যোগা

  • যোগাভ্যাসের উপকারিতার চারটি দিক জেনে নিন

    newsbazar24: যোগব্যায়াম যে ভীষণ উপকারী একটি অভ্যাস সেতো প্রায় সকলেই একমত। কিন্তু যাঁরা উদ্যোগপতি কিংবা উদ্যোগপতি হতে চান তাঁদের জন্য যোগাভ্যাসের কিছু মৌলিক তাৎপর্য আছে। স্টার্টআপ আর অ্যান্তেপ্রেনিওরদের অনেক পরিশ্রমী হতে হয়। নিত্য যোগব্যায়াম চর্চা তাঁদের মানসিক এবং শারীরিক বল বৃদ্ধি করে। তাঁদের আরও বেশি বেশি করে সৃজনশীল আর উৎপাদনশীল করে তোলে। প্রতিকূলতার সাথে লড়বার শক্তি দেয়। মনকে চাঙ্গা করে আর চাপমুক্তও রাখে। বৌধ্যিক, মানসিক এবং সর্বোপরি স্নায়বিক নানান দিক থেকে যোগার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন কয়েক মিনিটের যোগাভ্যাস আপনার দেহ আর মনকে একটি শক্তিঘরে রূপান্তরিত করে। ভেষজবিজ্ঞানীরা যোগাকে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার সারানোর আর মনোযোগ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসাবে প্রয়োগ করেন। গবেষণা অনুযায়ী যোগা মগজে রক্ত সঞ্চালন আর অক্সিজেনের প্রবাহকে দ্রুত করে। যোগা আপনাকে শারীরিক আর মানসিক দু ধরণের অবসাদ থেকে মুক্তি দেয়। একটি দীর্ঘ এবং গভীর যোগা সেশানের পর জীবনের প্রতি আপনি নতুন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারবেন। বেশিরভাগ অ্যান্তেপ্রেনিওরই স্বাস্থ্য সচেতন। কিন্তু মানসিক শুদ্ধিকরণ করাটাও দরকার। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এটাই সত্যি যে, ব্যস্ত স্টার্টআপের জীবনে প্রতিকূলতা অগণিত হারে বেড়েই চলে। যে প্রবল মনোবল আর শারীরিক তৎপরতা এই জীবন দাবী করে তার বেশির ভাগটাই দিতে পারে একমাত্র নিত্য যোগাভ্যাস। প্রচলিত বিশ্বাসের বিপরীতে এটা বলা হয় যে শ্রম করা অনেক সময় স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। আদিম মানুষের বেঁচে থাকার রসদই ছিল কায়িক শ্রম। প্রাগৈতিহাসিক কালে এই শ্রমই আদিমানুষকে ঘাতক শত্রু, ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দূরে রাখত। আমাদের পূর্বপুরুষদের ধন্যবাদ, আজ তাঁদের কারণে আমাদের জিনে পরিশ্রমী সত্তা এখনও রয়েছে। প্রত্যেক অ্যান্তেপ্রেনিওরের কিছু ভ্রান্ত ধারণা থাকে। তবে নিজের ব্যবসা দাঁড় করাতে যখন আপনি শুরু থেকে অবিরাম লড়াই করছেন, জেনে রাখবেন শরীর হল প্রথম বিষয় যা ধাক্কা খাবে। হাড়ভাঙ্গা খাটুনি আর বহু বাধাবিপত্তি টপকে যাবার পরীক্ষার জবাব দিতে হবে আপনার শরীরকেই। জীবনে প্রথমবার যোগাভ্যাস করা একজন মানুষও প্রথম সেশানের পর বেশ শান্তি আর আরাম অনুভব করেন। যাঁরা নিয়মিত এই চর্চার ভিতর আছেন তাঁরা অবশ্যই মানসিক চাপকে তাঁদের সিস্টেম থেকে কমাতে পেরেছেন। যোগা কিছু টেকনিক আর ধ্যানের মাধ্যমে মানুষের মনের চঞ্চলতাকে কমিয়ে দেয়। শুনতে সোজা লাগলেও, কিছু না ভেবে থাকতে পারা খুবই কঠিন। যোগা মনকে শান্ত করে। নীরব করে। মন বিশ্রাম পায়। বিশ্বাসের উর্দ্ধে গিয়ে মন এবং শরীরের ঐকতান ঘটে। যোগব্যায়াম চর্চার সময় শরীরের সাথে স্নায়বিক যোগসূত্রগুলো সঠিকভাবে সাম্যাবস্থায় থাকে। শরীরে পবিত্র এনার্জির অবিরত ধারা বয়। মন, দেহ এবং মাথা আরাম পায়। যোগা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। পড়াশোনা করার ইচ্ছে বাড়ে। দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়। বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়ে। যোগা মানুষের ভাববিনিময় প্রথা আর মানসিক গভীরতাকেও উন্নত করে। আজকের যুগে মানুষ উৎপাদনশীলতার পূজারী। বড় বড় আইডিয়া তাঁদের মাথায় ঘুরপাক খায়। মনে রাখতে হবে সেখানে আমাদের ভিতরের মানুষটাকেই তৎপর হতে হবে সর্বাধিক। যোগা আপনার আত্মার সাথে আপনাকে জুরে দেয়। এই স্কিলটাকেই আয়ত্তে রাখতে হাঁকিয়ে মরেন অ্যান্তেপ্রেনিওররা। যোগা উত্তেজনা আর অবসাদ কমায়। নিজের প্রতি সন্দেহকে মেরে ফেলে। আত্মিক এবং শারীরিক চেতনা বৃদ্ধি করে। ফলে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। ভিতরের সৃষ্টিশীল মানুষটি বাইরে বেড়িয়ে এসে সহজেই ছুঁতে পারে সীমানা। প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যেই একজন অনন্য স্রষ্টা আছেন। যোগা তাঁকেই চিনিয়ে দেয়। সামাজিক কর্মদক্ষতা, নিজের ওপর ভরসা, মনোযোগ সব লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। ব্যক্তি তিরিক্ষি মেজাজকে না বলতে শেখেন। টেনশান আমাদের ভিতর থেকে খোকলা করে দেয়। একজন হাসিখুশি মানুষের বদলে পড়ে থাকে একটি ফাঁপা খোলস। আমাদের কাজ করার প্রবৃত্তি কবর চাপা পড়ে। প্রেরণা হারিয়ে যায়। যোগা এইপ্রকার পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেয়।

  • শ্বাসকষ্ট কমাতে ধনুরাসন-এর গুণাবলি

    newsbazar24: জানেন কি শ্বাসকষ্ট কমাতে ধনুরাসন-এর গুণাবলি ? হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট যে কতটা কষ্টদায়ক রোগ, তা কেবল ভুক্তভোগীরা জানেন। এ রোগ নিরাময়ের জন্য হরেক রকম ওষুধ ও কৌশল আবিষ্কৃত হয়েছে। কিছু যোগাসন করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়। এর মধ্যে একটি হলো ধনুরাসন। এটি করলে শ্বাসকষ্ট অনেকটাই কমবে। ধনুরাসন পদ্ধতিঃ মুখ নিচের দিকে করে ওপুর হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা দুটো সোজা থাকবে।  হাঁটু ভেঙে পায়ের পাতা দুটো হিপের ওপরে আনুন।  ডান হাত দিয়ে ডান পা এবং বাম হাত দিয়ে বাম পায়ের গোড়ালি শক্ত করে চেপে ধরুন। এবার বুক ভোরে শ্বাস নিতে নিতে বুক থেকে মাথা পর্যন্ত ওপরের দিকে উঠিয়ে দিন। এবার হাঁটু থেকে দুই পা টেনে যতখানি সম্ভব, ওপরের দিকে টেনে তুলুন। লক্ষ রাখুন কনুই যেন না ভাঙে। আপনার শরীরের সমস্ত ভর কেবল পিঠের ওপর থাকবে। ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে এবার সোজা হয়ে যান। এভাবে তিনবার করুন।যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এবং যাদের হাইপার থাইরয়েডিজম রয়েছে, তাঁরা এই আসন একেবারেই করবেন না। 

  • জেনে নিন ,কখন যোগ ব্যায়াম করা উচিত

    টানু হালদার : শরীর সুস্থ রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী যোগ ব্যায়াম। দিনের যে কোনও সময় যোগাসন করা সম্ভব। যোগাভ্যাস না থাকলে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের দিন থেকেই তা শুরু করা যায়। কীভাবে করবেন তা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা কখন যোগ ব্যায়াম করা উচিত যে কোনও সময়ই যোগাসন করা যায়। সকাল-সন্ধ্যা যে কোনও সময় যোগাসন করা সম্ভব। খাবার খাওয়ার ৩-৪ ঘণ্টা পরে, হালকা খাবারের পরে, চা বা এই জাতীয় পানীয়ের ৩০ মিনিট পরে এবং জল খাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পরে আসন করলে উপকৃত হবেন। কে কে যোগ করতে পারেন? ৩ বছরের ঊর্ধ্বে যে কেউ যোগ ব্যায়াম করতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে খেলাধূলার মাধ্যমেই যোগ করানো সম্ভব। ১২ বছরের নাবালক/নাবালিকা’দের জন্য হালকা যোগাসন ও প্রাণায়ম প্রয়োজনীয়। তবে কপালভাতি বা মুশকিল আসান-এর মতো ক্রিয়া থেকে দূরে থাকে তারা। গর্ভবতীদের জন্যও এই ধরনের ক্রিয়া অনুচিত। হার্টের রোগীদের যোগ শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হারনিয়া, হাঁটু, কোমরে ব্যথা-র ক্ষেত্রেও সামনে এবং পিছনে ঝুঁকে দাঁড়ানোর বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কোথায় এবং কীভাবে করা উচিত? ১) খোলা আকাশের নীচে যোগাসন সবসময় সাহায্য করে। তা সম্ভব না হলেও, যে কোনও জায়গাতেই যোগ করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, যোগাসন করার সময় আশপাশের পরিবেশ শান্ত থাকে। ২) মাটিতে যোগা ম্যাট বা কোনও কাপড় রেখে যোগাসন করুন। যোগ-এর সময় সুতির কাপড় পরলে সুবিধা হবে। তবে ট্র্যাক প্যান্ট ও টি শার্টও পরতে পারেন। ৩) যোগাসন করার সময় চোখ বন্ধ রাখুন। এর ফলে যোগ-এর প্রভাব আরও বেশি হয়। শরীরের যে অংশে যোগ-এর প্রভাব পড়ছে, সেখানে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন। ৪) যোগা-তে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার গুরুত্ব আলাদা। যখন শরীর পিছনের দিকে যাবে, তখন শ্বাস নিতে হবে। যখন শরীর সামনের দিকে এগোবে, তখন শ্বাস ছাড়তে হবে। নাক দিয়ে শ্বাস নেবেন এবং মুখ দিয়ে ছাড়বেন। ৫) ক্লান্ত অবস্থায়, অসুস্থতার সময়ে, যোগ করার চেষ্টা করা উচিত নয়। ৬) যোগাসন-এর ৩০ মিনিট পর স্নান ও আহার করা উচিত। ৭) যোগ-এর সুফল পেতে সময় লাগে। তাই অধৈর্য্য হওয়া উচিত নয়। মাত্র ১০ মিনিটে কীভাবে যোগ করবেন? ১) ৫ মিনিটে ঘাড়, কাঁধ, হাত, কোমর, হাঁটু, পা, গোড়ালি-কে বিভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে (সুক্ষম) প্রসারিত করুন। ২) ২-৩ মিনিট সূর্য নমস্কার করুন। ৩) ২-৩ মিনিট উঠে, একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে জগিং করুন। অফিসে বসে কীভাবে যোগ করবেন? ১) সুক্ষম ক্রিয়া: ৭-৮ ঘণ্টার অফিস ডিউটিতে দু’বার ঘাড়, কাঁধ, কোনুই, হাত, কোমর, হাঁটু, পা, গোড়ালি-তে সুক্ষম ক্রিয়া করতে পারেন। ২) তদাসন: অফিসে সিট থেকে উঠে একই অবস্থানেই তদাসন করা যেতে পারে। ৩) গভীর শ্বাস নেওয়া: ক্লান্তির সময় নিজের সিটে বসেই ২-৩ মিনিট পর্যন্ত গভীর শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। এতে রিল্যাক্সড অনুভব করবেন। প্রতিদিন এই যোগ ব্যায়াম-গুলি করুন ১) প্রার্থনা ২) সুক্ষম ক্রিয়া ৩) তদাসন ৪) পদাহস্তাসন ৫) অর্ধচক্রাসন ৬) ত্রিকোণাসন ৭) ভদ্রাস ৮) বজ্রাসন ৯) ভুজঙ্গাসন ১০) উত্তনপদাসন ১১) পবনমুক্তাসন ১২) শবাসন প্রাণায়ম আসনের পর প্রাণায়মের অভ্যাস করা উচিত। তিন ধরনের প্রাণায়ম-এর বিষয়ে এখানে জানানো হচ্ছে। কপালভাতি প্রকৃত অর্থে প্রাণায়ম না হলেও, এই শ্রেণিতে উল্লেখ করা রইল। ধ্যান প্রাণায়মের পর ধ্যান করুন। ধ্যান করার জন্য কোনও শান্ত পরিবেশ প্রয়োজন। কাঁধ ও ঘাড়কে সোজা রাখুন এবং চোখ বন্ধ রাখুন। ধ্যানের পর ধীরে ধীরে চোখ খুলতে হবে। সকাল ও সন্ধ্যায় ২০ মিনিটের জন্য ধ্যান করলে লাভবান হবেন। তবে অফিসে কাজের সময়ও ধ্যানে বসা সম্ভব।