উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর

  • বালুরঘাট অভিযাত্রী শিশু বিদ্যা নিকেতনের রজতজয়ন্তী বর্ষ উদযাপন

    বালুরঘাট, ১৬ মার্চ , সরোজ কুন্ডু :  বালুরঘাট  অভিযাত্রী শিশু বিদ্যা নিকেতনের পরিচালনায় মহাসমারোহে  পালিত হলো রজতজয়ন্তী বর্ষ ।  আজ থেকে ২৫ বছর আগে আজকের দিনই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রান্তিক শহর বালুরঘাটে ১৯৯৫ সালে অভিযাত্রী ক্লাব এন্ড লাইব্রেরী উদ্দোগে গড়ে ওঠে এই শিশু বিদ্যানিকেতন । পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে আজকের এই রজত জয়ন্তী বর্ষের শুভ শূচণা হয় । পতাকা উত্তোলন করেন অভিযাত্রী শিশু বিদ্যা নিকেতনের সম্পাদক সুমিত চক্রব্রতী । অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাট ললিত মোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ মুখার্জী ও বালুরঘাট অভিযাত্রী ক্লাব এর প্রাক্তন  সম্পাদক বিপ্লব দেব,  শান্তনু বোস , কল্যাণ দত্ত সহ অন্যান্য ক্লাব সদস্য ও   বিশিস্ট জনেরা । পতাকা উত্তোলনের পর বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিশুদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বালুরঘাট  শহর পরিক্রমা করে এবং শোভাযাত্রায় পরিবেশ স্঵স্থ্য    ও শিক্ষা বিষয়ক দুটি ট্যাবলো সহ বিদ্যালয়ের শিশুরা শহরের দুটি জায়গায় পথনৃত্য  পরিবেশন করে এবং বালুরঘাট বাসির কাছে খুব  প্রশংসীত হয় ।

  • বালুরঘাট সংশোধনাগার থেকে ২১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার,নিরাপত্তার দাবীতে অনশণে বন্দীরা

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৩ মার্চ:  বালুরঘাট সংশোধনাগারের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের মোবাইলগুলি লুকিয়ে রেখে সেখান থেকেই চালাত বাইরের জগতের সঙ্গে নেটওয়ার্ক। বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এক হাজার বন্দী রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকজন দাগী আসামী।  সংশোধনাগারের তল্লাসীর সময়ে ভেতরে রাখা ২১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল।  রায়গঞ্জের বাসিন্দা মহঃ আলমগীর নামে এক বন্দীর কাছ থেকেও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। বাকিরা অন্যত্র লুকিয়ে রেখেছিল সেগুলি। মহঃ আলঙ্গীর কাছ থেকে উদ্ধারের পরে তা নিয়ে বালুরঘাট থানায় অভিযোগ জানানোর পরেই বালুরঘাটের বন্দীরা অনশনে বসে। মঙ্গলবার দিনভর অনশন চালায় সংশোধনাগারের বন্দীরা। পরে সংশোধনাগারের জেলরের সঙ্গে কথা বলার পরে বুধবার বিকালে অনশন প্রত্যাহার করে নেয় বন্দীরা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই বালুরঘাটের এই কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সংশোধনাগারের তরফে নিরাপত্তার জন্য ২০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েম করা হয়েছে। এছাড়াও সংশোধনাগারের ভেতরে তল্লাসীর জন্য ১৪ জনের একটি বিশেষ দল তৈরী করা হয়েছে বলে জানা যায়। যারা নিয়মিত তল্লাসী চালাবেন এই সংশোধনাগারে। বর্তমানে বালুরঘাটের এই সংশোধনাগারে রয়েছেন বাংলাদেশি সহ প্রায় এক হাজার বন্দী। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কুখ্যাত অপরাধী রয়েছেন। সংশোধনাগার সুত্রে জানা যায়, এই সব দাগী অপরাধীদের জন্য বালুরঘাটের এই কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে উঁচু পাঁচিল রয়েছে। তবুও এই পাঁচিলের ভেতরেই তাদের লোকজন মোবাইল ছুঁড়ে ফেলে দেয়। যা দিয়েই তারা বাইরের লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এই সব দাগী অপরাধীরা এই সব মোবাইলগুলি বাইরেই গোপন জায়গায় রেখে দিতেন। রায়গঞ্জের বাসিন্দা মহঃ আলমগীর নামে এক বন্দীর কাছ থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। এরপরেই জেলার বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার পরেই তিনি জানতে পারেন যে বর্তমানে সাজার মেয়াদ ফুরালোও সংশোধনগারে মোবাইল ব্যবহারের জন্য ফের জেল হেফাজতে থাকতে হবে। এরপরেই সংশোধনাগারের সকল বন্দীরা একজোট হয়ে অনশন শুরু করেন। জেলার শ্যামল তালুকদার জানান, এই সব মোবাইল পাবার ঘটনা পাঁচিলের বাইরে থেকে ভেতরে মোবাইল ছুঁড়ে দেবার কারণেই ঘটেছে। যাতে এই ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য বালুরঘাট সংশোধনাগারের পাঁচিলের চারপাশে মোট ২০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার নজরদারীর জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়াও ভেতরে নজরদারীর জন্য ১৪ জনের একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা ভেতরে নিয়মিত তল্লাসী চালাবেন। বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সুপারিনটেন্ডেন্ট দরজি ভুটিয়া জানান, আবাসিকরা অনশন করলেও তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে  সমস্যা মেটানো হয়েছে। তবে ভেতরে আর কোনো মোবাইল রয়েছে কিনা তা দেখতে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সুপারিনটেন্ডেন্ট জানান।

  • পড়া না পারায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ঝাঁড়ু দিয়ে মারার অভিযোগ।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৩ ফেব্রুয়ারিঃ পড়া না পারায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পেটানোর অভিযোগ উঠল বাংলা বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষকের এই আচরণের প্রতিবাদে  শনিবার অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের বরকইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনা। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম বিশ্বজিৎ মন্ডল। মালদা জেলার বাসিন্দা ওই শিক্ষক কয়েকমাস আগে বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক পদে যোগ দেন বলে স্থানীয় অভিভাবকরা জানান। পড়া বলতে না পারায় শুক্রবার ঝাঁড়ু দিয়ে মারেন বিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রীকে।  ঠাকুরপুরার বাসিন্দা অজয় সরকার নামে এক অভিভাবক জানান, শুক্রবার  শিক্ষক বিশ্বজিৎ মন্ডল ছাত্রীদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলেন। উত্তর দিতে না পারায়  ঝাঁড়ু দিয়ে মারধোর করেন ৫ ছাত্রীকে। এতে জখম হয় সোনালী সরকার নামে এক ছাত্রী। তার হাতে আঘাত লাগে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই শনিবার সকালে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ দাস জানান, ছাত্রীদের মারধোরের কথা জেনেছেন। যদিও ঘটনার সময়ে তিনি বিদ্যালয়ে হাজির ছিলেন না। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিদ্যালয়  পরিদর্শকের অফিসে ছিলেন। রাতে বাড়ি ফিরেই তিনি জখম ছাত্রী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধান শিক্ষক জানান, পড়া না পারায় ছাত্রীদের পেটান ওই শিক্ষক। যদিও এই ঘটনাকে সমর্থন না করে তিনি ওই শিক্ষকের সঙ্গেও কথা বলেছেন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ও তাদের অভিভাবকদের কাছে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক। (ছবিতে বিদ্যালয়ের সামনে অভিবাবকদের জমায়েত)

  • খাঁড়ি থেকে সরকারী অর্থে কাটা মাটি ইঁটভাটায় বিক্রি করে দেবার অভিযোগ

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২২ ফেব্রুয়ারিঃ খাঁড়ি থেকে সরকারী অর্থে কাটা মাটি ইঁটভাটায় বিক্রি করে দেবার অভিযোগ উঠল। অভিযোগের পরেই ঘটনার তদন্তে নেমে বালুরঘাট থানার পুলিশ মাটি সহ দুটি ট্রাক্টর আটক করে বালুরঘাট থানায় নিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুরে বালুরঘাটের ডাঙ্গা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।  জানা যায়, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর বালুরঘাট শহরের আত্রেয়ী নদীর সংযোগকারী ডাঙ্গা খাঁড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করেছে দুদিন আগে থেকে। আত্রেয়ী নদী থেকে বালুরঘাট ব্লকের জঙ্গলপুর পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার এই খাঁড়ির সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই ৮ কোটি টাকা বরাব্দ করা হয়েছে দপ্তরের তরফে। জেলা সেচ দপ্তরের তত্বাবধানে এই কাজে খাঁড়ি থেকে যে মাটি তোলা হবে তা খাঁড়ির দুপাড় উঁচু ও চওড়া করার পাশাপাশি অতিরিক্ত মাটি সরকারী কাজে ব্যবহার করা হবে। সেইমতো কাজ শুরুর পরেই স্থানীয় লোকজন দেখতে পান, যে পরিমান মাটি তোলা হচ্ছে খাঁড়ি থেকে তার বেশিরভাগই এক ঠিকাদারের মাধ্যমে স্থানীয় এক ইঁটভাটায় পাঠানো হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে এলাকার লোকজনই বাধা দেন। এরপরেই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য বালুরঘাট থানায় ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরেই পুলিশ সেখানে এসে হাতেনাতে দুই ট্রাক্টর ধরে ফেলে। ট্রাক্টরদুটিকে মাটি সমেত সেখান থেকে আটক করে বালুরঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

  • তেভাগা আন্দোলনের খাঁপুরের শহীদ কৃষকদের আত্মবলিদান দিবস উদযাপন

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ তেভাগা আন্দোলনে যোগ দিয়ে বালুরঘাট থানার খাঁপুরের শহীদ কৃষকদের আত্মবলিদান দিবসে জেলার সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি অনুষ্ঠানে যোগ দিল। এ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল এদিন খাঁপুরে।  ৪৭ সালের আজকের দিনে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে তেভাগা আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন খাঁপুরের ২২ জন কৃষক। কিন্তু শহীদ এই সব পরিবারের হাল ফেরেনি আজও। সরকারী সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই সব পরিবারগুলি। যদিও প্রতিবছরই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয় বছরের এই দিনটিতে। নিজেদের রক্তে বোনা ধানের তিন ভাগের দাবিতে এই আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। এলাকার কৃষকরা খাঁপুরের জমিদার ও ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল। কৃষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমানোর জন্য শেষমেশ পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। এই ঘটনায় এলাকার তরতাজা ২২ জন যুবক-‌যুবতী প্রাণ হারিয়েছিল। স্বাধীনতার পরেও দীর্ঘদিন ব্রাত্য  ছিল এই এলাকা। যদিও পরে খাঁপুরের শহীদদের স্মৃতিতে সেখানে একটি শহীদ বেদি গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই ফলকের প্রথমেই রয়েছে শহীদ যশোদা রানী সরকারের নাম। যশোদা রানী সরকারের ছেলে ৯৪ বছরের বৃদ্ধ দেবেন্দ্র নাথ সরকার জানান, তিনি কোনোরকম সরকারী সাহায্য পান না। অতিকষ্ট দিন কাটে তার। শহীদ ভাদু বর্মনের ছেলে অধীন বর্মন নিজে এখন অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে দিনযাপন করেন। খাঁপুরের বাসিন্দা অধীর বর্মন ও তাঁর স্ত্রী বীনা বর্মন জানান, তাদের পরিবারের দুজন তেভাগা আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু কোনরকম সরকারী সাহায্যই মেলেনা। ফলে অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে দিনযাপন করতে হয় তাদের। যাদের আন্দোলনের ফলে আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাদের লড়াই এর ফলে কৃষকরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছে আজ সেই সব শহীদদের পরিবারই ব্রাত্য। সরকারের তাদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার লোকজন। 

  • জল সহায়করা ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসককে।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ জল সহায়করা তাদের মাসিক বেতন ও বীমা সুরক্ষা প্রদান সহ মোট ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসককে। জেলার সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্ত গ্রামগুলি থেকে  নলকূপগুলির জল সংগ্রহের জন্য জলবন্ধু নিয়োগ করা হয়েছে বেশ কয়েকবছর আগে । জলবন্ধুরা বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে নলকূপগুলির জল সংগ্রহ করে। পরে সেগুলি পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামপঞ্চায়েতের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে জল সংগ্রহ করলেও তাদের অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে। ওয়াটার ফেসিলিটেটররা পশ্চিমবঙ্গ ওয়াটার ফেসিলিটেটর ইন মনিটরিং ওয়েলফেয়ার সংগঠন গড়ে স্মারকলিপি জমা দিল। সংগঠনের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি তৃপ্তি সরকার জানান, মাসিক বেতন ও বীমা সুরক্ষা প্রদান করা, সচিত্র পরিচয়পত্র প্রদান, ভলেন্টিয়ার ফেসিলিটেটর নাম বাদ দিয়ে ওয়াটার ফেসিলিটেটর নাম দেওয়া, পঞ্চায়েতের অন্যান্য কাজে যুক্ত করা সহ ‌মোট ৫ দফা দাবিতে জেলা শাসকে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। যাতে তাদের কাজ থেকে বাদ না দেওয়া হয় সেজন্য তারা এদিন স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। ‌

  • মাধ্যমিকের অংক পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।

    অজয় সরকার, গঙ্গারামপুর, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ মাধ্যমিকের অংক পরীক্ষা খারাপ দিয়ে মানসিক অবসাদের জেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। গঙ্গারামপুর থানার পূর্ব বেলবাড়ি এলাকার ঘটনা। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মৃত ওই ছাত্রের নাম অন্তর শীল(‌১৮)‌। বাবা আনন্দ শীল কৃষিকাজ করেন। পরিবারের এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে অন্তর বড়। গঙ্গারামপুর থানার বোড়ডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছিল সে। নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার আসন বসেছিল অন্তরের। অন্তরের মা তুলসী শীল জানান, বাংলা, ইংরেজী পরীক্ষা ভালো হলেও এবারে অংক পরীক্ষা খারাপ হয়েছিল। এরপর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিল সে। কিন্তু সে বাড়িতে এ ঘটনা ঘটাবে তা কেউই বুঝে উঠতে পারে নি। বুধবার সকালে অন্তরের বাবা আনন্দ শীল ও মা তুলসী দেবী জমিতে গিয়েছিলেন সরষে তুলতে। বাড়িতে তখন বোন ঈশিতা একাই ছিল। অনেক বেলা হয়ে গেলেও দাদা ঘুম থেকে না ওঠায় তাকে ডাকাডাকি শুরু করে। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া না মেলায় সে ঘরের দরজার নীচ দিয়ে উঁকি মেরে দেখতে চেষ্টা করে। সে সময়েই দাদার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। ঈশিতার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। খবর পেয়ে বাবা ও মা দুজনেই জমি থেকে চলে আসেন। প্রতিবেশীরাই ঘরের দরজা ভেঙ্গে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। তড়িঘড়ি গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎস মৃত বলে জানায়। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। অন্তরের বোন ঈশিতা জানায়, ঘরে রাতে একাই থাকত দাদা। এদিন সকালে ঘুম থেকে না ওঠায় ডাকতে গিয়ে দেখতে পায় গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে সে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। ‌  

  • পরিষেবার উন্নয়নের জন্য বালুরঘাট স্টেশন পরিদর্শনে উত্তর-‌পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার

    newsbazar24: অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৯ ফেব্রুয়ারিঃ বালুরঘাট হিলি রেলপথ সম্প্রসারণের,পরিষেবার উন্নয়নের জন্য বালুরঘাট স্টেশন পরিদর্শনে এলেন উত্তর-‌পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার। এদিন দুপুরে বালুরঘাটে আসেন তিনি। বালুরঘাট সার্কিট হাউসে আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক সভা করেন। পরে বালুরঘাটের ডাঙ্গী এলাকায় বালুরঘাট হিলি রেলপথের আত্রেয়ী নদীর উপরে রেলের ওভার ব্রীজের জায়গা পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি সেখান থেকে হিলির উদ্দেশে রওনা দেন জেনারেল ম্যানেজার। হিলির লস্করপুরে জাতীয় সড়কের উপর রেলের ওভার ব্রীজের প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেন তিনি। পরে তিনি হিলির আপ্তৈর এলাকায় প্রস্তাবিত রেলস্টেশনের কাজ দেখতে যান তিনি। হিলির এই রেলস্টেশনের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের রেলপথ। ভবিষ্যতে যাতে এদেশের রেলপথের সঙ্গে বাংলাদেশের রেলপথ যুক্ত করা যায়, সেই বিষয়টিও তিনি খতিয়ে দেখেন। হিলিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্পে রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। হিলির আপ্তৈর এলাকাতেই তৈরী করা হবে হিলি স্টেশন ও রেক পয়েন্ট। রেলের জায়গার সমস্যা হলে প্রয়োজনে হিলির আপ্তৈর সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ক্যাম্প অন্যত্র সরানোর জন্যও আলোচনা করেন সীমান্তরক্ষী আধিকারিকদের সঙ্গে। জানা যায়, হিলি বালুরঘাট রেলপথ সম্প্রসারণের জন্য ৪১০ একর জমি অধিগ্রহন করা হবে। এজন্য জেলা প্রশাসনের তরফে গত জুলাই মাসে নবান্নে আইজি রেজিস্ট্রেশনের কাছে জমির মূল্য নির্ধারণের জন্য তা তার অনুমোদনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমতি এলেই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে বলে জেলা জমি অধিগ্রহন আধিকারিক দেবজিৎ বসু জানান। উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার নীলেশ কিশোর প্রসাদ জানান, হিলি বালুরঘাট রেলপথের জমি অধিগ্রহনের আগে জমির মূল্য নির্ধারণ করার প্রয়োজন। একাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নবান্নের অনুমতি পেলেই জমি অধিগ্রহন করে রেলের কাজ শুরু হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই জমির ক্ষতিপূরণ দেবার কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

  • মাধ্যমিকের অঙ্কের খাতা টেনে নিতে গিয়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল এক পরীক্ষকের বিরুদ্ধে

    Newsbazar24: অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৮ ফেব্রুয়ারিঃ মাধ্যমিকের অঙ্কের খাতা টেনে নিতে গিয়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল এক পরীক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল বালুরঘাট খাদিমপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। সোমবার ছিল মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা। এবারে উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আসন বসেছিল ওই বিদ্যালয়ে। ছাত্রীদের অভিযোগ, পরীক্ষার শেষে ওই ছাত্রীর খাতা ছিঁড়ে দেন পরীক্ষক দিদিমনি। এই ঘটনার পরেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুপ্রীতি সরকার। জানা যায়, পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ওই ছাত্রী। খাতা ছিঁড়ে যাওয়ায় অঙ্কের ফল কি আসবে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে বিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। বিষয়টি জানতে পেরেই বিদ্যালয়ের বাইরে অপেক্ষারত ছাত্রীদের অভিভাবক-‌অভিভাবিকারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। খবর পেয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে বালুরঘাট থানার পুলিশ হাজির হন সেখানে। এবারের মাধ্যমিকের বালুরঘাট সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ন কুন্ডু ছুটে আসেন সেখানে। গোটা বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। খাদিমপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোমা সরকার জানান, ইচ্ছে করে ওই পরীক্ষার্থীর খাতা ছেঁড়া হয়নি। পরীক্ষার শেষ বেল বাজার পরে তার কাছ থেকে খাতা নিতে যাবার সময়েই তা ছিঁড়ে যায়। বিষয়টি জানার পরেই ওই খাতাটি সেলোটেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও খাতার উপরে বিদ্যালয়ের তরফে একটি নোট দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনরকম সমস্যা না হয় ওই ছাত্রীর। অভিভাবকদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পরে বিক্ষোভ থামে। বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ওই পরীক্ষার্থী সুপ্রীতি সরকার জানান, পরীক্ষার পরে আচমকাই খাতা জোর করে টেনে নিতে গিয়ে সেটি ছিঁড়ে ফেলেন এক শিক্ষিকা। পরীক্ষার কি ফল আসবে তা ভেবে পাচ্ছে না সে। গোটা ঘটনা নিয়ে চিন্তিত ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকেরা।

  • নিজের ফেসবুক ওয়ালে জওয়ানদের নিয়ে বিতর্কিত তথ্য শেয়ার করার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

    Newsbazar24: অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৭ ফেব্রুয়ারিঃ বালুরঘাট শহরের এক তৃণমূল নেতা নিজের ফেসবুক ওয়ালে জওয়ানদের নিয়ে বিতর্কিত তথ্য শেয়ার করার অভিযোগ উঠল। রবিবার এনিয়ে বালুরঘাট থানায় ওই তৃণমুল নেতার নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বালুরঘাট নিবাসি তথা গৌড়বং ইউনিভারসিটির এক প্রফেসার সুকান্ত মজুমদার। ঘটনায় এদিন ওই তৃণমূল নেতাকে প্রাথমিকভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে বালুরঘাট থানার পুলিস। ধৃত ওই নেতাকে তড়িঘড়ি তার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তরিঘরি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন গঙ্গারামপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা সত্যেন্দ্রনাথ রায়। রবিবার সকালে বালুরঘাট শহরে এই ঘটনা ঘটে। ধৃত ওই তৃণমূল নেতার নাম শান্ত সরকার। বালুরঘাটের তৃণমূলের এসসি এসটি সেলের টাউন সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এ মাসের ১৪ তারিখে কাশ্মীলের পুলওয়ামায় জঙ্গীদের হাতে ৪২ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহীদ হয়েছেন। এই ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। এর মাঝেই এদিন সকালে স্থানীয় লোকজন দেখতে পান শান্ত সরকার নামে তৃণমূলের এসসি এসটি সেলার বালুরঘাট টাউন সভাপতির ফেসবুক ওয়ালে লেখা রয়েছে কাশ্মীরের ভারতীয় জওয়ানরা ১৪ হাজার কাশ্মীরি মুসলমানদের হত্যা করেছে ও ১০ হাজার কাশ্মীরি মহিলাকে ধর্ষণ করেছে। বিতর্কিত ওই তথ্য ফেসবুকে নিজের ওয়ালে পোস্ট করতেই নিন্দার ঝড় ওঠে সর্বত্রই। সমালোচনার ঝড় ওঠে ফেসবুকে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি নিজের ওয়াল থেকে তা মুছে দেন। এমনকি বিষয়টি সামাল দিতে পরে নিজের ফেসবুকে জওয়ানদের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন। কিন্তু এই তথ্য জানাজানি হবার পাশাপাশি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ সুকান্ত মজুমদার নিজে সেটির স্ক্রিন শট নিয়ে ওই নেতার বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরেই দলের এসসি এসটি সেলের বালুরঘাট টাউন সভাপতির পদ থেকে তার সরিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতা তথা গঙ্গারামপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সত্যেন্দ্র নাথ রায় জানান, দেশের বিরুদ্ধাচারণ কখনই মেনে নেওয়া যায় না। বিতর্কিত ওই পোস্টের জন্য তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য জেলা সভাপতির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ সুকান্ত মজুমদার জানান, সেনাকে কলুষিত করতে এধরণের মিথ্যা অপপ্রচার কখনই মেনে নেওয়া যায় না। বালুরঘাট থানায় তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও পুলিসি অভিযোগের পরেই ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বালুরঘাট থানার পুলিস সুত্রে জানা যায়, ধৃত ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বালুরঘাট থানায় আনা হয়েছে। তবে এখনও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।