উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর

  • শুরু হল ডিওয়াইএফআই এর দুদিনের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সম্মেলন

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৯ সেপ্টেম্বর: বুধবার থেকে শুরু হল ডিওয়াইএফআই এর দুদিনের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সম্মেলন। বুধবার সন্ধ্যায় বালুরঘাটের উৎসব ভবনে এই সম্মেলনের শুরু হয়। তার আগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রকাশ্য সভায় বক্তব্য রাখেন ডিওয়াইএফআই এর রাজ্য সভাপতি সায়নদীপ মিত্র। তিনি জানান, রাজ্যের নানা প্রান্তে জামাতের মতো জঙ্গী সংগঠনগুলির কায়দায় স্থানীয় লুম্পেনদের সাহায্য নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জেলাপরিষদ দখল করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল ও বিজেপির কড়া সমালোচনা করে সায়নদীপ বলেন, বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস একই মুদ্রার দুই পিঠ। তবে মূল অপরাধী তৃণমূল কংগ্রেস। তারাই খাল কেটে বিজেপিকে এ রাজ্য ডেকে আনছে। দেশে একদিকে যেমন বেকারত্ব বাড়ছি। প্রতিদিন বেকার যুবকরা কাজ হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়ছে। দাম বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যেরও। ইতিমধ্যেই সারাদেশে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেশের মানুষ তাদের হিসাব বুঝে নেবে বলে তিনি জানান। বিজেপির প্রতিবাদ করলেই দেশের মানুষকে পাকিস্থানী বলে মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি, সিপিএম সাংসদ মহঃ সেলিমকেও পাকিস্থানী বলায় তার প্রতিবাদ করে সায়নদীপ জানায়, মহঃ সেলিম দেশকে বাচানেওয়ালা পাকিস্থানী, দেশকে বেচনেবালা হিন্দুস্থানী নন। এদিনের প্রকাশ্য সভায় সায়নদীপ ছাড়াও মানব মুখার্জী উপস্থিত ছিলেন।

  • ভুয়ো সংশাপত্র দেখিয়ে শিক্ষিকাদের নিয়োগপত্র বাতিলের দাবীতে স্কুল ঘেরাও

    অজয় সরকার, দক্ষিণ দিনাজপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর: তপশীলি উপজাতি ভুক্ত ভুয়ো সংশাপত্র দেখিয়ে নিয়োগ হওয়া শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়োগপত্র বাতিলের দাবীতে স্কুল ঘেরাও এবং পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল জেলার আদিবাসী সংগঠনগুলি। বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরামের বাহিচা হাই স্কুলের সামনে ৫১২ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় সংগঠনগুলি। আসেকা, অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদ সহ অন্যান্য আদিবাসী সংগঠনগুলির সদস্যরা এদিন তীর, ধনুক, লাঠি নিয়ে একত্রিতভাবে পতিরাম এলাকার বাহিচা উচ্চ বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। আদিবাসী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তপশীলি উপজাতি ভুক্ত ভুয়ো সংশাপত্র নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বাহিচা উচ্চ বিদ্যালয়, খাসপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বড়ম উচ্চ বিদ্যালয়, ডাঙ্গারহাট উচ্চ বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, এবং বড়কইল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক -শিক্ষিকা পদে মোট যে সাত জন শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ করা হয়েছে সেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগপত্র এবং ভুয়ো সংশাপত্র বাতিলের দাবী তোলা হয় আদিবাসী সংগঠনগুলি পক্ষ থেকে। আদিবাসী সংগঠন আসেকার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলা সভাপতি মদন মুর্মু বলেন, আমরা এর আগেও জেলা শাসক এবং মহকুমা শাসককে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু কোন সুরহা হয়নি। কোন উপায় না দেখে আমরা পথে নামতে বাধ্য হয়েছি। এদিন দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ৫১২ নং জাতীয় সড়ক। ঘটনার খবর পেয়ে বালুরঘাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী বাহিচা এলাকায় পৌছায়। আন্দোলনকারীদের দাবীতে এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌছান বালুরঘাট মহকুমা শাসক সহ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা আরক্ষাধিক্ষক। এরপর বালুরঘাট মহকুমার মহকুমা শাসক ঈশা মুখার্জির সঙ্গে আলোচনায় বসে আদিবাসী সংগঠনগুলির ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল। মহকুমা শাসকের আশ্বাসে এরপর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

  • শতাব্দী এক্সপ্রেসে শতাব্দীর সেরা খাবার, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

    সরোজ কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৮ সেপ্টেম্বর : শতাব্দি এক্সপ্রেসে মেয়াদ উত্তীর্ণ শুকনো খাবারের প্যাকেট বিলির অভিযোগ গেল রেল দপ্তরে। গতকাল মালদা থেকে কোলকাতা যাবার পথে অমন খাবারের প্যাকেট পান যাত্রিরা। স্টিকার সাটা মেয়াদ উত্তীর্ন খাবার বিলি করার অভিযোগ ওঠে রেলকর্মীদের বিরুদ্ধে l ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮তারিখে খাবারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও কেন সেগুলি বিলি করা হচ্ছিলো, সেই প্ৰশ্ন করতেই রেলকর্মীরা তড়িঘড়ি খাবার বদলে দেন যাত্রিদেরl তবে খাবার বদলে দিলেও রেল দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন যাত্রীরা l এই নিয়ে ট্রেনে হই চই শুরু হয়। রেলে খাবার নিয়ে অভিযোগ এই প্রথম নয়, দেশ জুড়েই রেলে বিভিন্ন খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হতে দেখা যায় যাত্রীদের l তবে শতাব্দী এক্সপ্রেসেও এমন ঘটনা ঘটায় অবাক যাত্রীরা l অভিযোগ, গতকাল সকালে ব্রেকফাস্ট দেওয়ার পর, সাড়ে দশটা নাগাদ 'সি সেভেন ' কামরায় যাত্রীদের সুপ্ ও শুকনো খাবারের প্যাকেট 'মিলস অন হুইলস' নামে একটি করে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিলি করা হয় যাত্রীদের I রেলের স্টিকার সাঁটা ওই খাবারের প্যাকেটে স্পষ্ট লেখা আছে মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ l বালুরঘাটের বাসিন্দা পিন্টু কুন্ডুও কলকাতা যাচ্ছিলেন l তিনিও এই মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার পান l তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলে রেলদপ্তরে অভিযোগ জানান l তিনি বলেন, শতাব্দী এক্সপ্রেসকে ভরসাযোগ্য ট্রেন হিসাবেই মনে করা হয় l তবে সকাল থেকে যে খাবার গুলি পরিবেশন করা হচ্ছিলো, সেগুলি অত্যন্ত নিম্নমানের l পরে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার পরিবেশন করা হয় l এমন টা আশা করা যায় না l

  • জঙ্গল থেকে এক সদ্যোজাত শিশু উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য

    অজয় সরকার, ১৬ সেপ্টেম্বর: রবিবার ভোর রাতে বালুরঘাট শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের চকভবানি রঘুনাথপুর এলাকায় জঙ্গল থেকে এক সদ্যোজাত শিশু উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। এদিন ভোর তিনটা নাগাদ জঙ্গল থেকে শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনতে পেরে স্থানীয় বিউটি চক্রবর্তি ও তার স্বামী মিঠুন চক্রবর্তি টর্চ নিয়ে গিয়ে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে। খবরটি জানাজানি হতেই বালুরঘাট থানার পুলিশ এলাকায় পৌছে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে ও বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। কে বা কারা এই বাচ্চাটিকে ওভাবে রেখে যায় তা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। বালুরঘাট হাসপাতালের সুপার তপন বিশ্বাস জানান, শিশুটিকে সুস্থ রাখার জন্য এসএনসিইউয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে। উদ্ধারকারী মহিলা বিউটি চক্রবর্তি জানান, ভোরে শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায়। স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ঝোপের মধ্যে দেখতে পাই একটি ফুটফুটে শিশু কাঁদছে। শিশুটিকে পিঁপড়ে ছেঁকে ধরেছে। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে গিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশ এসে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বালুরঘাট থানার আইসি সঞ্জয় ঘোষ জানান, বালুরঘাট চকভবানি রঘুনাথপুর এলাকায় একটি সদ্যজাত শিশু উদ্ধার হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

  • বেসরকারি হাসপাতালের গাফিলতিতে সাংবাদিকের স্ত্রীর মৃত্যু, অভিযোগের তদন্ত শুরু

    সরোজ কুন্ডু, বালুরঘাট,১৬ সেপ্টেম্বর : বালুরঘাটের সাংবাদিকের স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্ত শুরু করলো রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর l শুক্লা পাল নামে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিলেন স্বামী প্রদীপ পাল I প্রদিপ বাবু একটি সাপ্তাহিক সংবাদ পত্রের সম্পাদক। এবারে ওই অভিযোগেরই তদন্ত শুরু হল l রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর একটি চিঠি দিয়ে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মৃতা শুক্লা পালের চিকিৎসা সংক্ৰান্ত নথি নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন l ওই চিঠির প্রতিলিপি এসে পৌঁছেছে বালুরঘাট শহরের ব্রতিসংঘ পাড়ার বাসিন্দা তথা সাংবাদিক প্রদীপ পালের কাছে l এদিন চিকিৎসার গাফিলতিতে স্ত্রীকে হারিয়ে বিষণ্ণ ওই সাংবাদিক সরকারি ভূমিকায় কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন l প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসে কিডনিজনিত সমস্যার চিকিৎসা করাতে কলকাতার ওই বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্ত্রী শুক্লা পাল কে ভর্তি করান সাংবাদিক প্রদীপ পাল I কিন্ত ওই হাসপাতালে ভরতি করার পর গলায় দুটো ফুটো করা সহ একগুচ্ছ গাফিলতি সামনে আসে I অভিযোগ,এর জেরেই রোগিণীর 29 জুলাই মৃত্যু হয় I প্রদীপ বাবু ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন I এছাড়াও ভুল চিকিৎসাতে মৃত্যুর পরেও, ১১ লক্ষ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়ারও প্রতিবাদ করেন প্রদিপবাবু I এতদিনে ওই অভিযোগের তদন্ত শুরু হল। প্রদীপবাবু বলেন, রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নথি সহ ডেকে পাঠিয়েছে l

  • সর্প দংশনের নয় ঘন্টা পরে চিকিৎসা শুরু করেও মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরলো আড়ায় বছরের শিশু

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৫ সেপ্টেম্বর— সর্প দংশনের নয় ঘন্টা পরে চিকিৎসা শুরু করে আড়াই বছরের শিশুকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনল বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা। হাসপাতালের কর্মী ও নার্সরা টানা ৬ ঘন্টা ধরে চেষ্টা চালিয়ে ওই শিশুকে সুস্থ্য করে তোলেন। বালুরঘাট হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই কাজ সাড়া ফেলে দিয়েছে জেলা জুড়ে। বর্তমানে শিশুটি বর্তমানে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি সুস্থ আছেন। জানা যায়, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের মদনপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই শিশুর নাম শাকিব সরকার। গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁকে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা যায়, ১০ তারিখ রাতে ঘুমের সময়েও শাকিবের পায়ে ছোবল মারে এক বিষাক্ত সাপ। কিন্তু ক্ষতস্থান দেখতে না পাওয়ায় রাতে শাকিব অসুস্থ হয়ে পড়লেও পরিবারের লোকেরা তা বুঝে উঠতে পারেন নি। রাত যতই বাড়তে থাকে, ততই তাঁর শরীর অবশ হয়ে যায়। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। সকালে বিষয়টি অনুমান করতে পেরে তাঁকে তপন ব্লক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকেই রোগীর অবস্থা বেগতিক বুঝে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু বালুরঘাটে আসার পথে ওই শিশুর শ্বাসকষ্টও বন্ধ হয়ে যায়। এরপরেই রোগীর পরিবারের লোকেরা একপ্রকার নিশ্চিত হন যে সে হয় মারা গেছে। সকাল সাড়ে ৯ টা নাগাদ বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আনার সঙ্গে সঙ্গেই কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সমীরণ পুরকায়েত চিকিৎসা শুরু করেন শাকিবের। চিকিৎসক সমীরন পুরকায়েত জানান, শিশুটিকে প্রাথমিক পরীক্ষার পরে একপ্রকার নিশ্চিত হন যে সে তখনও বেঁচে রয়েছে। এরপরেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় তার চিকিৎসা। শিশুটির বাবা রুবেল সরকার ও মা শাবিনা বিবি জানান, যেহুতু শিশুদের ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নেই, সেকারণে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসনালিতে বাতাস পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। একাজে কর্তব্যরত নার্স থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন বলে তিনি জানান। পাশাপাশি শাকিবকে এ্যান্টি স্নেক ভেনাস ইনজেকশন দেওয়া হয়। এভাবে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়ার প্রায় ৬‌ ঘন্টা পরে তাঁর শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়। ধীরে ধীরে সুস্থ্য হয়ে ওঠে সে। শাকিবের বাবা রুবেল ও মা শাবিনা বিবি জানান, যেভাবে চেষ্টা করে হাসপাতালের চিকিৎসক তার সন্তানের জীবন ফিরিয়ে দিলেন তাতে ওই চিকিৎসক ও তাদের টিমের কাছে তারা সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন। হাসপাতাল সুপার ডাঃ তপন কুমার বিশ্বাস জানান, যেভাবে হাসপাতালে আসা একটি মৃতপ্রায় শিশুকে চেষ্টা করে জীবন ফিরিয়ে দিলেন তাতে হাসপাতালে চিকিৎসদের সদিচ্ছা ফের প্রমাণিত হল।

  • আবার ঋতব্রত ব্যানার্জীর অস্বস্তি বাড়ালেন বালুরঘাটের নম্রতা

    সরোজ কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৫ সেপ্টেম্বর : রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত ব্যানার্জীর অস্বস্তি বাড়ালেন বালুরঘাটের যুবতী নম্রতা দত্ত lএবারে নেদারল্যান্ডসের মুখ্য পুলিশ আধিকারিকের কাছে এবং মানবাধিকার কমিশন এ ঋতব্রত ব্যানার্জীর নামে ধর্ষণের অভিযোগ জানালেন lতিনি ই -মেইল এর মাধ্যমে অভিযোগ জানান l যদিও নম্রতা গত বছরের অক্টোবর মাসেই এই অভিযোগ বালুরঘাট থানা সহ মুখমন্ত্রী ও অন্যান্য মহলে করেছিলেন l বর্তমানে ওই মামলাটি সিআইডির হাতে রয়েছে lগত বছর নভেম্বর মাসেই ওই মামলায় বালুরঘাট আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন সাংসদ ঋতব্রত ব্যানার্জী l এরপর তিনি বিয়েও সেরে ফেলেছেন, কিন্তু সিআইডি আজও চার্জশিট জমা করেনি বলে অভিযোগ নম্রতার l প্রসঙ্গত, বালুরঘাটের এক তরুণী নেদারল্যান্ডসে পাঠরত l ভারতে থাকাকালীন ঋতব্রত ব্যানার্জীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে l অভিযোগ বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ভারতে ও নেদাল্যান্ডসে একাধিকবার ধর্ষণ এবং টাকা হাতিয়েছে ঋতব্রত lগত অক্টোবর মাসে এই মামলা করেন নম্রতা নামে ওই তরুণী lবর্তমানে সিআইডির হাতে থাকা ওই মামলা বিচারাধীন l গত জানুয়ারী মাসে ওই যুবতী নেদারল্যান্ডসে ফিরে যায়, মার্চ মাসে তার মা মারা গেলে, ফের ভারতে ফিরে আসেন l এরপর থেকে বালুঘাটেই রয়েছেন নম্রতা l এদিন নম্রতা বলেন, রাজ্য সিআইডি তদন্ত করছে করুক l কিন্তু আমি নেদারল্যান্ডসে পড়াশুনা করি, তাই এখানকার পুলিশকেও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি l পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনও জানিয়েছি l যদিও এখনো কোনো উত্তর পাইনি l

  • ভারত ছাড়ো আন্দোলনের দিনটিকে পালন করলো বালুরঘাট দিবস উজ্জাপন কমিটি।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ জেলায় ইংরেজদের বিরুদ্ধে ৪২ এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের দিনটিকে স্মরণ করে বালুরঘাট দিবস পালন করল বালুরঘাট দিবস উজ্জাপন কমিটি। শুক্রবার বালুরঘাট শহরের প্রসাশনিক ভবন চত্ত্বরে স্মৃতি সৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পুস্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়াও বালুরঘাট শহর সংলগ্ন ডাঙ্গি এলাকায় শহীদ বেদীতে পুস্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বালুরঘাট ট্রেজারি ভবনের সামনে বালুরঘাট উজ্জাপন কমিটির পক্ষ থেকে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা শাসক দীপাপ প্রীয়া পি এই অনুষ্ঠানের উপস্থিত থাকেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা শাসক মৃন্ময় বিশ্বাস, জেলা তথ্য ও সাংস্কৃতিক আধিকারিক শান্তুনু চক্রবর্তি সহ অন্যান্য আধিকারিকগন। প্রসঙ্গত, ১৯৪২ সালে সরোজ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা বালুরঘাট শহর সংলগ্ন ডাঙ্গি এলাকায় একত্রিত হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর বালুরঘাট ট্রেজারি বিল্ডিং-এ পৌঁছায় ও ইংরেজদের পতাকা নামিয়ে সেখানে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করে। গোটা শহরকে অবরুদ্ধ করে দেয় তৎকালীন বিপ্লবীরা। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি আদালত, পোষ্ট অফিস সহ ইংরেজদের দখলে থাকা সমস্থ অফিসে। টানা তিনদিন জাতীয় পতাকা উঠিয়ে এই এলাকাকে কার্যত স্বাধীন করে রাখে বিপ্লবীরা। পরবর্তিতে ইংরেজরা এই এলাকাকে পুনরায় দখল করে নিলেও এই আন্দোলন সারা দেশে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। বালুরঘাট দিবস উজ্জাপন কমিটির সভাপতি পীযূষ কান্তি দেব জানান, আন্দোলনকারীদের সম্মান জানাতে ১৯৪২ সালের এই দিনটিকে আমরা প্রতিবছরই পালন করি। বিপ্লবীরা সরোজ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বালুরঘাটকে ব্রিটিশ মুক্ত করেছিলেন। আমরা এই দিনটিকে সরকারীভাবে পালনের দাবী জানাচ্ছি।

  • দুই রাউন্ড কার্তুজ সহ দুই যুবক গ্রেফতার বালুরঘাটে

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড কার্তুজ সহ দুই যুবককে গ্রেফতার করল বালুরঘাট থানার পুলিশ। শুক্রবার বালুরঘাট শহর সংলগ্ন খানপুর কলকলা খাড়ি এলাকা থেকে ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃত দুই যুবকের নাম রাজা দাস(১৯) ও সাহেব রায়(২০)। ধৃতদের বাড়ি বালুরঘাট শহরের উত্তমাশা ও রঘুনাথপুর এলাকায়। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে বালুরঘাট সদর ডিএসপি ধীমান মিত্র জানান, বাইরে থেকে শহরে আগ্নেয়াস্ত্র আনতে গিয়ে দুই যুবক পুলিশের জালে ধরা পড়ে। পুলিশের পক্ষ থেকে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। ডাকাতি বা অন্য কোনও সমাজ বিরোধী কাজের জন্য বাইরে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র শহরে আনা হচ্ছিল কি না তা খতিয়ে দেখে হচ্ছে। শনিবার ধৃতদের বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলা হবে। ধৃতদের নামে পুরোনো কোনও মামলা আছে কি না এবং কী কারণে তারা অস্ত্র নিয়ে আসছিল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • বালুরঘাট-তপন রুটের যান চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ টানা তিনদিন ধরে এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন থাকায় বালুরঘাট-তপন রুটের সমস্থ যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ দেখাল স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থানার জলঘর এলাকার ঘটনা। এদিন সকাল থেকেই জলঘর এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। সকাল থেকে এই অবরোধের জেরে চরম নাজেহাল অবস্থার শিকার হয় নিত্য যাত্রীরা। পরে বিকাল চারটা নাগাদ বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করাতে পথ অবরোধ উঠিয়ে নেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা অলোক চ্যাটার্জী, অমিত ঘোষ জানান, জলঘর, ত্রিকূল, কাশিয়াডাঙ্গা, তালমন্দিরা, কৃষ্ণনগর সহ একাধিক গ্রামে গত তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে রয়েছে। বিষয়টি বিদ্যুৎ দফতরে একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও কোন ফল হয়নি। বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ থাকায় পানীয় জল পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। বালুরঘাট থানার পুলিশ জানান, সকাল থেকে জলঘর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা অবরোধ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি আয়ত্বে আনে।