উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর

  • উত্তরদিনাজপুরের ইসলামপুরে বনধ কে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা বাসে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর

    Newsbazar,24  ডেস্ক,২৬ সেপ্টেম্বর : বিজেপির ডাকে ১২ ঘণ্টার বাংলা বনধে  সবচেয়ে বেশী উত্তেজনা ছড়াল  উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর।  ৪টি সরকারি বাসে আগুন এবং আরও কয়েকটি সরকারী বাসে  ভাঙচুর চালাবার   অভিযোগ ।ইসলামপুরে পুলিশের পাইলট কারেও ভাঙচুর চালানো হয়। সব ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত বনধ সমর্থনকারীরা।  ইসলামপুরের বিভিন্ন জায়গায় বনধ সমর্থকদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় পুলিশের। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় সড়কে  টায়ার জ্বালিয়ে বনধ সমর্থকরা অবরোধ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় ও রাবার বুলেট ছোড়ে।  সারা উত্তর দিনাজপুরের  চলছে  র‍্যাফ  ও কমব্যাট ফোর্সের টহলদারি। বিজেপি-র  যুব মোর্চার রাজ্য  সভাপতি দেবজিৎ ঘোষকে গ্রেপ্তার  করেছে পুলিশ। ইসলামপুরে এখনও পর্যন্ত ২৬ জন বনধ সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  গত ২০ সেপ্টেম্বর ইসলামপুরের দাড়িভিটা  উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোলে  স্কুলের দুই প্রাক্তন ছাত্রের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। বিজেপি-র পক্ষ থেকে  ছাত্রমৃত্যুর প্রতিবাদে আজ ১২ ঘণ্টার বাংলা বনধ ডাকা হয় । রাজ্যের অন্য জায়গার মতো আজ সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে ইসলামপুর শহর। ব্লকের বিভিন্ন রাজ্য সড়ক ও ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে বনধ সমর্থকরা। লাঠি-বাঁশ হাতে বেরিয়ে পড়েন বাড়ির মহিলারাও। ইসলামপুরের শ্রীকৃষ্ণপুরে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে দুটি সরকারি বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। দমকল এসে আগুন নেভানোর খানিক পরই ইসলামপুরের কলেজমোড়ে আরও একটি সরকারি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় বনধ সমর্থকরা। সেখানে দমকল বাহিনীকেও ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এলাকায় পৌঁছালে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে থাকে বনধ সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সেখানে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানোর পাশাপাশি রাবার বুলেট ছোড়ে। এরই মাঝে ইসলামপুরের ফার্ম কলোনি এলাকায় বনধ সমর্থকরা একটি সরকারি বাসে আগুন লাগিয়ে দেয়। ৪টি বাসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এরপরই পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। শুরু হয় ধরপাকড়।  বিজেপি-র যুব মোর্চার  রাজ্য সভাপতি দেবজিৎ ঘোষকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।  এছাড়াও এখনও পর্যন্ত মোট ২৬ জন বনধ সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

  • বালুরঘাটে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ তৃণমূল কংগ্রেসের

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৫ সেপ্টেম্বর: বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলিতে তৃণমূল থেকে নিযুক্ত থাকা সুপারভাইজারদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার বালুরঘাট ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রবীর রায়ের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক সুপারভাইজার বিক্ষোভ দেখায় ও পরে জেলা শাসকের কাছে শ্মারকলিপি প্রদান করে। জেলা শাসকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা শাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। পঞ্চায়েত স্তরে সুপারভাইজারদের স্থায়ীকরণ, নিয়মিত মজুরি প্রদান সহ নতুন সুপারভাইজার নিয়োগ বন্ধের দাবী জানানো হয়। রাজনৈতি মহলের মতে, এ যেন ইতিহাসের পুনারাবৃত্তি। এক সময় পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেস সবাইকে সরিয়ে দিয়ে নিজেরা সুপারভাইজার নিয়োগ করেছে। প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনে বালুরঘাট ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের ভড়াডুবি হয়। এগারোটি পঞ্চায়েতের মধ্যে তিনটিতে ক্ষমতা ধরে রেখেছে তারা। বাকী আটটি পঞ্চায়েত বিরোধিদের হাতে চলে যায়। নতুন ক্ষমতা হাতে পেয়েই সুপারভাইজার নিয়োগ শুরু করে তারা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়ার পরই আগের সুপারভাইজার কে সরিয়ে নতুন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি প্রবীর রায় জানান, বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতগুলিতে বিজেপি রাজনীতি শুরু করেছে। গরীর সুপারভাইজারদের কাজ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে আমরা পথে নেমেছি। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপী সরকার জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে কোন নীতি কথা শুনবনা। তৃণমূল কংগ্রেস যে পঞ্চায়েতগুলি জিতেছে সেখানে সব সুপারভাইজারদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা যে সংসদে জিতেছি সেখানেই নতুন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস সবাইকে সরিয়ে দিয়ে নতুন সুপারভাইজার নিয়োগ করেছে।

  • আন্দোলনের পথে বালুরঘাট পৌরসভার ১১ জন বাম কাউন্সিলার

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৪ সেপ্টেম্বর: বালুরঘাট পৌরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে বাম কাউন্সিলারদের কোন কথাই শোনা হচ্ছে না। এমনকি পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বালুরঘাট পৌরসভার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসম্মতিও রেজিস্টারের খাতায় লেখা হচ্ছে না। সোমবার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনে নামল বালুরঘাট পৌরসভার ১১ জন বাম কাউন্সিলার। বুধবার বাম কাউন্সিলাররা এনিয়ে পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার, মহকুমা শাসক ও জেলা শাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করে। প্রসঙ্গত, অক্টোবর মাসেই বালুরঘাট পৌরসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তাই নির্বাচনের আগে ওয়ার্ড রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বালুরঘাট শহর সংলগ্ন চকভৃগু গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু এলাকা অন্তর্ভুক্তি করারও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তবে নতুন এলাকা অন্তর্ভূক্ত করা হলেও ওয়ার্ড সংখ্যা একই রাখা হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর এই পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ করে বোর্ড অফ কাউন্সিলার সভাতে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। বোর্ড অফ কাউন্সিলার সভাতে অনুমোদনের পরই তা জেলা শাসকের কাছে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার খসরা হিসাবে বিজ্ঞপ্তি জারী করতে পারেন জেলা শাসক। এরপরই খসরা নিয়ে কোন অভিযোগ থাকলে তার অভিযোগ জানাতে পারবেন বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের আপত্তি সমাধানের পরই চূড়ান্ত করতে পারবে পুনর্বিন্যাস। বাম কাউন্সিলাদের অভিযোগ বোর্ড অফ কাউন্সিলার সভাতে তাদের কোন অভিযোগই শোনা হয়নি। এমনকি পুনর্বিন্যাস নিয়ে বাম কাউন্সিলারদের আপত্তিও রেজিষ্টারে লেখে হয়নি। পৌরসভার বিরোধি দলনেতৃ সুচেতা বিশ্বাস জানান, রাজনৈতিক উদ্যেশ্যে এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বামেদের হাতে থাকা ছয়টি ওয়ার্ডকে জুড়ে তিনটি ওয়ার্ড তৈরী করা হয়েছে। আমাদের কোন অভিযোগ শোনা হয়নি। আমাদের অভিযোগ রেজিষ্টার খাতাতেও লিপিবদ্ধ করা হয়নি। আমরা এনিয়ে এক্সিকিউটিভ অফিসার, মহকুমাশাসক ও জেলা শাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছি। বালুরঘাট পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার পিনাকি বিশ্বাস জানান, বোর্ড অফ কাউন্সিলার সভাতে পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রস্তাব পেশ হয়েছে। আমরা জেলা শাসকের কাছে ওই প্রস্তাবনামা পাঠিয়েছি। বাম কাউন্সিলাদের কাছ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি।

  • অবশেষে দুর্বল হয়ে পরা বালুরঘাটের মঙ্গলপুর ব্রীজ সংস্কারের উদ্যোগ নিল প্রশাসন।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৪ সেপ্টেম্বর: অবশেষে দুর্বল হয়ে পরা মঙ্গলপুর ব্রীজ সংস্কারের উদ্যোগ নিল প্রশাসন। সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাইক ও লিফলেটের মাধ্যমে পুর্ত দফতরের জাতীয় সড়ক বিভাগ ওই ব্রীজ বন্ধ করে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে মঙ্গলবার থেকে কার্যত অন্যান্য শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বালুরঘাট। ইতিমধ্যেই বালুরঘাট শহরের মধ্যে অবস্থিত অন্য দুটি ব্রীজ মটর কালিবাড়ি ও আন্দোলন সেতু আগে থেকেই ভারি যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই বালুরঘাট থেকে বেসরকারি ও সরকারী সরকারী বাস কোন পথে যাবে তা নিয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে। প্রসঙ্গত, বালুরঘাট শহরের মঙ্গলপুর এলাকায় ৫১২ নং জাতীয় সড়কের উপর অবস্থিত ব্রীজটি বালুরঘাট শহর থেকে বাস চলাচলের এক মাত্র রাস্তা। প্রায় সত্তরের দশকে তৈরীর পর দীর্ঘ দিন থেকেই ব্রীজটি চলাচলের জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ব্রীজ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি ব্রীজের এপ্রোচ রোডেও মাঝে মধেই গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন মহল থেকেই ব্রীজটি সারাইয়ের দাবী ওঠে। এদিন পূর্ত দফতরের জাতীয় সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে সমীক্ষার পরই ব্রীজটি সারাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন পূর্ত দফতরের জাতীয় সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় যান চলাচল। পূর্ত দফতরের জাতীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহি বাস্তুকার জgন্নাথ সামন্ত জানান, মঙ্গলপুর এলাকায় ৫১২ নং জাতীয় সড়কের ওপর থাকা ব্রীজটির দীর্ঘ দিন ধরেই বেহাল অবস্থা। আপাতত ব্রীজের মেরামতির কাজ করা হবে। পরবর্তিতে স্থায়ী কাজ শুরু করা হবে। জেলা শাসক দিপাপ প্রিয়া পি জানান, মঙ্গলপুর এলাকায় থাকা ব্রীজে আপাতত ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রীবাহী বাসগুলি কোন পথে চালানো হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

  • বালুরঘাটের প্রশাসনের ব্যর্থতায় ,নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে শিশুরা

    অজয় সরকার, বালুরঘাট , ২৩ সেপ্টেম্বরঃ প্রায় ৭ মাস আগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শিশু সুরক্ষা কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছে রাজ্য সরকার। ফলে বিভিন্ন অপরাধে ধৃত শিশুদের বালুরঘাটের সরকারি হোমে রাখা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিশুদের নানা ধরণের অপরাধমূলক কাজে লাগানোর ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই নাবালকদের কয়েকটি চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। রবিবার ভোরে বালুরঘাট শহরের প্রাচীন বুড়া কালী মন্দিরের দানবাক্স ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে যাবার সময়ে দুজন সিভিক ভলান্টিয়ার হাতেনাতে ধরে ফেলে এক নাবালক চোরকে। তাঁকে রবিবার বালুরঘাট থানার পুলিশেরহাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বালুরঘাট শহরের একাধিক মন্দিরে চুরির অভিযোগ জমা পরে বালুরঘাট থানায়। কোনোক্ষেত্রেই পুলিশ চুরির কোনো কিনারা করতে পারছিল না। এদিন বুড়াকালী মন্দিরে চুরিতে ধরা পরার পরে ওই নাবালককে জিজ্ঞাসাবাদের পরে অনেক তথ্য পুলিশেরসামনে এসেছে। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অপরাধে ধৃত নাবালকদের বালুরঘাট আদালতের মাধ্যমে বালুরঘাটের সরকারি শুভায়ন হোমে রাখা হতো। কিন্তু গত ৬ মাসে জেলা শিশু সুরক্ষা কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। ফলে শিশুদের হোমে রাখা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নাবালক অপরাধীরা তাদের কাজ নিশ্চিতভাবে করে চলেছে। চাইল্ড লাইনের জেলা সঞ্চালক সুরজ দাস জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সি ডব্লিউ সি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে ধৃত শিশুদের হোমে রাখা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যদিও বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা কমিশনের হস্তক্ষেপে উত্তর দিনাজপুর জেলার সিডব্লিউসি -র মাধ্যমে হোমে রাখা হচ্ছে। তবে শিঘ্রই এই সমস্যা কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

  • কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরিক্ষায় টুকলি করতে গিয়ে ধৃত ২

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৩ সেপ্টেম্বরঃ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টুকলি করতে গিয়ে ধরা পরে গেল দুই পরীক্ষার্থী। দুজনকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃতদের নাম সেখ লিটন ও শুভংকর সরকার। সেখ লিটনের বাড়ি মালদা জেলার ইংরেজবাজার থানার নাশিকচক গ্রামে ও শুভংকর সরকারের বাড়ি কুমারগঞ্জ এলাকায়। রবিবার দুপুরে সেখ লিটন পুলিশের কনস্টেবল পদের লিখিত পরিক্ষা দেবার জন্য বালুরঘাট শহরের খাদিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আসে। অন্যদিকে শুভংকরের সিট বসেছিল বংশিহারীতে। পরিক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার সময় মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরিক্ষার সময়ে দুজনের জুতোর নিচে কেটে অত্যাধুনিক মেসিন বসানো ধরা পরে। জুতোর নিচে কেটে অত্যাধুনিক ডিভাইস বসিয়ে তাতে সিম কার্ড লাগানো ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুজনের কাছেই সুক্ষ্ম হেডফোন ছিল। সেগুলিকে কাজে লাগিয়ে বাইরে থেকে পরিক্ষার যাবতীয় প্রশ্নোত্তর পাবার ছক কষেছিল তারা। পুলিশের অনুমান, অনেকেই এসব আধুনিক যন্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছিল। কিন্তু তল্লাসির সময়ে আর ভেতরে ঢোকার সাহস দেখায়নি। তবে এদিন দুজনকে গ্রেপ্তারের পরেই পুলিশও সি আই ডি জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিশেরধারণা এর সঙ্গে একটি বড়সড় চক্র জড়িত। এদিন ধৃত সেখ লিটন অত্যাধুনিক মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও এর চক্রে কে বা কারা জড়িত তা নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি। জেলা পুলিশসুপার প্রসূন ব্যানার্জী জানান, আধুনিক মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে পুলিশেরকনস্টেবল পরিক্ষায় টুকলি করতে এসে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রে কে কে জড়িত তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশও সি আই ডি তদন্ত শুরু করেছে।

  • ছাত্র মৃত্যু বনধের ঘটনায় দক্ষিন দিনাজপুর জেলা জুড়ে সমস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকল।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২২ সেপ্টেম্বর: ইসলামপুুরের দাড়িভিট হাইস্কুলে ছাত্র মৃত্যুতে বনধের ঘটনায় জেলা জুড়ে সমস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকল। শনিবার সকাল থেকেই বাম-ডান সমস্থ ছাত্র সংগঠনই জেলার বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ, মিছিল পথ সভার মত কার্যক্রম করে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এদিন বালুরঘাট হিলি মোড় এলাকায় ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি সৌরভ প্রসাদ সহ জেলা সভাপতি অমিত কর্মকারকে পথ অবরোধের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাস্তা অবরোধ করেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। সন্ধ্যায় বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে মিছিল বের করা হয়।

  • সিবি আই তদন্তের দাবীতে গুলিবিদ্ধ দুই ছাত্রের মৃতদেহ দাহ না করে সমাহিত করা হল , বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবী নিয়ে পরিবারের পাশে বাম পরিষদীয় দল।

    Newsbazar 24 ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বরঃ উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের দাড়িভিটেতে বৃহস্পতিবার শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলন  ব্যাপক হিংসার   আকার নেয়।  মৃত্যু হয় রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মন নামে  দুই ছাত্রের। গতকাল মৃতদেহ গ্রামে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসার পর গ্রামবাসীরা সিবিআই তদন্তের দাবিতে তাদের  কফিনবন্দি মৃতদেহ মাটিতে পুতে রেখে শুরু করেছে  অভিনব বিক্ষোভ। গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে ঠিক করেছেন   যতক্ষণ  পর্যন্ত না সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ কফিনবন্দি দেহ পাহারা দেবেন গ্রামবাসীরা। মৃতদেহ দাহ করতে দেওয়া হবে না।  পাশাপাশি আজ গ্রামে সিবিআই তদন্তের দাবিতে মিছিল করা হয়। এ  নিয়ে ব্যাপক  চাঞ্চল্য তৈরী হয়েছে গ্রামে। জানা যায় যে গ্রামবাসীরা রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মনের কফিনবন্দি দেহ মাটিতে পুতে রেখে শুক্রবার রাতভর পাহারা দিয়েছেন। শনিবারও  সকাল থেকেও  পালা করে পাহারা চলছে। কোনওমতেই তাঁরা দাবি থেকে সরতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, মৃত দুই ছাত্র হিন্দু হওয়া  সত্ত্বেও তাদের মৃতদেহ দাহ না করে সমাধিস্থ করা হয়েছে। কারন  ময়নাতদন্তের সময় প্রয়োজনে সমাধি থেকে যাতে মৃতদেহ গুলিকে তোলা  যায় । এদিকে রাজেশ সরকারের বাবা দাবি করেছে, তাঁর ছেলের দেহের ময়নাতদন্তের ব্যাপারেও তাঁকে  কিছুই জানানো হয়নি। পাশাপাশি গ্রামে ধরপাকড়ের নামে পুলিশি হয়রানি চলছে।  গ্রেফতারের হাত থেকে আবাল বৃদ্ব বনিতা কাঊকে রেহাই দেওয়া হচ্ছে না।  গ্রামবাসীদের ক্ষোভ মূলত  পুলিশের বিরুদ্ধেই। তাঁদের বদ্ধমূল ধারণা, পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে দুই ছাত্রের। সেদিনে পুলিশই গুলি চালিয়েছিল। নিজের দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিল তাপস । তখনই গুলি লাগে তাঁর পিছন দিকে। আর রাজেশ সরকার  তার বোনকে দেখতে স্কুলে যাচ্ছিলেন। স্কুলের সামনে তার গায়ে গুলি লাগে। তাপসের বোনের দাবি, আমার চোখের সামনে মেরে ফেলল আমার দাদাকে। গ্রামবাসীদের  দাবি তাপস বা রাজেশ কেউই  এই দাড়িভিটে হাই স্কুলের গণ্ডগোলের সাথে ছিল না । তবু তাঁদের প্রাণ দিতে হল। শনিবার সকালে বাম প্রতিনিধি দলের  পক্ষে বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী ও অশোক ভট্টাচার্য নিহত দুই ছাত্রের বাড়িতে যান। তাঁরা বলেন, রাজ্য প্রশাসন তদন্তের নামে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, সেই কারণেই বিচারবিভাগীয় তদন্ত দরকার। সুজন-অশোকের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত দুই ছাত্রের পরিবার বাম পরিষদীয় দলনেতা সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেন,মায়ের কাছে থেকে ছেলেকে  কেড়ে নেওয়া হল। অথচ  তদন্তের নামে প্রহসন হচ্ছে। রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন অপদার্থ। এই পুলিশ  দিয়ে কখনও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবে না। সেই কারণেই আমরা বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। কারা গুলি করে মারল দুই নিরীহ ছাত্রকে, তা প্রকাশ্যে আসুক। আমরা দুই পরিবারের প্রতি সহমর্মী। তাঁদের পাশে আছি, থাকব।      

  • ক্ষমতায় আসতেই বালুরঘাটে গোষ্টিসংঘর্ষে জড়াল বিজেপি। চলল দুই গোষ্ঠীর হাতাহাতি।

    সরোজ কুন্ডু, বালুরঘাট, ২১ সেপ্টেম্বর: ক্ষমতায় আসতেই গোষ্টিসংঘর্ষে জড়াল বিজেপি। চলল দুই গোষ্ঠীর হাতাহাতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বালুরঘাটের ঠাকুরপুরা এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায়। দলীয় কার্যালয়ে দুই জয়ী পঞ্চায়েত সদস্যকে আটকে রাখার ও অভিযোগ ওঠে বিজেপির অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, উভয় পক্ষের মধ্যে শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ, অঞ্চল কমিটি ও একশো দিনের কাজের সুপারভাইজারের দায়িত্বভারকে ঘিরেই তৈরি হয় হাতাহাতির পরিস্থিতি বলে সূত্রের খবর। যদিও মারামারির ঘটনা অস্বীকার করা হয়েছে দলের তরফে। লোকসভা নির্বাচনের আগে জেলায় বিজেপির সংগঠনকে মজবুত করতে শনিবার জেলা সফরে আসছেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে বালুরঘাটের গোপালবাটি অঞ্চলের ঠাকুরপুরা এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে বসে নিজেদের ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে তুমুল গণ্ডগোলের চিত্র সামনে আসে। এমন কোন্দলে অস্বস্তিতে জেলা বিজপি। জানা গেছে, সন্ধ্যায় শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ, অঞ্চল কমিটি ও একশো দিনের কাজের সুপারভাইজার সহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে ঠাকুরপুরা এলাকার দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা শুরু হয়। যে আলোচনায় এলাকার বিজেপির পুরনো কর্মীরা গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছিলেন। ফলে তাদের মধ্য থেকেই এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। আর যাকে ঘিরেই ঘটনার সূত্রপাত বলে দলীয় সূত্রের খবর। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারিও। সদ্য আরএসপি থেকে বিজেপিতে যোগদান করা প্রমথ মণ্ডল এবং সিপিএম ছেড়ে আসা উজ্জ্বল সরকারকে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রাখেন এলাকার পুরনো বিজেপি কর্মীরা বলে অভিযোগ। পুরো ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে পৌঁছতে হয়।   বিজেপি জেলা নেতা বাপি সরকার জানান, সামান্য মতবিরোধ হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটে গেছে।কটাক্ষ করতে ছারেনি তৃনমুল কংগ্রেস। স্থানীয় নেতা বিভাস চ্যাটার্জি জানান, এটা হবার ই ছিল। আরো হবে ।

  • দশম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষনের ঘটনায় উত্তেজনা বালুরঘাটে

    অজয় সরকার, বালুরঘাট ১৯ সেপ্টম্বর: দশম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষনের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ালো। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি থানার তিওড় এলাকার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা যায় অভিযুক্ত দুজনের নাম পিন্টু মন্ডল(২৮) ও কাশি মন্ডল(৩২)। ঘটনায় পিন্টু মন্ডল ওই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর তার সঙ্গি কাশি মন্ডলও জোর করে ধর্ষণ করতে গেলে ওই স্কুল ছাত্রী পালিয়ে প্রান বাচায়। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনার পর এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করে ওই দুই যুবক। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে খবরটি জানাজানি হতেই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে হিলি থানার পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌছায় ও ধর্ষনকারিদের গ্রেফতার করে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হিলি থানার তিওড়ের সারংবাড়ি এলাকার স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে গান শেখার জন্য যাওয়ার সময় এলাকার দুই যুবক পিন্টু মন্ডল(২৮) ও কাশি মন্ডল(৩২) তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। গ্রামের পিছনে নিয়ে গিয়ে তাকে প্রথমে একজন ধর্ষন করা হয় বলেও ওই ছাত্রীর অভিযোগ। একজনের ধর্ষণের পর আরেকজন ধর্ষণ করতে গেলে ওই ছাত্রী প্রান বাঁচাতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই এরপরেই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা বিভাষ সরকার জানান, ওই মেয়েটিকে কাঁদতে দেখেই আমাদের সন্দেহ হয়। পরে জানতে পারি পিন্টু মন্ডল তাকে জোর করে ধর্ষণ করেছে। আমরা অভিযুক্ত দুজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। হিলি থানার ওসি তাসি শেরপা জানান, পুলিশ তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি দুজন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।