;যেন আগামীতে সকলের কাছে এই বার্তা দ্রুত পৌঁছাতে পারে।

  • মমতার নবান্নে বৈঠকের ডাকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান জুনিয়র ডাক্তারদের, কাল ফের বৈঠকের আহ্বান

    ডেস্ক,১৪ ই জুন:  অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ রাতে  পশ্চিমবঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্মঘটের বিষয়ে আলোচনা করতে নবান্নে ডেকে পাঠিয়েছিলেন আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের। কিন্তু বৈঠকের আহ্বানে সাড়া দিলেন না চিকিৎসকরা। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, সে জন্য তাঁর শর্তহীন ক্ষমাপ্রার্থনার দাবিতে অনড় চিকিৎসকরা এবং ধর্মঘট  প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে ছয়টি শর্তও দিয়েছেন  তাঁরা। জুনিয়ার ডাক্তারদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে  রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৩০০ জনেরও বেশি সিনিয়র চিকিৎসক আজ পদত্যাগ করেছেন এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গেই জুড়েছেন। সন্ধ্যাবেলায় সিনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরে শনিবার আলোচনার জন্য আন্দোলনকারীদের আমন্ত্রণ জানান কিন্তু তারা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। আন্দোলনরত চিকিৎসকরা শুক্রবার সাক্ষাতের জন্য না আসায় ফের শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় রাজ্যের সচিবালয়ে নবান্নে তাঁদের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, জানিয়েছেন সিনিয়র চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায়। সুকুমার মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে আজ নবান্নেই সমাধান খুঁজে বের করতে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  এরপরই মুখ্যমন্ত্রী তিন থেকে চার জন জুনিয়র চিকিৎসককে সচিবালয়ে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মেডিকেল শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্রকে নির্দেশ দেন। তবে বৈঠকে যেতে অস্বীকার করেন চিকিৎসকরা। "জুনিয়র চিকিৎসকদের যৌথ ফোরামের একজন মুখপাত্র বলেন, “এটি আসলে আমাদের ঐক্য, আমাদের আন্দোলন ভেঙ্গে ফেলার একটি চক্রান্ত। আমরা রাজ্য সচিবালয়ে কোনও রকমের কোনও বৈঠকে উপস্থিত হব না। মুখ্যমন্ত্রীর এখানে (এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল) আসা উচিত এবং গতকাল এসএসকেএম হাসপাতালের তাঁর সফরকালে তিনি আমাদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছেন, সেজন্য তাঁকে শর্তহীন ক্ষমা চাইতেই হবে।” বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতাল পরিদর্শনের সময়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দিয়েছিলেন যে কিছু ‘বহিরাগত' মানুষ বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য মেডিকেল কলেজে প্রবেশ করেছে এবং এই আন্দোলন বস্তুত সিপিআই (এম) ও বিজেপির একটি মিলিত ষড়যন্ত্র।  ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, শুক্রবার রাতে জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য রাজ্য সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রী অপেক্ষা করছিলেন এবং যখন চিকিৎসকরা জানালেন তাঁরা আসবেন না তখন ফের শনিবার সন্ধ্যায় নতুন করে বৈঠকের জন্য তাঁদের অন্য সময় দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি কিছু জুনিয়র ডাক্তাররা নিশ্চয়ই আসবেন। আমরা এই সমস্যার  সমাধান খুঁজে বের করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”  

  • এনআরএসের ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে জোর ধাক্কা খেল রাজ্য

    ডেস্ক,১৪ ই জুন: এনআরএসের ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে জোর ধাক্কা খেল। প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণণ ও বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ ডাক্তারদের আন্দোলনকে  বেআইনি ঘোষণা করতে অস্বীকার করল।  উল্টে রাজ্য সরকারকে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের বোঝানোর পরামর্শ দিল তারা। আজ, জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন বেআইনি ঘোষণার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে  মামলা দায়ের করেছিলেন চিকিৎসক কুণাল সরকার। তার প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণণ ও বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের  কাছে জবাব চাইল এনআরএসে ডাক্তারদের উপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করেছে, এবং  কেন ডাক্তারদের আন্দোলন এত বড় আকার নিল?  ২১ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। সেদিন রাজ্যের কাছ থেকে এ ব্যাপারে উত্তর চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে আন্দোলনরত ডাক্তারদের কাজে ফেরানোর জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণণ ও বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। সব হাসপাতালে রোগীরা যাতে যথাযথ পরিষেবা পান, তাও রাজ্যকেই সুনিশ্চিত করতে বলেছে আদালত।  

  • জুনিয়র ডাক্তার নিগ্রহের ঘটনায় সরকারের ভুমিকায় ক্ষোভ উগরে দিলেন মেয়র কন্যা ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো

     ডেস্ক, ১৩ই জুনঃ  কলকাতা: জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্মঘটের ব্যাপারে তৃনমূল সরকারের অন্তদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল  সরকারের নিস্কৃয়তা ও প্রতিক্রিয়াকে প্রবল ভাবে সমালোচনা করলেন  মুখ্যমন্ত্রীর সবচেয়ে কাছের লোক কলকাতার  মেয়র  ফিরহাদ  হাকিমের  কন্যা, শাব্বা হাকিম যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক। শাব্বা হাকিম একটি ফেসবুক পোস্টে জানান, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ' ও ‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা' চাওয়া চিকিৎসকদের অধিকার। তিনি লেখেন, ‘‘একজন তৃণমূল‌ কংগ্রেস সমর্থক হিসেবে আমাদের নেত্রীর নিষ্কৃয়তা ও নীরবতার জন্য আমি অত্যন্ত লজ্জিত।'' চিকিৎসক ও সরকারের দ্বন্দ্ব রাজ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। রাজ্য সরকার পরিচালিত এক হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসকের উপরে হওয়া হামলার প্রতিবাদে প্রায় তিন দিন ধরে চিকিৎসকরা প্রতিবাদ করছেন। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসকদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দুপুর দু'টোর মধ্যে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশকে চিকিৎসকরা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁদের দাবি, সবার আগে নিরাপত্তা দরকার। এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। রোগীদের কেন পরিস্থিতির শিকার হতে হবে, শাব্বা হাকিমের পোস্টে সে ব্যাপারেও মন্তব্য করা হয়েছে। তিনি লেখেন, ‘‘দয়া করে সরকারকে জিজ্ঞেস করুন সরকারি হাসপাতালে নিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকরা কেন চিকিৎসকদের সুরক্ষা দিতে পারলেন না? দয়া করে জিজ্ঞেস করুন, দুই ট্রাক ভর্তি গুন্ডা হানা দিলে কেন তাদের আটকানো হল না? দয়া করে প্রশ্ন করুন, কেন গুন্ডারা হাসপাতালের আশপাশে ঘুরছে ও চিকিৎসকদের উপরে হামলা চালাচ্ছে?'' পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো যিনি নিজে একজন সরকারী ডাক্তার তিনিও সরকারের এই ভুমিকার সমালোচনা করে জুনিয়ার দাক্তারদের আন্দোলনকে পুরন সমর্থন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন,  নির্বাচন কমিশনের কারণে হাসপাতালগুলি থেকে নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয় নির্বাচনের আগে। সরকার আবার তাদের ওই সব জায়গায় পুনর্বহাল করবে। বিরোধীরা দাবি করেছে, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে মমতার উচিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া।  মমতা অবশ্য বিজেপি ও সিপি(আই)এমকে দায়ী করেছেন এই পরিস্থিতি তৈরিতে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে। (উপরের ছবিটি মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কন্যা শাব্বা হাকিমের , ফেসবুক থেকে নেওয়া)  

  • মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারী ডাক্তাররা গন ইস্তফার পথে।

    ডেস্ক, ১৩ই জুনঃ  এনআরএস-র ঘটনায়  ইস্তফা দিলেন নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ শৈবাল মুখোপাধ্যায় ও সুপার তথা সহ-অধ্যক্ষ সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। রোগী মৃত্যুকে ঘিরে জুনিয়র ডাক্তারদের মারধরের জেরে এনআরএস-সহ রাজ্যের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের কর্ম বিরতিতে অচলাবস্থা চলছে। এনআরএসে বিগত গত ৪ দিন ধরে বন্ধ কার্যত সব পরিষেবা। প্রাথমিকভাবে আন্দোলনরত ডাক্তারদের অনুরোধ করলেও বৃহস্পতিবার চরম হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে কার্যত ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ শৈবাল মুখোপাধ্যায় ও সুপার সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। পদত্যাগপত্রে এনআরএসের অধ্যক্ষ ও সুপার লিখেছেন, “গত ১০ জুন ধরে হাসপাতালে চলা অচলাবস্থা সামলাতে ব্যর্থ হয়েছি। এই পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করছি। দয়া করে আমাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হোক”। অধ্যক্ষের ইস্তফা প্রসঙ্গে  এল জুনিয়ার  চিকিৎসক অনির্বাণ নাথ বলেন, “উনি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলেন। উনি চাইলে আমাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সেতুবন্ধনের কাজটা করতে পারতেন। কিন্তু উনি সরে দাঁড়ালেন”। উল্লেখ্য, এনআরএসের ঘটনায় জুনিয়র ডাক্তারদের বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার চরম হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী ।ডাক্তারদের ৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসা পরিষেবা শুরু করার নির্দেশ দেন।  তা না হলে এসমা আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মমতা। এমনকী নির্দেশ না মানলে  হস্টেল খালি করারও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।  মমতার হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে এদিন সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। শেষমেশ এনআরএসের অধ্যক্ষ ও সুপারের ইস্তফায় এ পরিস্থিতি আরও জটিল হল বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই এদিন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে দেখা করেন জুনিয়র ডাক্তারদের এক দল। রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁরা জানান, “এই অত্যাচার সহ্য করে কাজ করতে করতে আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে, দেওয়ালই আর নেই। ভেবেছিলাম রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতা জানাবেন, কিন্তু তিনি এমন কথা বললেন, যা শুনে মনে হল আমরাই দোষী। আমাদের আন্দোলন জারি থাকবে”। এদিন বিকালে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার আর্জি জানিয়ে সিনিয়র ডাক্তারদের খোলা চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ফেসবুকেও একই আবেদন রাখেন মমতা। অন্যদিকে, এনআরএসের পাশে দাঁড়িয়ে শুক্রবার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে এইমস। কালো ব্যাজ পড়ে প্রতিবাদ জানাবে আইএমএ-ও। যেই আইএমএর প্রধান হচ্ছেন  তৃনমূলের সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেন। (উপরের ছবিতে অবস্থানরত এন আর এসের ডাক্তার রা এবং নীচের ছবিতে এনআরএসের অধ্যক্ষ,)  

  • আজ বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবস :--

    -কলকাতা,রাজকুমার দাস:-ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন ২০০২ সালে বিশ্ব শিশু শ্রম বিরোধী দিবস হিসেবে আজ অর্থাৎ ১২ই জুন কে বেছে নিয়েছিল।সেই থেকে পালিত হয় আসছে আজকের এই দিন।এখনো সারা বিশ্বে প্রায় ১৫২মিলিয়ন শিশু শ্রম করে ।আন্তর্জাতিক স্তরে তাই ক্যাম্পেন করে শিশুদের দিয়ে কাজ করানো টা যে অপরাধ তার প্রচার ও প্রসার হয়ে চলেছে সারা বিশ্ব জুড়ে। আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার জন্য অসংখ্য বাবা মা তাঁদের শিশুদের কাজ করতে পাঠায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে।যা একেবারেই প্রযোজ্য নয় ।শিশুদের দ্বারা শ্রম দণ্ডনীয় অপরাধ জেনে ও আজ ও চলছে এই শিশুদের নিয়ে কাজ করানোর প্রবণতা।আইনের ঊর্ধ্বে ফাঁক ,তাই এই ধরনের সমস্যা আজও দেখতে পাওয়া যায় সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে নজর রাখলেই অনুমেয়। আজ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা এখনো শিশুদের খাটনি চায়ের দোকানে,হোটেল রেস্টুরেন্টে,চলচ্চিত্রে প্রমুখ স্থানে শিশুদের পরিশ্রম করতে দেখতে পেলেও প্রতিবাদ করতে পারি না।এই প্রতিবাদ যেদিন কলরবে উচ্চারিত হবে সেদিন আমরা হয়ত আমাদের লজ্জা কে ঢাকতে পারবো।বিশ্বের সকল শিশু শ্রমের সাথে যুক্ত ক্ষুদেদের প্রতি সমবেদনা জানাই,আর এর পরিবর্তনের উদিত সূর্য্যের অপেক্ষায় রইলাম।

  • বাংলার ঐতিহ্য ও কৃষ্টি কে সাথে নিয়ে আই টি সি রয়্যাল বেঙ্গল হোটেলের উদ্বোধন

    কলকাতা,রাজকুমার দাস:---কলকাতা মহানগরীতে পাঁচ তাঁরা হোটেলের নবতম সংযোজন বাইপাসের ধারে আই টি সি ৰ রয়্যাল বেঙ্গল সুপার প্রিমিয়াম লাক্সারি হোটেল। মঙ্গলবার যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সাথে ছিলেন কলকাতা র মহানগরিক ফিরহাদ হাকিম ববী, ছিলেন আই টি সি র চেয়ারম্যান ও এম ডি শ্রী সঞ্জীব পুরী, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্রী নকুল আনন্দ প্রমুখ। ভারতে আই টি সি র এটি ১৪তম লাক্সারি হোটেল। ৪৫৬কেইস উক্ত হোটেল বাংলা ও বাঙালিয়ানার ঐতিহ্য কে সাথে নিয়ে এগিয়ে চলবে। বাংলার বুকে এই হোটেল করতে প্রায় ১৪,০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। টোটাল এরিয়া৬১,০০০ স্কোয়ার ফিট।পাশেই আই টি সি সোনার এর সাথে নিয়ে মোট ৬৯৩টি শয্যা রুম।১৫টি ডাইনিং রুম,২২টি আলোচনা কক্ষ,সহ ব্যাংকুয়েট স্পেস ১,০০,০০০স্কোয়ার ফিট।ত্রিশ তলার হোটেল এ গ্রাহকদের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক সব ধরণের সুযোগ সুবিধা।কলকাতা বিমান বন্দর থেকে অনেকটাই কাছে। এই হোটেল বাংলা কে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই।