উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর

  • পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে , স্বাস্থ্য দপ্তরের ৭ জন সচীব বুনিয়াদপুরে

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১২ নভেম্বরঃ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে ও মানোন্নয়নের জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ৭ জন সচীব এলেন বুনিয়াদপুরে। এদিন দুপুরে বুনিয়াদপুর সার্কিট হাউসে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের বিষয়ে খুঁটিনাটি জানতে চান আধিকারিকরা। প্রায় ২ ঘন্টা ধরে চলা এই বৈঠকের পরে বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালের বেডের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি একগুচ্ছ পরিষেবা অবিলম্বে চালুর আশ্বাস দেন আধিকারিকরা। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সুত্রে জানা যায়, এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সেক্রেটারি শ্রী বিনোদ কুমার, ডাইরেক্টরেট অব হেলথ্‌ সার্ভিসেস অজয় চক্রবর্তী, স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী সচীব শরদ কুমার দ্বিবেদী সহ একাধিক আধিকারিকরা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসক দীপাপ প্রিয়া পি, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুকুমার দে ছাড়াও গঙ্গারামপুর মহকুমার ৪ টি ব্লকের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকরা এদিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন। জেলার বুনিয়াদপুরের রসিদপুর হাসপাতাল, হরিরামপুর হাসপাতাল, গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের জন্য বাড়তি ঘরের ব্যবস্থা সহ একাধিক পরিষেবার আশ্বাস দিয়েছেন কর্তারা। হরিরামপুর হাসপাতালের ৩০ শয্যাকে বাড়িতে ৬০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এদিনের বৈঠকে। এছাড়াও হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসস্থল, বর্জ্র‌্য নিষ্কাষণের আধুনিক ব্যবস্থা, বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালের বিদ্যুতের ভোল্টেজ স্টেবিলাইজার সহ একাধিক ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এদিন। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুকুমার দে জানান, তাঁর দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মজীবনে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন থেকে একসঙ্গে একজন আধিকারিক এসে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহনের ঘটনা এই প্রথম। এদিনের বৈঠকের পরে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা আরো উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদি।

  • লাগলো না পাসপোর্ট,দুই বাংলা মিলেমিশে একাকার বালুরঘাটে

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ৭ নভেম্বরঃ কালিপূজার মেলা উপলক্ষ্যে দুই বাংলা মিলেমিশে একাকার হল। মেলায় এসে চোখের জলে ভাসল দুদেশের আত্মীয়রা। দীর্ঘদিন পরে নিজেদের ভাই-‌বোন দাদা কাকাকে দেখতে পেয়ে কেউ কান্নায় ভেসে পড়ল, কেউবা তাদের প্রিয়জনদের জন্য আনা পোশাক, খাবার একে অপরকে দিল। দুই বাংলার সম্পৃতির এই অনন্য নজির দেখল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের ভাড়িলার কাছে হরিবংশীপুর এলাকা। প্রতি বছরের মতো এবারেও কালিপূজার পরদিন বুধবার বসেছিল মেলা। হরিরংশীপুর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার এপারেই এই মেলা উপলক্ষ্যে দু-‌দেশের প্রায় ২০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন ওই এলাকায়। যদিও সীমান্ত রক্ষী জওয়ানরা আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য কড়া ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। আগে থেকেই খবর পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশেও। সকাল সকাল বাংলাদেশের নজিপুর, মহাদেবপুর, সাপাহার, নিয়ামতপুর থানা এলাকার মূলতঃ কুমরইল, মহেশপুর, শীতল, আগ্রাদুগুন, সাপাহার, শিয়ালা, নজিপুর, ধামরহাট সহ প্রায় ৩০ টি গ্রামের ২০ হাজার বাংলাদেশি হাজির হয়েছিলেন কাঁটাতারের ওপারের সীমান্তে। অন্যদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের হরিবংশীপুর ছাড়াও অভিরামপুর, ভাড়িলা, বালাপুর, চেঁচাই, শ্রীবই, মনিপুর, লস্করহাট, ভবানীপুর, মালঞ্চা সহ প্রায় ৫০ টি গ্রামের লোক জমায়েত হয়েছিলেন সেখানে। দুপুর হতেই ভীড়ে উপচে পড়ে গোটা এলাকা। প্রত্যেকেই তাদের নিকটাত্মীয়দের খোঁজ করতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কাঁটাতারের বেড়ার এপার থেকে ওপারে তাদের দাদা-‌কাকা-‌ভাই বোনদের দেখতে পেতেই আনন্দ উচ্ছাস ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। চেঁচাই এর বাসিন্দা সত্তোরোর্ধ সুরেশ টিগ্গা ছোটোবেলায় বাংলাদেশের নজিপুর থানা এলাকায় নজিপুর গ্রামে ছেড়ে আসা তাঁর ভাইদের দেখতে হাজির হয়েছিলেন সেই মেলায়। সঙ্গে ভাই এর জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন লুঙ্গি, জামা ও বাড়িতে রান্না করা পায়েস। ভাই মদন টিগ্গাকে দেখতে পেয়েই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে কাঁটাতারের উপর দিয়ে ছুঁড়ে দেন নিজের আনা জিনিষপত্র। অন্যদিকে ভাইয়ের আনা বাংলাদেশের গুড় সহ অনেক জিনিষ হাতে পেয়ে দারুন উচ্ছসিত সুরেশ বাবু। তিনি জানান, বছরের এই দিনটির জন্যই সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন। দেশ ভাগের পর আর নিজের জন্মভিটেয় যাওয়া হয়নি। কিন্তু প্রতি বছরের এই মেলাতে এসে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা হয়। ফেরার আগে তিনি মেলা থেকে গরম জিলিপি কিনে তা তাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। অনেকেই তাদের আত্মীয়দের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ান কাঁটাতার ঘেষে। চেষ্টা করেন একবার নিজের চোখে দেখার জন্য। না পেলে ওই গ্রাম থেকে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জেনে নিচ্ছেন তাদের সম্পর্কে। এভাবেই মেলা জমে ওঠে প্রতিবছর হরিবংশীপুর। এবারে কেবলমাত্র ভাড়িলাই নয়, আশপাশের প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে লোকজন হাজির হয়েছিলেন মেলায় বেচাকেনা করতে। মেলাতে মিষ্টির দোকানের পাশাপাশি হরেক রকমের মনোহারি দোকান বসেছিল। দিনভর চলে দেদার বেচাকেনা। যদিও সন্ধ্যে নামতেই ফের এক বছরের জন্য নিজেদের স্মৃতিটুকু সম্বল করে ফিরে যান তাদের ঘরে। বাস্তবিক অর্থেই এবারে হরিবংশীপুরের এই মেলা দু-‌দেশের সম্পৃতি ও মিলন মেলার রুপ নিয়েছিল।

  • কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে মারধরের অভিযোগ বালুরঘাটে

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ৭ নভেম্বরঃ নাইট চেকিংয়ের সময় গাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে মারধরের অভিযোগ উঠল কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। মংগলবার রাতে পতিরামের বাহিচা মোড় এলাকায় ৫১২ নং জাতীয় সড়কের ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রহৃত ট্র্যাফিক অফিসারের নাম পবিত্র রায়। ঘটনার পর তাকে গুরুতর জখম অবস্থায় বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় কৌশিক নাথ, বাপ্পা নাথ, আমিনুর সরকার ও ক্ষিতীশ সরকার নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রত্যেকেই পতিরাম এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মংলবার পতিরামের বাহিচা এলাকায় নাইট চেকিংয়ের দ্বায়িত্বে ছিলেন পবিত্র রায়। সে সময় একটি অটোকে থামিয়ে তল্লাশি করতে গেলে অটোতে থাকা যুবকরা বাধা দেয়। অফিসারের সাথে সিভিকরা তাদের অফিসারকে বিষয়টি বললে তিনি নিজে সেখানে গিয়ে তল্লাসীর কথা বলেন। এরপর অটোতে থাকা মদ্যপ যুবকদের সংগে বচসা বাধে অফিসারের। সেসময় ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় তারা। কিছুক্ষণ পর তারা আবার ফিরে এসে বাঁশ, লাঠি, রড নিয়ে হামলা চালায়। অফিসার সহ সিভিকদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার রাতেই অভিযুক্ত কৌশিক নাথ, বাপ্পা নাথ, আমিনুর সরকার ও ক্ষিতীশ সরকার গ্রেফতার করে পুলিশ। বালুরঘাট সদর ডিএসপি ধীমান মিত্র বলেন, ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় আরও কারা কারা জড়িত তাদের খোঁজেও তল্লাসী চালানো হচ্ছে।

  • রাস্তায় পড়ে থাকা টাকা সহ ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত

    ডেস্ক,  ৫ নভেম্বর : দক্ষিন দিনাজপুরের বালুরঘাটে রাস্তায় একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে  তা উঠিয়ে নিয়ে  সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত রাখলেন এলাকার কয়েকজন যুবক।জানা যায় ব্যাগে  টাকা সহ  নানা গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ছিল। ঘটনার বিবরণে জানা যায় গতকাল সন্ধ্যায় বালুরঘাট পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সৃজনী সংঘ এলাকায় একটি কালো ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন অরিন্দম চন্দ  ও তার তিন বন্ধু। ব্যাগের ভিতরের কাগজপত্র ঘেটে তারা জানতে  পারেন  সেটি প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের কারও হবে। রাতে ব্যাগের মালিককে খুজে পাওয়া  সম্ভব হয়নি। অবশেষে সোমবার বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অরিন্দমবাবুরা। এরপর ব্যাগটি প্রেস ক্লাবের সহযোগিতায় প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ব্যাগে থাকা প্রায় ৫ হাজার টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয় আধিকারিককে। এ ব্যাপারে  প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের  এক কর্মী জানান,  "সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি এক কর্মীর ব্যাগ হারিয়ে গেছে। যারা পেয়েছিলেন ব্যাগটি তাঁরা ফেরত দিয়ে গেলেন।"     

  • উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় কংগ্রেস ও তৃণমূল সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির।

    Newsbazar 24, ডেস্ক,  ৪ নভেম্বর : উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া থানার লক্ষ্মীপুর এলাকায় কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। তিনি কংগ্রেস কর্মী ছিলেন।  মৃত ব্যাক্তি চোপড়ার লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা। নাম মহম্মদ সামিরুদ্দিন।  এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা থাকায়  পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রে জানা যায় আজ সকালে এক কংগ্রেস কর্মী লক্ষ্মীপুর থেকে রামগঞ্জে বাজারে যাচ্ছিলেন।  পথে তাঁকে মারধর করে তৃণমূল কর্মীরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে যান  কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থক। এরপরই দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। অভিযোগ, কংগ্রেস কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় তৃণমূল কর্মীরা। গুলিবিদ্ধ হন মহম্মদ সামিরুদ্দিন। তাঁকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী।    

  • বাধ্য হয়েই বালুরঘাটের জেলা স্কুল পরিদর্শক পায়ে হাটতে বাধ্য হচ্ছেন ! কি কারন জানতে লিংক এ ক্লিক করুন….

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ০১ নভেম্বরঃ স্বাস্থই সম্পদ। শিক্ষার জন্য সুস্বাস্থের অধিকারী হওয়া অত্যান্ত আবশ্যক। জেলার প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক পায়ে হেটে সমস্থ কাজ করছেন। অপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে জেলা স্কুল পরিদর্শক অত্যান্ত স্বাস্থ্য সচেতন। অন্যদের উৎসাহিত করার জন্যই তিনি যান্ত্রিক যানবাহন ছেড়ে পায়ে হেটে হেটে সমস্থ করছেন। আবার অন্যদিকে মনে হতে পারে সরকারি খরচ কমাতেই তিনি গাড়ি ছেড়ে পায়ে হেটে কাজ করছেন। তবে ঘটনা ঠিক সেরকম না। বিষয়ের একটু খোঁজ নিয়ে দেখা গেল। এসবের কোন কারণই ঠিক নয়। নিতান্তই বাধ্য হয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর প্রাথমিক জেলা স্কুল পরিদর্শক মৃনাল সিংহ পায়ে হাটতে বাধ্য হচ্ছেন। গাড়ির জন্য সর্ব শিক্ষা মিশনের পক্ষ থেকে আর্থিক বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়ায় গাড়ির মালিক তার গাড়ি আর ভাড়া দিতে চাইছেনা। ফলে ২২ অক্টোবর থেকে পায়ে হেটেই অফিস করতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। মাধ্যমিক স্কুল পরিদর্শকের ক্ষেত্রেও এই একই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে তাদের দিন পার হচ্ছে। তবে যে কোন দিনই তাদেরও গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। জেলা শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সঙ্গে এমন ঘটনায় অবাক জেলাবাসী। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের আধিকারিকদের সর্ব শিক্ষা মিশনের পক্ষ থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। সর্ব শিক্ষা মিশনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শকের জন্য বছরে নব্বই হাজার টাকা এবং মাধ্যমিক স্কুল পরিদররশকের জন্য এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ। বরাদ্দ অর্থ দিয়ে গাড়ি ভাড়া করেই আধিকারিকরা জেলার সমস্থ স্কুলের স্কুল পরিদর্শন থেকে শুরু করে শিক্ষা সংক্রান্ত সভা বৈঠক, অফিস যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু পুজোর আগে থেকেই গাড়ির মালিকদের বকেয়া বিল না দেওয়ার কারণেই গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে গাড়ির মালিক পক্ষ। সর্ব শিক্ষা মিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে২০১৮-২০১৯ বর্ষের সমস্থ টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের আধিকারিকের গাড়ি তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে চালাচ্ছে। জেলা স্কুল আধিকারিক (প্রাথমিক) মৃণাল সিংহ জানান, টাকার যোগান নেই তাই গাড়ি ছেড়ে দিতে হয়েছে। কখন পায়ে হেটে কখনও আবার সাইকেল বা টোটো করেই যাতায়াত করছি। সর্ব শিক্ষা মিশনের জেলা প্রকল্প আধিকারিক বিমল কৃষ্ণ গায়েন বলেন, পুজোর আগেই নিদৃষ্ট কোটার টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই আর বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়।

  • অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকদের সুসম্পর্ক বাড়ানোর নানা প্রকৌশল দেখাতে ডেনমার্কের ৪ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ

    অজয় সরকার , বালুরঘাট, ২৯ অক্টোবরঃ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ও বিদ্যালয় এলাকার অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকদের সুসম্পর্ক বাড়ানোর নানা প্রকৌশল নিয়ে ও প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তিগত সাহায্যের দিশা দেখাতে জেলায় আসছেন ডেনমার্কের ৪ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। আগামী ২ তারিখে বালুরঘাটের একটি বেসরকারী হোটেলে মিষ্টার পলের নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জেলার ১০ জন শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পরবর্তীতে তাদের নিয়ে আগামী দিনে জেলার কাজের পরিকল্পনা ও পরামর্শ দেবেন বলে জানা যায়। গত দু-বছর ধরেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বেশ কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের বিদ্যালয়ে আধুনিকমানের শিক্ষাদানের পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এজন্য শিশুদের নিয়ে হাতেকলমে নানা ধরণের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়গুলির মিড ডে মিলের জন্য সবজি বাগান তৈরীর হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও বিদ্যালয় এলাকার স্কুল ছুট পড়ুয়াদের স্বাবলম্বি করে তোলের লক্ষ্যে তাদের হাতের কাজ শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের জন্য সৃজন মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কাজে কলকাতার এ্যাহেড ইনিসিয়েটিভ নামে একটি সংস্থা নানাভাবে সাহায্য করে আসছে। এবিষয়ে মতামত, পরামর্শ ও সম্পদ দিয়ে সাহায্যের জন্য আগামী ২ তারিখে বালুরঘাটে জেলার বেশ কয়েকজন শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তাঁরা। শিক্ষকদের মুখে বিদ্যালয়ে তাদের কাজকর্ম ও অভিজ্ঞতা শুনবেন। পাশাপাশি আগামী এক বছরে শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে কিভাবে কাজ করা হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ও সেইমতো শিক্ষকদের নিয়ে কাজ করা হবে। এ্যাহেড ইনিসিয়েটিভের বোর্ড অফ ডাইরেক্টরেট স্বপন দাস জানান, গত দুবছর ধরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিকে নিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি হাতেকলমে ছাত্র ও অভিভাবকদের প্রশিক্ষণের জন্য নানাধরণের কাজকর্ম করা হচ্ছে। মূলতঃ সেসব দেখতেই ডেনমার্কের ওই প্রতিনিধিদল আসছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার শিক্ষকের ফোরামকে নিয়েও আলোচনা করে আগামী দিনের পরিকল্পনা গ্রহন করা হবে, যাতে জেলাজুড়ে শিশুদের শিক্ষা ও ব্যবহারিক কাজে শিক্ষার প্রয়োগের নতুন দিশা দেখানো যায়। শিক্ষক ফোরামের অন্যতম কর্মকর্তা তিওড় নওপাড়া জুনিয়র বেসিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার ঘোষ জানান, প্রায় দুবছর ধরেই আমরা জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে নানাধরণের কাজ করে চলেছি। আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগে শিক্ষার জন্য তাদের কম্পিউটার ও মোবাইলকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে ক্লাসরুমকে আরো আকর্ষণীয় করা যায় সেজন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবারে ডেনমার্কের প্রতিনিধিরা আসছেন আলোচনার জন্য। তাদের সঙ্গে আলোচনার পরে জেলাজুড়ে আরো বড়ধরণের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। ‌

  • ভাসুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ করতে গিয়ে প্রহৃত হলেন এক দম্পতি।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৯ অক্টোবরঃ ভাসুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ করতে গিয়ে প্রহৃত হলেন এক দম্পতি। ঘটনায় ওই গৃহবধুর স্বামীকে ব্যপক মারধোর করে অভিযুক্ত ভাসুর। রবিবার রাতে বালুরঘাট শহরের সুকান্ত কলোনী এলাকার ঘটনা। এদিন দুপুরে রিয়া মহন্ত নামে ওই গৃহবধু বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই ওই গৃহবধুর ভাসুর অমর মহন্ত নানা ভাবে তাঁকে উত্যক্ত করত বলে অভিযোগ। রবিবার রাতে ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধুর শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। ওই গৃহবধুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে সেখান থেকে পালিয়ে যান অমর মহন্ত। পরে বাড়ির লোকজনকে গোটা ঘটনাটি জানালে ওই গৃহবধুর শ্বশুড় শাশুড়ি তা মিটিয়ে নেবার পরামর্শ দেন। রাতে অমর মহন্ত তাঁর পরিবারকে হুমকি দেয় বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে। রাতে স্বামী বাড়ি ফিরে আসলে রিয়া মহন্ত গোটা ঘটনাটি স্বামীকে জানালে স্বামী দাদা অমর মহন্তকে প্রতিবাদ জানাতে গেলে উল্টে তাঁকেই ব্যপক মারধোর করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পরে রাতেই ওই গৃহবধু ও তাঁর স্বামী বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অমর মহন্ত নামে ওই ব্যক্তি পলাতক। বালুরঘাট থানার পুলিস সুত্রে জানা যায়, পুলিসি অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে যার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ সেই অমর মহন্তের খোঁজ মেলেনি। ভিডিও না আসলে একটু অপেক্ষা করুন.....

  • বালুরঘাটে বাম বিজেপিকে বিঁধলেন , উই নরেন চট্টোপাধ্যায়।

    অজয় সরকার , বালুরঘাট, ২৭ অক্টোবরঃ ‌শনিবার ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্মেলনে এসে বাম বিজেপিকে বিঁধলেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাটদক নরেন চট্টোপাধ্যায়। এদিন বালুরঘাটে দলের জেলা কার্যালয়ে জেলা সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেখানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক দলীয় কর্মীসমর্থকরা হাজির হয়েছিলেন। সেখানেই বিজেপি ও বামকে বিঁধলেন তিনি। নরেন বাবু বলেন, আজাদ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নেতাজীকেই দাবি করা হয়। বর্তমানে বিজেপি ও দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে চলেছেন। অথচ, তাঁরাই নেতাজীকে বারবার অপমান করে আসছেন। আন্দামানে নেতাজীর দেওয়া স্বরাজ দ্বীপের নাম বদলে যারা সাভারকর দ্বীপ নাম দেয়, যারা নেতাজীর তৈরী প্লানিং কমিশন তুলে দিয়ে মুখার্জী কমিশনের রায় গ্রহন করে। বারবার দাবী করার পরেও যারা ২৩ জানুয়ারি নেতাজীর জন্মদিনকে দেশপ্রম দিবস হিসাবে ঘোষণা করে না, যারা দেশে হাজারো নামে হাজারো প্রকল্প চালু করলেও নেতাজীর নামে কোনো প্রকল্প চালু করেনা,তারা আর যাই করুক না কেন, নেতাজীকে সন্মান করে না। তাদের অধিকার নেই নেতাজীর গলায় মালা দিয়ে মেকি ভন্ডামী দেখানোর বলে নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন। কেন্দ্রে বিজেপিকে হটাতে কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের জোঁট করাতে ফরওয়ার্ড ব্লক অসন্তুষ্ট। নরেন বাবু বলেন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র সবসময়েই বাম সংহতি গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনিই পথিকৃত। সেকারণে তারাও কংগ্রেস, বিজেপি ও তৃণমূল থেকে দূরে সরে বাম ঐক্য গড়ে তোলার পক্ষে। তিনি সিপিএমকে কটাক্ষ করে বলেন, যারা কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, তারা বামেদের ছেড়ে চলে যাবেন কিনা তা তাদেরই ভাবতে হবে। তবে ফরওয়ার্ড ব্লক বামের সঙ্গে ছিল ও সেখানেই থাকবে। ‌

  • ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে গম চাষ নিষিদ্ধ করল কৃষি দপ্তর

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৬ অক্টোবরঃ ঝলসা রোগ আটকাতে ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুtলিতে গম চাষ নিষিদ্ধ করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কৃষি দপ্তর । গত বছরের মতো এবারেও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ৬ টি ব্লকে গম চাষ নিষিদ্ধ করা হয়েছে । বিকল্প চাষ হিসাবে এই মরসুমে চাষের জন্য কৃষি দপ্তরের তরফে ডাল শস্য বীজ বিনামূল্যে দেওয়া হবে । প্রায় দুবছর ধরেই সীমান্ত এলাকার প্রতিবেশি বাংলাদেশের ঝলসার হানায় সীমান্ত লাগোয়া উত্তরবঙ্গের বেশকিছু জেলার বিঘার পর বিঘা জমির গম নষ্ট হয়ে যায় । গত বছর যাতে ঝলসা রোগে গম চাষে ক্ষতি না হয় সেজন্য জেলার বাংলাদেশ লাগোয়া ৮ কিলোমিটার দূরত্বে গম চাষ নিষিদ্ধ করেছিল কৃষি দপ্তর । দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার আটটি ব্লকের মধ্যে কেবলমাত্র বংশীহারী ও হরিরামপুর ব্লকেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি । বাকি বালুরঘাট, কুমারগঞ্জ, তপন, হিলি, গঙ্গারামপুর ও কুশমন্ডি ব্লকে ঝলসায় গমের ক্ষতি আটকাতে বিকল্প চাষের প্রস্তাব দিচ্ছে কৃষি দফতর । এজন্য সরকারী নির্দেশিকা জারির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকাগুলিতে কৃষি দপ্তরের তরফে প্রচারও চালানো হচ্ছে। যাতে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে এই সব এলাকায় কেউ গম চাষ করতে না পারে বিশেষ নজরদারী চালাবে কৃষি দপ্তর ।দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা কৃষি আধিকারিক জ্যোতিনময় বিশ্বাস জানান, বাংলাদেশ সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত গ্রামগুলির জন্য এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে। ‌