উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর

  • বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে একটি সদ্যজাত মৃত শিশু উদ্ধার

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১১ ফেব্রুয়ারিঃ বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে একটি সদ্যজাত মৃত শিশু উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। এদিন সকালে হাসপাতালের সাফাইকর্মীরা একটি ডাস্টবিনের মধ্যে লাই ক্যারিব্যাগের ভেতরে একটি অপরিণত সদ্যজাত মৃত শিশুকে দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, বাইরে থেকে ওই সদ্যজাত শিশুটিকে ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালের সাফাই কর্মী বিকাশ সিং জানান, তিনি প্রথমে ওই প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগে মোড়ানো এই দেহটি দেখতে পান। এর আগেও হাসপাতালের ডাস্টবিনে এধরণের দেহ ফেলে রাখা হত বলে জানা যায়। হাসপাতালের বিভিন্ন প্রান্তে কর্তব্যরত পুলিস ও সিভিক ভলান্টিয়ারের সামনে এধরণের ক্যারিব্যাগে করে কিভাবে শিশুকে ফেলে যাবার ঘটনা ঘটছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জেলা হাসাপাতালের সুপার তপন বিশ্বাস জানান, দেহটি হাসপাতালের কোনো প্রসূতির নয়। বাইরে থেকে এনে সম্ভবত তা ফেলা হয়েছিল। ঘটনার তদন্তের জন্য পুলিসকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী সুপার ডাঃ অরিন্দম রায় জানান, এমাসে এখনও পর্যন্ত জেলা হাসপাতালে মোট ৫ টি অপরিণত শিশু জন্মগ্রহন করেছে। যার মধ্যে ৪ টি অপরিণত মৃত শিশুকে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একটি শিশু এখনও হাসপাতালেই রয়েছে। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করে অপরিণত মৃত শিশুকে কোনো পরিবারের লোকেরা তা ডাস্টবিনে ফেলে যেতেও পারেন। এক্ষেত্রে হাসপাতালের নিরাপত্তা আরো বাড়ানোর প্রয়োজন বলে তিনি জানান। অরিন্দম রায় জানান, জেলা হাসপাতালের পেছনেও যাতে সিসিটিভি লাগানো যায়, সেজন্য শিঘ্রই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

  • লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তর দিনাজপুরে উদ্বোধন ও কাজের সুচনার ছড়াছড়ি।

    উত্তর দিনাজপুর , ১০ফেব্রুয়ারীঃ লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উদ্বোধন ও কাজের সুচনার ছড়াছড়ি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্র নাথ ঘোষ আজ উত্তর দিনাজপুর  জেলার ইসলামপুরে একটি রাস্তার উদ্ধোধন সহ দুটি কাজের শুভ সূচনা করলেন।   তিনি ইসলামপুরের সোনাপুরে ভোষপিটা থেকে প্রেমচান্দগছ, রানিগঞ্জ হয়ে সোনাপুর অবধি  প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তার উদ্ধোধন  করেন। রাস্তার জন্য ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৫৪ লক্ষ ৩০০ টাকা । এছাড়া এদিন দুইটি কাজের সূচনা করেন মন্ত্রী। ইসলামপুরে দাড়িভিটেয় ৭২ মিটার লম্বা  সেতু ও একটি অত্যাধুনিক শ্মশানের কাজের সূচনা করেন। এই দুইটি কাজের জন্য বরাদ্দ  করা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা ও ৬৮ লক্ষ টাকা।  এদিন এই অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসক অরবিন্দ কুমার মিনা, উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি ফরহাদ বাণু, ইসলামপুরে বিধায়ক প্রতিনিধি সহ অন্যান্য  বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গরা ।

  • যোগীর হেলিকপ্টার নামার অনুমতি না মেলা সত্ত্বেও তার অনুপস্থিতেই নির্বিঘ্নে শেষ হল বিজেপি'র গণতন্ত্র বাঁচাও সভা।

    অজয় সরকার,‌ বালুরঘাট, ৩ ফেব্রুয়ারিঃ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেলিকাপ্টার নামার অনুমতি না মেলায় রবিবার যোগী আদিত্যনাথের অনুপস্থিতেই শেষ হল সভা বিজেপি'র গণতন্ত্র বাঁচাও সভা। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই জেলা জুড়ে টানটান উত্তেজনা ছিল। বিজেপির তরফে প্রচার করা হয়েছিল জেলাজুড়ে। বালুরঘাট শহর যোগী আদিত্যনাথের ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। বালুরঘাট শহর সংলগ্ন রেল লাইনের মাঠে সভা করার অনুমতিও মিলেছিল রেলের তরফে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের তরফে বালুরঘাট বিমান বন্দরে হেলিকপ্টার নামার অনুমতি না পাওয়াতেই বিজেপির এই সভায় যোগী আদিত্যনাথ আসতে পারল না বলে দলের তরফে শেষমেশ জানানো হয়। যদিও এদিন বালুরঘাট রেলস্টেশনের মাঠে সভা চলাকালীন উত্তরপ্রদেশ থেকে মোবাইলে যোগী আদিত্যনাথের ভাষণ শোনানো হয়। প্রায় ১০ মিনিটের এই ভাষণের পাশাপাশি এদিনের সভায় জেলা নেতারাও ভাষণ দেন। যদিও প্রত্যাশামতো এদিনের সভায় লোক হাজির করতে পারেন নি জেলা বিজেপির কর্মকর্তারা। সভার হেলিকপ্টারের অনুমতি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই একটি চাপা উত্তেজনা ছিল। যদিও বিজেপির তরফে হেলিকপ্টার নামার অনুমতি মিলবে বলে অনেকটাই নিশ্চিত ছিল দলের জেলা নেতারা। শনিবার বিকালেও বিজেপির তরফে এক প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাত করে। বিজেপি নেতাকর্মীরা আশা করেছিলেন যে রাতের মধ্যে সভার অনুমতি মিলবে। এদিন সকালে অনুমতি না পেয়েই দলের নেতারা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসকের বাংলোর সামনে হাজির হন। তারা দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা ধরে জেলা শাসকের বাংলোর সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। দলের উত্তরবঙ্গের ‌কনভেনর রথিন বোস জানান, গত কয়েকদিন ধরেই নানা টালবাহনা করা হচ্ছিল। প্রশাসনের তরফে অনুমতি না মেলার আশঙ্কাও করা হয়েছিল। সেইমতো রেল স্টেশন মাঠেই শনিবার রাতে একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরী করা হয়। শনিবার দুপুরেও জেলা প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বিকাল ৩ টা নাগাদ অনুমতি দেওয়া হবে বলে রথিন বোস জানান। বিকালে জেলা শাসক দীপাপ প্রিয়া পি-‌র সঙ্গে দেখা করলে তিনি জানান,  হেলিকপ্টার নামার জন্য কলকাতায় অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে অনুমতি মিললেই তা দেওয়া হবে। কিন্তু রাতভর অপেক্ষা করেও অনুমতি না মেলায় রবিবার সাতসকালে বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার, রথিন বোস, নীলাঞ্জন রায় সহ জেলার একাধিক নেতা জেলা শাসকের বাংলোয় হাজির হন। কিন্তু অনুমতি না মেলায় হতাশ হয়ে সেখানেই বসে পড়েন। শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ এবং এর    প্রতিবাদে আজ দক্ষিণ দিনাজপুরের ডিএম বাংলো থেকে কিছুটা দূরে বালুরঘাট সার্কিট হাউজ়ের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়াল বিজেপি । দলের জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার, উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক রথীন বোস, জেলা নীলাঞ্জন রায়সহ অন্যান্য জেলা নেতার উপস্থিতিতে এদিন মমতা ব্যানার্জির কুশপুতুল পোড়ানো হয়। গোলমালের আশঙ্কায় বালুরঘাট থানার আই সি জয়ন্ত দত্ত, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার দেবাশিষ নন্দি সহ এক বিশাল পুলিশ বাহিনী হাজির হয় সেখানে। ইতিমধ্যেই বেলা বাড়তে থাকে। বাইরে থাকা আসা দলের নেতা কর্মীরাও গাড়ি থেকে নেমে হাজির হন জেলা শাসকের বাংলোর সামনে। এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তারা বালুরঘাট রেলস্টেশনের সভাস্থলে হাজির হন। দুপুর একটা নাগাদ সভা শুরু হয়। সভায় বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার, উত্তরবঙ্গেন কনভেনর রথিন বোস, বিজেপির সহ সংগঠন সম্পাদক কিশোর দাস সহ জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  সভা চলাকালীন যোগী আদিত্যনাথের ভাষণ মোবাইলে শোনানো হয়। তিনি এদিন না আসার জন্য শুরুতেই দুঃখ প্রকাশ করেন। জানান, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ তৃণমূল সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চাইছে। বিজেপি এলেই রাজ্যের দুর্নীতি, বেকারি সহ সমস্ত সমস্যার মুক্তি মিলবে। তিনি বলেন, এদিন প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় বালুরঘাটে আসতে পারলেন না। তবে খুব তিনি ফের বালুরঘাটে আসবেন। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। লোকসভা নির্বাচনে এই সরকারকে উপড়ে ফেলতে একজোট হয়ে কাজ করার বার্তা দেন দলের নেতা কর্মীদের কাছে। দুপুর ৩ টা নাগাদ সভা শেষ হয়।

  • দক্ষিন দিনাজপুরে সীমান্ত এলাকায় পীর বাবার মেলা উপলক্ষ্যে দুই বাংলা মিলেমিশে একাকার।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৭ জানুয়ারিঃ পীর বাবার মেলা উপলক্ষ্যে দুই বাংলা মিলেমিশে একাকার হল। মেলায় এসে চোখের জলে ভাসল দুদেশের আত্মীয়রা। দীর্ঘদিন পরে নিজেদের ভাই-‌বোন দাদা কাকাকে দেখতে পেয়ে কেউ কান্নায় ভেসে পড়ল, কেউবা তাদের প্রিয়জনদের জন্য আনা পোশাক, খাবার একে অপরকে দিল। দুই বাংলার সম্পৃতির এই অনন্য নজির দেখল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের ত্রিকূল এলাকা। প্রতি বছরের মতো এবারেও রবিবার বসেছিল মেলা। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার এপারেই এই মেলা উপলক্ষ্যে দু-‌দেশের  প্রায় ২০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন ওই এলাকায়।যদিও সীমান্ত রক্ষী জওয়ানরা আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য কড়া ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। আগে থেকেই খবর পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশেও। সকাল সকাল বাংলাদেশের নজিপুর, মহাদেবপুর, সাপাহার, নিয়ামতপুর থানা এলাকার মূলতঃ কুমরইল, মহেশপুর, শীতল, আগ্রাদুগুন, সাপাহার, শিয়ালা, নজিপুর, ধামরহাট সহ প্রায় ৩০ টি গ্রামের ২০ হাজার বাংলাদেশি হাজির হয়েছিলেন কাঁটাতারের ওপারের সীমান্তে। অন্যদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের জলঘর এলাকা ছাড়াও তপন ব্লকের অভিরামপুর, ভাড়িলা, বালাপুর, চেঁচাই, শ্রীবই, মনিপুর,  লস্করহাট, ভবানীপুর, মালঞ্চা সহ প্রায় ৫০ টি গ্রামের লোক জমায়েত হয়েছিলেন সেখানে। দুপুর হতেই ভীড়ে উপচে পড়ে গোটা এলাকা। প্রত্যেকেই তাদের নিকটাত্মীয়দের খোঁজ করতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কাঁটাতারের বেড়ার এপার থেকে ওপারে তাদের দাদা-‌কাকা-‌ভাই বোনদের দেখতে পেতেই আনন্দ উচ্ছাস ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। চেঁচাই এর বাসিন্দা সত্তোরোর্ধ সুরেশ টিগ্গা ছোটোবেলায় বাংলাদেশের নজিপুর থানা এলাকায় নজিপুর গ্রামে ছেড়ে আসা তাঁর ভাইদের দেখতে হাজির হয়েছিলেন সেই মেলায়। সঙ্গে ভাই এর জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন লুঙ্গি, জামা ও বাড়িতে রান্না করা পায়েস। ভাই মদন টিগ্গাকে দেখতে পেয়েই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে কাঁটাতারের উপর দিয়ে ছুঁড়ে দেন নিজের আনা জিনিষপত্র। অন্যদিকে ভাইয়ের আনা বাংলাদেশের গুড় সহ অনেক জিনিষ হাতে পেয়ে দারুন উচ্ছসিত সুরেশ বাবু। তিনি জানান, বছরের এই দিনটির জন্যই সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন। দেশ ভাগের পর আর নিজের জন্মভিটেয় যাওয়া হয়নি। কিন্তু প্রতি বছরের এই মেলাতে এসে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা হয়। ফেরার আগে তিনি মেলা থেকে গরম জিলিপি কিনে তা তাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। অনেকেই তাদের আত্মীয়দের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ান কাঁটাতার ঘেষে। চেষ্টা করেন একবার নিজের চোখে দেখার জন্য। না পেলে ওই গ্রাম থেকে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জেনে নিচ্ছেন তাদের সম্পর্কে। এভাবেই মেলা জমে ওঠে প্রতিবছর জলঘরে। এবারে কেবলমাত্র জলঘর এলাকাই নয়, আশপাশের প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে লোকজন হাজির হয়েছিলেন মেলায় বেচাকেনা করতে। মেলাতে মিষ্টির দোকানের পাশাপাশি হরেক রকমের মনোহারি দোকান বসেছিল। দিনভর চলে দেদার বেচাকেনা। যদিও সন্ধ্যে নামতেই ফের এক বছরের জন্য নিজেদের স্মৃতিটুকু সম্বল করে ফিরে যান তাদের ঘরে। বাস্তবিক অর্থেই এবারে জলঘরের ত্রিকূল এই মেলা দু-‌ দেশের সম্পৃতি ও মিলন মেলার রুপ

  • বালুরঘাটে কংগ্রেসের আইন অমান্যকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র প্রশাসনিক ভবন চত্বর,পুলিশের লাঠিচার্জ

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৩ জানুয়ারিঃ কেন্দ্রীয় সরকারের রাফায়েল দুর্নীতি সহ  রাজ্য সরকারের একাধিক আর্থিক তছরুপের প্রতিবাদে আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই আইন অমান্য আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে গোলমাল ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে  কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হালকা লাঠি চার্জ করতে হয়। যদিও কংগ্রেসের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর পুলিশ বেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করেছে। এই ঘটনায় মোট ১৫ জন কংগ্রেস কর্মী আহত হয়েছেন। কংগ্রেসের ডাকে কেন্দ্রের মোদি সরকারের রাফায়েল দুর্নীতি, সিবিআই সহ একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা, রাজ্য সরকারের সারদা, নারদা সহ বিভিন্ন অর্থলগ্নি সংস্থার মাধ্যমে অর্থ তছরুপের ঘটনার তদন্ত সহ একাধিক দাবিতে এদিন আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এদিনের এই আইন অমান্য কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার কংগ্রেসের কর্মী সমর্থক হাজির হয়েছিলেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি ও বিধায়ক শঙ্কর মালাকারের নেতৃত্বে এই আইন অমান্য আন্দোলন চলাকালীন পুলিশি বেরিকেড ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে কংগ্রেসের কর্মীরা। সে সময়ে সেখানে থাকা পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হাল্কা লাঠিচার্জ করতে হয়। পুলিশের লাঠির ঘায়ে বজিরুদ্দিন জামাল নামে এক কংগ্রেস কর্মী গুরুতর আহত হন বলে জানা যায়। জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি অঞ্জন চৌধুরি জানান, এদিনের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর পুলিশ রেপরোয়াভাবে লাঠিচার্জ করে ১৫ জনকে জখম করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামীতে আরো বড় ধরণের আন্দোলনে নামা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন অঞ্জন চৌধুরি।

  • প্রধানের বিরুদ্বে অভিযোগ করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি বিজেপির বালুরঘাট মন্ডল সভাপতিকে

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১১ জানুয়ারিঃ বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম  পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশিদের ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র বিলির অভিযোগ উঠেছিল কয়েকদিন আগেই। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জয়ন্তী পাহান সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র বিলি করছেন বলে বিজেপির তপশীল জাতি সেলের বালুরঘাট মন্ডল সভাপতি সুমন বর্মন অভিযোগ এনেছিল। এরপরেই বালুরঘাট ডাকবাংলো পাড়ার বাসিন্দা সুমনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি অবিলম্বে প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে আরো বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে সে জানায়। বৃহস্পতিবার বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করে সুমন জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় দলের জেলা কার্যালয় মঙ্গলপুর থেকে বাড়ি ফেরার পথে নারায়নপুর এলাকায় ৭ টি বাইক নিয়ে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তার পথ আটকায়। তাঁকে অবিলম্বে প্রধানের বিরদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়। এমনকি তারা নিজেদের বালুরঘাট তৃণমূল টাউন সভাপতি প্রবীর রায় ও জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রের লোক বলে পরিচয় দিয়েছে বলে সুমন জানায়। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রবীর রায় জানান, তারা এধরণের অসভ্যতাকে কোনোদিন প্রশ্রয় দেন না। এ ধরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নিজের প্রচার বাড়াতেই এসব ছক কষছে ওই যুবক বলে তিনি জানান।  ভারতীয় সংবিধান অনুসারে কেবলমাত্র জন্মসুত্রে ও বিবাহসুত্রেই ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। জানা যায়, ভারতীয় নাগরিকদের শংসাপত্র প্রদানের ক্ষমতা ৮৫ সালের আগে দেশের প্রতিটি জেলার  জেলা শাসকদের হাতে ছিল। কিন্তু ৮৫ সালে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার সেই নিয়মের পরিবর্তন করে। কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদানের ক্ষমতা জেলা শাসকদের কাছ থেকে তা কেড়ে তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু কয়েকদিন আগেও ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিজে নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদান করছেন বলে অভিযোগ। বিজেপির বালুরঘাট শহর তপশীল মোর্চার সভাপতি সুভাষ বর্মন তথ্য জানার

  • সিভিক ভলান্টিয়ারের স্ত্রীকে কটুক্তি ও কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিতের অভিযোগ কুমারগঞ্জ থানার এক পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১১ জানুয়ারিঃ কুমারগঞ্জ থানার সামনে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের স্ত্রীকে কটুক্তি ও কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিতের এর ঘটনায় কুমারগঞ্জ থানায় কর্মরত এক  পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হল জেলা পুলিস সুপারের কাছে । দিনের পর দিন ওই মহিলাকে কটুক্তি করায় অতিষ্ঠ হয়ে কুমারগঞ্জ থানার ওই পুলিস অফিসার ও এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন ওই মহিলা। অভিযোগ পাবার পরেই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সার্কেল ইন্সপেক্টরকে। ওই মহিলা জেলা পুলিস সুপারকে অভিযোগ দায়ের করে জানান, কুমারগঞ্জ থানা সংলগ্ন এলাকাতেই তার বাড়ি। তার ছেলে থানা সংলগ্ন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। সেখানে ছেলেকে নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এ মাসের ৩ তারিখ থেকে প্রতিদিন বিপ্লব সাহা নামে ওই পুলিস অফিসার তাঁকে উদ্দেশ্য করে কটুক্তি ও নানা ধরণের অঙ্গীভঙ্গী করেন। তার সঙ্গে সহযোগিতা করেন জীবন রায় নামে কর্মরত এক সিভিক ভলান্টিয়ার । গত ৭ তারিখে ফের তাঁকে উদ্দেশ্য করে খারাপ আচরণ করতে শুরু করেন ওই পুলিস অফিসার ও তার যোগ্য সাগরেদ ওই সিভিক ভলান্টিয়ার। ওই মহিলার শারিরীক গঠন নিয়ে নানা ধরণের কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করতে থাকেন। এরপরে তিনি অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করেন। সে সময়ে সেখানে থাকা লোকজন ওই মহিলার পক্ষ নিয়ে তাদের ভর্ৎসনা করেন। মহিলার অভিযোগ, থানার সামনেই এই ঘটনা ঘটলেও থানার অন্য পুলিস আধিকারিক বা কর্মীরা তাঁর সঙ্গে সামান্যতম সহযোগিতা বা পাশে দাঁড়ান নি। তিনি চরম অপমানিত হয়ে পরদিন বালুরঘাটে এসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিস সুপারকে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন ওই পুলিস অফিসার ও সিভিকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরেই ওই পুলিস অফিসার তাঁর স্বামীকে সিভিকের কাজ থেকে বের করে দেবার হুমকি দেন বলে জানান। ঘটনায় ওই পুলিস অফিসার ও সিভিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। জেলা পুলিস সুপার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তের জন্য সার্কেল ইন্সপেক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কি কারণে এই ঘটনা ঘটল তা তদন্ত করে দেখা হবে। পাশাপাশি ওই মহিলার স্বামীর সঙ্গে ওই পুলিসের কোনো বিরোধ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

  • সাধারন ধর্মঘটের প্রথম দিন উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় মিশ্র সাড়া

    রায়গঞ্জ ৮ জানুয়ারি : কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি  ও কর্মচারী ফেডারেশানের ডাকে দুইদিনব্যাপী সাধারন ধর্মঘটের প্রথম দিন  উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর  জেলায় ও  মিশ্র সাড়া । আমাদের প্রতিনিধি সারাদিন ধরে ঘুরে ঘুরে যে চিত্র তুলে ধরেছেন তাতে দেখা যায়ঃ- উত্তর দিনাজপুরঃ রায়গঞ্জএ বড় বড় দোকান ও শো রুম গুলির ঝাপ ছিল বন্ধ। ছোটখাট কিছু কিছু দোকান পাট খোলা থাকলেও  বিভিন্ন পৌরবাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল তবে সরকারী অফিসগুলিতে হাজিরা ছিল স্বাভাবিক। বেশীরভাগ ব্যাঙ্কগুলি বন্ধ ছিল। যদিও ব্যাঙ্কগুলির সংগঠন এই ধর্মঘটকে সমর্থন করেছিল। জেলার অন্যান্য অংশেও জনজীবন মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল।জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মূল রাস্তার ধারে দোকানপাট গুলি বন্ধ থাকলেও ভিতরের অংশে দোকানপাট ও জনজীবন স্বাভাবিক ছিল। রায়গঞ্জে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল করল বামফ্রন্ট কর্মী-সমর্থকরা। সকাল আটটা নাগাদ মিছিল শুরু হয়। পাবলিক বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে এই মিছিল শেষ হবে শিলিগুড়ি মোড় পর্যন্ত। মিছিল আটকাতে গেলে ধর্মঘট সমর্থকদের সাথে ধস্তাধস্তি হয় পুলিশের। সকাল থেকে রাস্তায় বাম সমর্থকদের দেখা না মিললেও আটটা নাগাদ পথে নামে তারা। রায়গঞ্জের পাবলিক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কয়েকটি টোটো ও অটো আটকানো হয়। এরপর সক্রিয় হয় পুলিশ। ধর্মঘট সমর্থকদের গাড়ি আটকাতে বাধা দেয় তারা। শুরু হয় দু'পক্ষের ধস্তাধস্তি। এক কথায় বলা যায় জনজীবন স্বাভাবিক ও বন্ধের প্রথমদিন শান্তিপূর্ণ ভাবেই কেটেছে।    দক্ষিণ দিনাজপুরঃ উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ এর মত বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর হিলি প্রভৃতি সব জায়গায় জনজীবন স্বাভাবিক। রাস্তাঘাটে জনসাধারন চলচল করেছে খুব কম।রাস্তায় সরকারি বাসের সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশী ছিল কিন্তু বেসরকারি বাস চলাচল করেছে খুব কম। বড় বড় দোকান শোরুম বন্ধ থাকলেও ছোট ছোট দোকানগুলি বন্ধ ছিল। এদিকে ধর্মঘট সফল করতে  বামপন্থী বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও আইএনটিইউসির  পক্ষ থেকে  মিছিল করা হয় শহর জুড়ে।  সকালের দিকে কিছু কিছু জায়গায় বন্ধ সমর্থনকারীরা   রাস্তা  অবরোধ করার  চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু কড়া পুলিশি পাহারা থাকার জন্য  তাদের এই প্রচেস্টা সফল হয়নি। রাস্তার মোড়ে মোরে পর্যাপ্ত পুলিশ ও র‍্যাফ চোখে পড়েছে।   বন্ধ প্রসঙ্গে সাধারণ যাত্রীরা জানান  অন্যান্য দিনের তুলনায় অতিরিক্ত বাস চলছে আজ। তবে যাত্রীর সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ অনেকটাই কম। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম দিনের ধর্মঘটে কোন প্রভাব পড়েনি বলে জানান সাধারণ যাত্রীরা।       

  • ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র বিলি করে শাসকদলের প্রধান বিতর্কের মুখে।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ৬ জানুয়ারিঃ এনআরসি নিয়ে সারা দেশে আন্দোলনের  মাঝেই চলছে বাংলাদেশিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব বিলির কাজ। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বাংলাদেশিদের ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র বিলি করা হচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান জয়ন্তী পাহান সরকারী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র বিলি করছেন বলে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধীদের অভিযোগ। ভারতীয় সংবিধান অনুসারে কেবলমাত্র জন্মসুত্রে ও বিবাহসুত্রেই ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। জানা যায়, ভারতীয় নাগরিকদের শংসাপত্র প্রদানের ক্ষমতা ৮৫ সালের আগে দেশের প্রতিটি জেলার  জেলা শাসকদের হাতে ছিল। কিন্তু ৮৫ সালে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার সেই নিয়মের পরিবর্তন করে। কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদানের ক্ষমতা জেলা শাসকদের কাছ থেকে তা কেড়ে তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু কয়েকদিন আগেও ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিজে নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদান করছেন বলে অভিযোগ জানান বিরোধীরা। বিজেপির বালুরঘাট শহর তপশীল মোর্চার সভাপতি সুভাষ বর্মন তথ্য জানার অধিকার আইনে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন নাগরিকত্ব প্রদানের অধিকার প্রধানের রয়েছে কিনা তা জানতে । সে সময়েই ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে সচীব পরিস্কারভাবে জানিয়ে দেন ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদানের কোনো ক্ষমতাই নেই পঞ্চায়েত প্রধানের। সুভাষ বর্মন জানান, নির্বাচনে রিগিং করে এই গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় এসেছে একজন অসভ্য মহিলা। তিনি সরকারী নিয়মনীতির কিছুই জানেন না। যদিও প্রধান জয়ন্তী পাহান রিতিমতো সাংবাদিকদের সামনে জানান, নাগরিকত্বের শংসাপত্র বিলির তার অধিকার রয়েছে। যদিও ঘটনাটি জানতে পেরে হতবাক দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসক দীপাপ প্রিয়া পি। তিনি জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল। আগামী সোমবারেই তিনি ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন।

  • দাড়িভিটা কান্ডে হাইকোর্ট-র নির্দেশ মানতে অস্বীকার নিহতদের পরিবারের।

    ডেস্ক , ৫ জানুয়ারি : কলকাতা হাইকোর্ট-র নির্দেশে দাড়িভিট স্কুলে পঠনপাঠন স্বাভাবিক ও স্কুল গেটে লাগানো সব পোস্টার খোলার ব্যাপারে  দাড়িভিটেয়  নিহত দুই ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ইসলামপুর মহকুমাশাসক মণীশ মিশ্র। প্রায় ঘণ্টা তিনেক ধরে আলোচনা হলেও ফলপ্রসূ কোন সিদ্বান্ত বেরিয়ে আসেনি। সূত্রের খবর  নিহত দুই জনের মৃত্যুর  ন্যায্য বিচারের দাবিতে দুপুরের দিকেই স্কুল পড়ুয়ারা এলাকায় প্ল্যাকার্ডে হাতে মিছিল করে । প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তিরা  সেই সময় স্কুলে উপস্থিত ছিলেন । মিছিলে ছাত্রছাত্রীরা স্লোগান তোলে, "শহিদের রক্ত হবে নাকো ব্যর্থ।" মৃত রাজেশ বর্মণ ও তাপস সরকারের মৃত্যুর সুবিচার চাই। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, "মুখ্যমন্ত্রী ধিক ধিক ধিক্কার।"   প্রসঙ্গত কলকাতা হাইকোর্ট গত ৩ জানুয়ারি দাড়িভিট স্কুলে পঠনপাঠন স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেয় । সেইসঙ্গে স্কুল গেটে লাগানো সব পোস্টার খোলারও নির্দেশ দেওয়া হয়।  হাইকোর্ট-র এই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন রাজেশ-তাপসের পরিবার। গতকাল পোস্টার খুলতে গিয়ে  তাদের বাধার মুখে পড়েন পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। মৃতদের পরিবারের দাবি ছিল, মহকুমাশাসকের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে তবেই পোস্টার খোলা হবে। ঘটনার সিবিআই  তদন্তেরও দাবি করা হয়।  আলোচনা শেষে মহকুমাশাসক  বলেন, "হাইকোর্টের নির্দেশে গতকাল বিডিও সাহেব  এসেছিলেন। আজ আমি এলাম। কিন্তু ওঁরা পোস্টার সরাতে চাইছেন না।