ডক্টর বলছে.

  • এই গরমে শিশুর যত্ন নিবেন কীভাবে ?গরমে শিশুকে সুস্থ রাখার কিছু টিপস

                           নবজাতকের পরিচর্যায় কিছু টিপস, যা আমরা খেয়াল করি না!                                           ডাঃ মৌ প্রিয়া সেন, শিশু বিশেষজ্ঞ ভরা গ্রীষ্মের মাঝে কোলে এসেছে বাড়ির খুদে সদস্যটি। বাড়ির বড়রা যেখানে দিনে ৩-৪ বার গায়ে জল ঢেলে নিচ্ছেন, ফ্যানের তলায় বসে আইসক্রিম খাচ্ছেন বা লু কাটাতে আম-পোড়ার শরবতে চুমুক দিচ্ছেন; সেখানে ওই একরত্তির কান্নাই একমাত্র সম্বল। আর বেচারি নতুন মা পড়েছে মহা বিপদে। এক তো গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত, তার ওপর ওইটুকু বাচ্চাকে কীভাবে সে আরাম দেবে বুঝে উঠতে পারছে না। চারিদিক থেকে আসা নরম গরম উপদেশের যদিও কোনও অভাব নতুন মায়ের নেই, তাও যেন খুঁতখুঁতুনি যায় না তার। নতুন মায়ের জন্য আমাদের প্রথম পরামর্শ, সবার আগে আপনি মাথা ঠান্ডা রাখুন এবং নিজেকে সুস্থ রাখুন। তবেই না কচিটাকে আরাম দিতে পারবেন! গরমে ডিহাইড্রেশন, হিট র‍্যাশ, ডায়াপার র‍্যাশ, খেতে না চাওয়া বা শরীর গরম হয়ে যাওয়া, এইসব কিছু থেকে শিশু বাঁচতে পারে আপনি একটু সতর্ক থাকলেই। কী করলে এই প্রচণ্ড গরমেও ভালো থাকবে সদ্যোজাত শিশুটি, দেখে নিন এক নজরে।        গরমে শিশুকে সুস্থ রাখার কিছু টিপস   1. শরীর যেন আর্দ্র থাকে (Keep the baby hydrated) গরমে আমাদের যেমন ঘন ঘন জল তেষ্টা পায়, শিশুরও কিন্তু গলা শুকিয়ে যায়। যেহেতু, সদ্যোজাত শিশু মায়ের দুধই খায়, তাই ওকে কিছুক্ষণ পরপর একটু করে দুধ খাইয়ে দিন। যদি কোনও কারণবশত আপনি ওকে ব্রেস্ট মিল্ক দিতে পারছেন না এবং ফর্মুলা খাওয়াতে শুরু করেছেন, তা হলে বাচ্চাকে ফর্মুলার সাথেই জল দিতে হবে। কিন্তু, অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে। বাচ্চাকে জল খাওয়াতে হলে সেই জল যেন অতিমাত্রায় বিশুদ্ধ হয় এবং জলের বোতল যেন অবশ্যই স্টেরিলাইজড করা হয়। শিশুকে জল দেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি। বাচ্চা ব্রেস্ট মিল্ক খেলে লক্ষ্য রাখতে হবে আপনার খাওয়া-দাওয়ার ওপর। বেশি করে জল খান আপনিও। দিনে অন্তত ৩ লিটার তো বটেই।   #2. স্নান করার শিশুকে (Bathe your baby regularly) প্রচণ্ড গরমে বাচ্চাকে স্নান করানো অবশ্যই উচিত। তবে, মনে রাখবেন, বাচ্চার স্নানের জল যেন কখনই খুব গরম বা খুব ঠান্ডা না হয়। কুসুম গরম জলে বাচ্চাকে স্নান করান। হাতের কনুই জলে ডুবিয়ে জলের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন। বাচ্চাকে স্নান করালে বাচ্চার দেহের তাপমাত্রাও কমে এবং ও আরাম পায়। এমনকি, ডাক্তার যদি অনুমতি দেন, তা হলে আপনার ছোট্ট শিশুটিকে আপনি দিনে এক বারের বেশিও স্নান করাতে পারেন। স্নানের সময় বগল ও গোপনাঙ্গের খাঁজ পরিষ্কার করে দিন। এইসব স্থানে ঘাম বেশি হয় বলে নোংরা বেশি বসে ইনফেকশন হতে পারে। #3. তেল মালিশের খুঁটিনাটি (Oil massage is must) গরম কাল বলে ভাববেন না, যে শিশুকে তেল মাখানো যাবে না। আমরা না হয় বড়, গরম কালে তেল মাখার নাম শুনলে আঁতকে উঠি। কিন্তু, শিশুর ক্ষেত্রে একেবারেই এই ধারণা কাজ করে না। বাচ্চাকে ভালো কোম্পানির বেবি অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করে দিন। লক্ষ্য রাখবেন, বাচ্চাকে যে বেবি অয়েল মাখাচ্ছেন সেটা ওর স্যুট করছে কি না। যেহেতু, বাচ্চা একেবারেই ছোট, তাই যে কোনও নতুন কিছু শুরুর আগে একটু বিশেষ লক্ষ্য রাখতেই হবে। ভালো গুণমানের বেবি অয়েল শিশুকে মাখালে শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়, ত্বক নরম থাকে এবং ওর ঘুমও ভালো হয়। তবে, যেহেতু গরম কাল, তাই শিশুকে তেল মালিশ করে দেওয়ার পর ভালো করে ভিজে কাপড় দিয়ে সব তেলটা মুছে দিন বা স্নান করিয়ে দিন। শিশুর গায়ে যেন অতিরিক্ত তেল লেগে না থাকে বা তেল প্যাচপ্যাচে ভাব না থাকে। গরম কালে সরষের তেল মাখাবেন না কারণ; এই তেল শরীর গরম করে। গরমে সরষের তেল মাখালে শিশুর র‍্যাশ, ফুসকুড়ি বা ঘামাচি হতেই পারে। বেবি অয়েল ছাড়া নারকেল তেল, তিল তেল বা অলিভ অয়েল শিশুর মালিশের জন্য খুব ভালো।এই তেলগুলি মাখালেও শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়।   #4. বেবি পাউডার সঙ্গে থাকুক (Start using baby powder) ভালো কোম্পানির বেবি পাউডার শিশুটিকে অনেক আরাম দিতে পারে। গরমে ঘাম থেকে হওয়া র‍্যাশ বা বিছানার সাথে ঘষা লেগে শিশুর পিঠে যে র‍্যাশ হয়, তার থেকে রক্ষা করতে পারে এই বেবি পাউডার। বেবি পাউডারে কুলিং এজেন্ট থাকায় বাচ্চার শরীর ঠান্ডাও রাখে। তবে, কোনও কিছুই তো অতিরিক্ত ভালো নয়। এই একই কথা পাউডারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বেশি পাউডারে লোমকূপ বন্ধ হয়ে র‍্যাশ গজাতে পারে। বাচ্চার গায়ে সরাসরি পাউডার ঢালবেন না। নিজের হাতে পাউডার ঢেলে হাতে মেখে নিন, তারপর বাচ্চার গায়ে আপনার হাতে করে পাউডার মাখিয়ে দিন। এর ফলে, বাচ্চাকে অতিরিক্ত পাউডার মাখানোও হয় না, আবার বাচ্চার নাকে পাউডার ঢুকে যায় না।   #5. ঢিলেঢালা জামা-কাপড় (Choose right clothes) বাচ্চাটিকে এমন জামা-কাপড় পরান, যেন তাতে যথেষ্ট হাওয়া বাতাস খেলে। বাচ্চার গায়ে ঘাম হলে কিছু সময় পরপর ওর জামা পাল্টে দিন। দুপুরের চড়া রোদে ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে না বেরোলেই ভালো। সারাদিন ডায়াপার পরিয়ে রাখবেন না। প্রয়োজনে শুধুমাত্র রাতেই ডায়াপার পরান।   #6. ঘরের তাপমাত্রায় বেশি পরিবর্তন আনবেন না (Don’t change the room temperature frequently) জন্মের পর বাচ্চারা পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করে। তাই বাচ্চা যেখানে থাকে, সেই ঘরের তাপমাত্রার হঠাৎ হঠাৎ রদবদল তার ছোট্ট শরীর ঠিক ভাবে মানিয়ে নিতে পারে না। বাচ্চা যে ঘরে থাকবে, সেখানে ফ্যানের স্পিড বা এয়ারকন্ডিশনের তাপমাত্রা একই রকম রাখুন। বাচ্চার ঘরের আদর্শ তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি হওয়া উচিত। এয়ার কুলার ব্যবহার করলে তা যেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।                                                            এই গরমে শিশুর যত্ন নিবেন যেভাবে/ উপরোক্ত বিষয়গুলি ছাড়াও বাড়ির আশেপাশের জায়গা বা জল জমার মতো জায়গা থাকলে, সেগুলি পরিষ্কার করিয়ে নিন। এতে জমা জলে মশা জন্মাতে পারবে না। বাড়িতে জানলায় নেট লাগিয়ে রাখলে ঘরে হাওয়া চলাচল হয় আবার শিশু পোকামাকড়-মশা ইত্যাদির কামড়ের থেকে রক্ষা পায়। গরমকালে দুপুরে কোনও ভাবেই বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে বেরোবেন না। কোনও ঘিঞ্জি জায়গায় ছোট্ট শিশুকে নিয়ে যাবেন না। একটু সতর্ক থাকুন, আরামে কাটবে গরম।

  • আবার কলকাতা সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনে।

    Newsbazar ডেস্ক, ২৯ মেঃ আবার কলকাতা  সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনে। এবার  গ্রিন করিডরের মাধ্যমে মাত্র ১৬ মিনিটে দমদম বিমানবন্দর থেকে বাইপাসের ধারে  একটি বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছয় প্রতিস্থাপন যোগ্য মুম্বইয়ের এক কিশোরের হৃৎপিণ্ড। ঐ বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা  দমদমের ৪৩ বছরের অনুষা অধিকারীর শরীরে তা সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন । সূত্রে জানা যায় গত ২৬ মে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মুম্বইয়ের ওই ১৭ বছরের কিশোর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল অর্থাৎ ২৮ মে, হাসপাতালের তরফে ওই কিশোরের ব্রেন ডেড হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিবারের সম্মতিক্রমে ওই কিশোরের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের জন্য তার শরীর থেকে বের করেন ডাক্তাররা। ঠিক হয়, কলকাতার বেসরকারি  হাসপাতালে ফোর্টিসে  গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন  দমদমের বাসিন্দা ৪৩ বছরের অনুষা অধিকারীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হবে। সেই মতো মঙ্গলবার রাত ১০.১৫ নাগাদ মুম্বইয়ের ওই কিশোরের হৃৎপিণ্ড বিশেষ বিমানে পৌঁছয় কলকাতায়। দমদম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের তৎপরতায় ১০.২২-তেই সেটি ফোর্টিস হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যায়। গ্রিন করিডরের মাধ্যমে মাত্র ১৬ মিনিটে হাসপাতালে হৃৎপিণ্ডটি পৌঁছে দেয় বিধাননগর ও কলকাতা পুলিশ। সেই সময় ট্রাফিক সামলাতে রাস্তায় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সব থানা এবং ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি-রা। হৃৎপিণ্ডটি ফোর্টিস হাসপাতালে পৌঁছয় রাত ১০.৩৮-এ। এরপর অনুষা অধিকারীর শরীরে শুরু হয় হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন সফল। এবং অনুষা দেবী ভাল আছেন।  

  • রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ৫ টি কারন জেনে নিন

    newsbazar24: রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ৫ টি কারন জেনে নিন,রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে কী কী ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়, সে সম্পর্কে আমরা কমবেশি সকলেই অবগত। বিশেষ করে যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, মাঝে মধ্যেই রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গিয়ে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়। হাজারও বিধি-নিষেধ মেনে চলার পরও হঠাৎ করেই রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। জানেন কেন এমনটা হয়? আসুন এর কারণগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক... ১) নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খাওয়া হলে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের আলু, ভাত খেতে বারণ করা হয়। ২)এমন বেশ কিছু খাবার-দাবার রয়েছে যেগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। হোয়াইট ব্রেড, কাজু, কলা ইত্যাদি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তাঁদের এই খাবারগুলি এড়িয়ে চলাই ভাল। ৩)যাঁরা নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ খান বা ইনসুলিন নেন, তাঁরা কোনও দিন বা কোনও বেলা ওষুধ খেতে, ইনসুলিন নিতে ভুলে গেলে ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ৪) দীর্ঘদিন ধরে কোনও রকম শরীরচর্চা না করলে বা কোনও রকম অসুস্থতার কারণে শারীরিক ভাবে সচল না থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ৫) মাত্রাতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণেও হঠাৎ করেই ব্লাড সুগার বেড়ে যেতে পারে।

  • গরমকালে চর্মরোগে কম-বেশি সবাই ভোগেন ! কিন্তু এর থেকে মুক্তি পাবেন কি ভাবে ?

    গরমকালে চর্মরোগে কম-বেশি সবাই ভোগেন।আর আপনি যদি মনে করেন বা নিয়ম মেনে চললে রোগের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। ঘামাচি : গরমের সময় ঘামাচি একটি সাধারণ সমস্যা। ঘামাচি সাধারণত তখনই হয়, যখন ঘর্মগ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে যায়, ঘাম বের হয় না এবং ত্বকের নিচে ঘাম আটকে যায়। ফলে ত্বকের উপরিভাগে ফুসকুড়ি এবং লাল দানার মতো দেখা যায়। কিছু কিছু ঘামাচি খুব চুলকায়।ঘামাচি সাধারণত এমনিতেই সেরে যায়। তবে ঘামাচি সারানোর জন্য ত্বক সব সময় শুষ্ক রাখতে হবে এবং ঘাম শুকাতে হবে। ব্রণ : সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে এই রোগটি দেখা দেয়। তাই একে টিনএজারদের রোগও বলা যেতে পারে। ১৮ থেকে ২০ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ রোগটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে তৈলাক্ত, ঝাল, ভাজাপোড়া খাবারসহ চকোলেট, আইসক্রিম ও অন্যান্য ফাস্টফুড খাওয়া কমাতে হবে। এ ছাড়া বেশি করে জল ও শাকসবজি খেতে হবে। দাদ : শরীরের যেকোনো স্থান ফাঙ্গাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একে দাদ বলে। এই আক্রমণ মাথার চামড়া, হাত-পায়ের আঙুলের ফাঁকে কিংবা কুঁচকিতে হতে পারে। এটি ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত স্থান চাকার মতো গোলাকার হয় এবং চুলকায়। প্রতিকার পেতে সাবান ও পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান প্রতিদিন ধুতে হবে। আক্রান্ত স্থান শুকনো রাখা জরুরি। পাঁচড়া : শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। পরিষ্কার কাপড়-চোপড় ব্যবহার ও নিয়মিত স্নান করলে খোসপাঁচড়া থেকে রেহাই পাওয়া যায়। একজিমা : একজিমা হলো ত্বকের এমন একটি অবস্থা, যেখানে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। একেক ধরনের একজিমার লক্ষণ একেক ধরনের হয়। তবে সাধারণভাবে লালচে, প্রদাহযুক্ত ত্বক; শুষ্ক, খসখসে ত্বক; ত্বকে চুলকানি; হাত ও পায়ের ত্বকের মধ্যে ছোট ছোট জলীয় ফুসকুড়ি ইত্যাদি হলো একজিমার লক্ষণ। ডিটারজেন্ট, সাবান অথবা শ্যাম্পু থেকে একজিমার সংক্রমণ হতে পারে। অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠা-া ও স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়াও একজিমার কারণ। সোরিয়াসিস : সোরিয়াসিস ত্বকের একটি জটিল রোগ। তবে এটি কেবল ত্বক নয়, আক্রমণ করতে পারে শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও। যেমন সন্ধি, নখ ইত্যাদি। সাধারণত ত্বকের কোষস্তর প্রতিনিয়ত মারা যায় এবং নতুন করে তৈরি হয়। সোরিয়াসিসে এই কোষ বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ত্বকের কয়েক মিলিমিটার থেকে কয়েক সেন্টিমিটার জায়গা জুড়ে এই সমস্যা দেখা দেয়। রোগ যত পুরনো হয়, ততই জটিল হতে থাকে। তাই দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার আওতায় আসা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে আজীবন চিকিৎসা নিতে হয়। আর্সেনিকের কারণে চর্মরোগ : আর্সেনিকযুক্ত জল খেলে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন : ত্বকের গায়ে ছোট ছোট কালো দাগ কিংবা পুরো ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে, হাত ও নখের চামড়া শক্ত ও খসখসে হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ত্বকের বিভিন্ন স্থানে সাদা-কালো দাগ দেখা দেওয়াসহ হাত ও পায়ের তালুর চামড়ায় শক্ত গুটি বা গুটলি দেখা দিতে পারে। তবে চিন্তার বিষয় হলো, আর্সেনিকযুক্ত জল পানের শেষ পরিণতি হতে পারে কিডনি ও লিভারের কর্মক্ষমতা লোপ পাওয়া; ত্বক, ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসার হওয়া; কিডনির কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া ইত্যাদি।

  • রোটাভাইরাস থেকে আপনার শিশুকে বাঁচান, সময় মত এই টীকা নিন

    newsbazar24: রোটা ঠেকাতে টীকাকরণে অবহেলা নয়।পাঁচ বছরের কমবয়সিদের মধ্যে ডায়রিয়ার যত সংক্রমণ হয়, তার চল্লিশ শতাংশই রোটা ভাইরাসঘটিত। তাই এই টীকাকরণ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে দিনকে দিন। রোটা ভাইরাসের হানা ঠেকাতে গেলে সচেতন থাকতে হবে অভিভাবকদেরও। চিনতে হবে রোগের লক্ষণও।গরমে বা বর্ষায় সামান্য নিয়মের অদলবদল বা খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম যে সব অসুখ ডেকে আনে, তার মধ্যে ডায়রিয়া অন্যতম। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই এই সময় ডায়রিয়া দাপিয়ে বেড়ায়। আবহাওয়া পরিবর্তনের হাত ধরে এই অসুখ গুঁড়ি মেরে ঢুকে পড়ে কিছু অসাবধানতাকে সঙ্গী করে। তাই একে ঠেকিয়ে রাখাই তখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় চিকিৎসকদের কাছে। বিশেষ করে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি।শিশুদের শরীরে এই ভাইরাসের হানা ঠেকাতে দেশের অন্যান্য অনেক রাজ্যের মতো এ রাজ্যেও এ বার শিশুদের জন্য শুরু হতে চলেছে রোটা ভাইরাস টীকাকরণ। পাঁচ বছরের নিচে বয়স, এমন শিশুদের ডায়রিয়ায় মৃত্যুর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী এই রোটা ভাইরাসের সংক্রমণ। ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে, আমাদের দেশে পাঁচ বছরের কমবয়সিপ্রায় নয় লক্ষ শিশু প্রতিবছর হাসপাতালে ভর্তি হয় শুধু এই সংক্রমণের কারণে।যার মধ্যে প্রায় আশি হাজার শিশু মারাও যায়। এদের মধ্যে প্রায় ষাট হাজার শিশুর মৃত্যু হয় জন্মের দু’বছরের মধ্যেই।রোটা ভাইরাসের হানা ঠেকাতে গেলে সচেতন থাকতে হবে অভিভাবকদেরও। চিনতে হবে রোগের লক্ষণও। কী ভাবে সংক্রামিত হয় রোটাভাইরাস? উপসর্গই বা কী? এক শিশুর মল থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ভাইরাস অন্য শিশুর শরীরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশ করার এক থেকে তিনদিনের মধ্যে শিশুটির বারবার পাতলা পায়খানা, বমি, জ্বর, পেটব্যথা ইত্যাদি শুরু হয়।  রোগ নির্ণয় কী ভাবে হয় ? অন্যান্য কোনও কারণে হওয়া রোগীকে দেখেসাধারণ ডায়রিয়া ও রোটাভাইরাসের আক্রমণে হওয়া ডায়রিয়ার মধ্যে কোনও পার্থক্য করতে পারেন না চিকিৎসকরা। মলের নমুনা সংগ্রহ করে এলাইজা বা পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা যায় এই ভাইরাস। তবে তা খরচসাপেক্ষ। সঙ্গে দ্রুততাও প্রয়োজন। সময় নষ্ট করা চলবে না একেবারেই। চিকিৎসা কী? যদি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে জানাও যায় যে রোটাভাইরাস থেকেই ডায়রিয়া হয়েছে, তবুও এর কোনও সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরালের কোনও ভূমিকা নেই এক্ষেত্রে। মূলত ওআরএস বা প্রয়োজনে স্যালাইন দিয়েই চিকিৎসা করা হয়। তাই এই টীকাকরণ আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ছে। তা হলে প্রতিরোধের উপায় কী? রোটাভাইরাস টীকাই প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।  কখন, ক’বার দিতে হবে টীকা? শিশুর দেড় মাস, আড়াই মাস ও সাড়ে তিন মাস বয়সে অন্যান্য টীকার (ওরাল ও ইঞ্জেক্টেবল পোলিও টীকা, পেন্টাভ্যালেন্ট টীকা) সঙ্গে এই টীকা খাওয়াতে হবে। কোথায় কী ভাবে খাওয়ানো হবে? গ্রাম ও শহরের সমস্ত সরকারি টীকাকরণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীরা ফ্রিজ-ড্রায়েড এই ভ্যাকসিনটি ওর সঙ্গেই সরবরাহকৃত অ্যান্টাসিড ডাইলুয়েন্টে মিশিয়ে একটি সূচবিহীন সিরিঞ্জে আড়াই মিলিলিটার টেনে তা ফোঁটা ফোঁটা করে শিশুর মুখের ভিতর গালের দিকে ঢেলে দেবেন। তবে এই টীকার জোগান দেশে কম, সেটাও একটি চিন্তার বিষয় বইকি। কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি? তেমন কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এই টীকার। অন্যান্য অনেক টীকার তুলনায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নগন্যই বলা যেতে পারে, তাও সামান্য জ্বরজ্বালা হলেতা চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য। কতখানি সুরক্ষা দেবে এই টীকা? রোটাভাইরাল ডায়রিয়ার অধিকাংশ বিপজ্জনক সেরোটাইপ বা স্ট্রেনের বিরুদ্ধে নব্বই শতাংশ বা তারও বেশি সুরক্ষা দেবে এই টীকা। অবশ্য অন্য যেসব কারণে ডায়রিয়া হয়ে থাকে, সেগুলোর প্রতিরোধও নানা ভাবে করা যায়। তার জন্য কিছু মূল নিয়মনীতি মানলেই চলে।

  • হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী কি বলেন, হৃরোগ সম্পর্কে ?

    News Bazar24: বিশ্বখ্যাত ভারতীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী। হৃরোগ সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পড়ুন এই প্রতিবেদন ১. হৃদপিন্ড আমাদের মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। একজন সাধারণ মানুষ তার নিজের হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়ার জন্য কী করতে পারেন? -ডায়েট: শর্করা জাতীয় খাবার কম, প্রোটিন বেশি এবং যতটা সম্ভব কম তেল। ব্যায়াম: দৈনিক জোরে আধঘন্টা করে সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন হাঁটা, লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার, সম্ভব হলে নিকট দূরত্ব হেঁটে চলাচল এবং পারতপক্ষে দীর্ঘক্ষণ স্থবির বসে থাকা পরিহার করা। ধূমপান ত্যাগ করা। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ও ডায়াবেটিস থাকলে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা ২. আমরা কি আমাদের চর্বিকে পেশিতে রুপান্তর করতে পারি? -এটা প্রচলিত ভয়ানক ধারণাগুলোর মধ্যে একটি। চর্বি চর্বিই, দেহের জন্য অত্যন্ত বাজে। পেশি আর চর্বির গঠন, টিস্যু এসব আলাদা। চর্বিকে পেশিতে রূপ দেয়ার ধারণাটি একটি মিথ্যা গুজব। ৩. একটা ব্যাপার খুবই ভয়ের যে, আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ-সবল মানুষও আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং কোনো লক্ষণ ছাড়াই। এই ব্যাপারটা আসলে কী? -হ্যাঁ, এটাকে আমরা আসলে ‘সাইলেন্ট অ্যাটাক’ বলে থাকি। আর সেজন্যই আমরা বয়স ত্রিশের বেশি এমন সবাইকে উপদেশ দিয়ে থাকি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে। ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের এটা মাথায় রাখা উচিত। ৪. অনেকেই বলে থাকেন, হৃদরোগ ব্যাপারটা বংশানুক্রমিক। আসলেই কি তা-ই? -হ্যাঁ। হৃদরোগ ব্যাপারটা বংশানুক্রমিক। ৫. হাঁটা না জগিং- কোনটা বেশি ভালো? নাকি অধিকতর তীব্র ব্যায়ামগুলো হৃদযন্ত্রের জন্য বেশি ভালো? -দুইয়ের মধ্যে সব দিক দিয়ে হাঁটাই ভালো। জগিং করলে আপনি অল্প সময়ে হাঁপিয়ে যাবেন। এছাড়াও পায়ের গোড়ালি ও হাঁটুর উপর বাজে প্রভাব পড়ে। জগিং থেকে আপনি হৃদযন্ত্রের জন্য যতটা উপকার আশা করেন হাঁটা থেকে তার সবটাই পাবেন, উল্টো এর কোনো বাজে দিক নেই। ৬. যারা নিম্ন রক্তচাপে ভোগেন, তারাও কি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন? ব্যাপারটা খুবই বিরল বলা যায়। ৭. কোলেস্টেরল কি ছোটবেলা থেকে জমা হওয়া শুরু হয়? নাকি পরিণত বয়সে বা ত্রিশের পর জমা শুরু হয়? -না, তা নয়। কোলেস্টেরল ছোটবেলা থেকেই নালীগাত্রে জমতে থাকে, এর জন্য পরিণত বয়স লাগে না। ৮. অনিয়মিত ও বাজে খাদ্যাভ্যাস কি হৃদপিণ্ডের উপর কোনো বাজে প্রভাব ফেলে থেকে? -যদি আপনি ভাজাপোড়া জাতীয় বিভিন্ন তৈলাক্ত খাবার খান বা এগুলোকেই ‘অনিয়মিত’ বুঝিয়ে থাকেন, তবে হ্যাঁ, এগুলো আপনার হৃদযন্ত্রের উপর বাজে প্রভাব ফেলে। অন্য ডাক্তারদের মতো তাঁরও পরামর্শ জাংক ফুড বর্জন করার। ৯. ঔষুধের সাহায্য ছাড়া কীভাবে আমরা কোলেস্টেরল কমাতে পারি বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি? -আপনার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন, সুষম খাবারে অভ্যস্ত হয়ে উঠুন আর নিয়মিত হাঁটুন। খাদ্যতালিকায় বাদাম জাতীয় খাবার রাখুন। এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ১০. খুব সোজা ভাষায় হৃদযন্ত্রের জন্য কোন খাবারগুলো ভালো আর কোনগুলো খারাপ? -ফল ও শাকসবজি হচ্ছে সবচেয়ে ভালো, আর সবচেয়ে খারাপ বলতে গেলে তেল। ১১. কোন তেল সবচেয়ে ভালো- সয়াবিন, অলিভ ওয়েল নাকি সরিষা? -সব তেলই খারাপ, বিশেষত আমরা যেভাবে খাই! ১২. নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা বলতে আসলে কী কী পরীক্ষা করাতে হবে? আপনি কি বিশেষ কিছু বলতে চান? -সাধারণ রক্ত পরীক্ষা, যেগুলোর দ্বারা আপনি বুঝতে পারবেন আপনার সুগার নিয়ন্ত্রণে কি না, ইসিজি, সামর্থ্য থাকলে ট্রেডমিল টেস্ট ও ইকোকার্ডিওগ্রাম। আর হ্যাঁ, রক্তচাপও পরিমাপ করাতে হবে। ১৩. হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিকভাবে কী করা উচিত? -ব্যক্তিকে আগে শোয়ান এবং তার জিহবার নিচে অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষুধ দিন। খুব দ্রুত নিকটস্থ কোনো করোনারি ইউনিটে নিয়ে যান। মনে রাখবেন, মোটামুটি বড় ক্ষতিটা একঘন্টার মাঝেই হয়, আর এক্ষেত্রে সময় মহামূল্যবান। তাই কোনোভাবেই সময় নষ্ট করবেন না। ১৪. আমরা হার্ট অ্যাটাকের জন্য বুকের ব্যথা আর গ্যাসের জন্য বুকের ব্যথার মধ্যে কীভাবে ফারাক করবো? -অনেক ডাক্তারের জন্যেও ব্যাপারটা কঠিন, যদিও অভিজ্ঞ ডাক্তাররা প্রায়ই সঠিক অনুমান করতে পারেন। ইসিজি ছাড়া বোঝা মুশকিল। আর তাছাড়া এটা নিজেরা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। ১৫. তরুণ প্রজন্মের মাঝে হৃদরোগ বাড়ছে, আপনার মতে এর কারণ কী? -আমি ৩০-৪০ বছর বয়সের অনেকের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া ও জটিল নানা জিনিস দেখি। আলসে জীবনযাত্রা, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, নেশা, ভাজাপোড়া, ফাস্ট ফুড ইত্যাদিই মূল কারণ। আপনি জেনে অবাক হবেন, আমরা জাতিগতভাবেই ইউরোপিয়ানদের চেয়ে তিনগুণ বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে। ১৬. একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কি ১২০/৮০ এর বাইরে রক্তচাপ থাকার পরেও তার সুস্থ থাকা সম্ভব? -হ্যাঁ, সম্ভব। ১৭. এটা কি সত্য যে, নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ হলে সেক্ষেত্রে সন্তানের হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে? -হ্যাঁ, এটা প্রায়ই হয় এবং অবৈজ্ঞানিক কিছু না। ১৮. আমরা অনেকেই অনিয়মিত জীবনযাপন করি, রাত জাগি। এগুলো কি হৃদযন্ত্রের জন্য খারাপ? -আপনি যখন বয়সে তরুণ, প্রকৃতিই আপনাকে এসব অনিয়মিত জীবনের কুপ্রভাব থেকে আপনাকে প্রতিরক্ষা দেয়। কিন্তু যখন বয়স বাড়বে, নিজের দেহঘড়িকে সম্মান করুন ও যত্ন নিন। ১৯. উচ্চ রক্তচাপের ঔষুধের কি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে? -হ্যাঁ, প্রায় সব ঔষুধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। তবে আধুনিক উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধী ঔষধগুলো বেশ নিরাপদ। ২০. অ্যাসপিরিন ও মাথাব্যথার ঔষধগুলো কি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়? -না। ২১. রাতজাগা কর্মীদের কি হৃদরোগের ঝুঁকি দিনের কর্মীদের চেয়ে বেশি হয়? -না। ২২. ডায়াবেটিস আর হার্ট অ্যাটাকের মাঝে কি কোনো যোগসূত্র আছে? -হ্যাঁ, অবশ্যই নিবিড় যোগসূত্র আছে। ডায়াবেটিস রোগীদের যাদের সুগার নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের ঝুঁকির মাত্রা বেশি। ২৩. ব্যস্ত সূচীর মাঝে সেভাবে হাঁটা হয় না, সেক্ষেত্রে কী করা? -সোজা ভাষায় বলি, একটানা বসে থাকবেন না। লাগলে অফিসে এক ডেস্ক থেকে অন্য ডেস্কে যান। কোনো কারণ ছাড়া অন্য ফ্লোরে সিঁড়ি দিয়ে যান। এতেও অনেক কাজ হয়। বাড়িতে টুকিটাকি কাজ করুন, এটাও ভাল। ২৪. ইয়োগা কি উপকারী? -হ্যাঁ, অবশ্যই। এটি চাপমুক্ত রাখে, যা হার্টের জন্য উপকারী। ২৫. আমাদের জীবনে নানা চাপ। নানা কারণে আমাদের হৃদযন্ত্র অত্যধিক চাপের মুখোমুখি হয়? একজন ডাক্তার হিসেবে আপনি চাপমুক্ত থাকার জন্য কি উপদেশ দেবেন? -জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি। দেখুন, জীবনের প্রতিটা ব্যাপারই যে একদম নিখুঁত হতে হবে, সবই যে সাফল্যমন্ডিত হতে হবে- এমন তো নয়। একটু অন্য আঙ্গিকে দেখুন জীবনটাকে।

  • দোল উৎসব,উপলক্ষে হোলি খেলার আগে চর্ম বিশেষজ্ঞ ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারবাবুদের পরামর্শ মেনে চলুন

    মালদা, ২১ মার্চ : রঙের উৎসব দোল উৎসব, আর এই দোল উৎসবে যেন আনন্দ ফিকে না হয়ে যায়, তেমন কিছু পরামর্শ দিলেন চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাঃ কপিল দেব দাস ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মলয় সরকার।  বসন্ত উৎসব মানে রঙ আর আবিরের উৎসব। অনেক সময় কেমিক্যাল রং এর কারনে চোখে বা শরীরের চামড়ায় ক্ষতি হতে পারে। কিভাবে রং খেলবেন, কিভাবে সেই আবির বা রং থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন, কি ধরনের রং বা আবির মাখা উচিত, সমস্ত বিষয়গুলি চিকিৎসকেরা জানান। আনন্দের উৎসবে যদি কোন কারনে কোন সমস্যা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই যেন তারা চিকিৎসক বা হাসপাতালে চিকিৎসা করাবেন। তারা এও জানান, আনন্দের এই রঙের উৎসব যেন কোন কারণে দুঃখের না হয় সেই কারণে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

  • মধু ও আমলকি একসাথে খেলে আপনার কি কি উপকার হবে ?

    মধু ও আমলকি একসাথে খেলে আপনার কি কি উপকার হবে ? কীভাবে তৈরি করবেন মধু আমলকী একটি মাঝারি আকৃতির বয়ামে অর্ধেক পরিমাণ মধু নিন। এর মধ্যে কয়েকটি আমলকি দিন। বয়ামের মুখ বন্ধ করে দিন। কিছুদিন পর দেখবেন আমলকি নরম হয়ে গেছে। এটি অনেকটা জ্যামের মতো হয়ে যাবে। মিশ্রণটি প্রতিদিন সকালে খেতে পারেন। তবে যেকোনো খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এবার জেনে নিন মধু আমলকীর গুণাগুণ মধু ও আমলকি একসাথে খেলে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এটি লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এটি লিভারের কার্যক্ষমতা ভালো করতে সাহায্য করে। বার্ধক্যের চিহ্ন প্রতিরোধ করে মধুর মধ্যে আমলকি মিশিয়ে খেলে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার গতিকে ধীর করে। এই উপকার পেতে মিশ্রণটি প্রতিদিন এক চা চামচ করে খেতে হবে। এটি বলিরেখা দূর করতেও সাহায্য করে। অ্যাজমা প্রতিরোধ করে মধুর মধ্যে আমলকি ভিজিয়ে খেলে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা অনেকটাই কমে। এরমধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এটি ফুসফুস থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে এবং ফ্রি রেডিকেলস দূর করতে সাহায্য করে। এটি ফুসফুসের নালীকে সরু করে দেয় এবং অ্যাজমার আক্রমণ প্রতিরোধ করে। কফ, ঠান্ড প্রতিরোধ করে কফ, ঠান্ডা এবং গলার সংক্রমণ প্রতিরোধে এই মিশ্রণ বেশ সাহায্য করে। ঠাণ্ডার সময় এক টেবিল চামচ আমলকি ও মধুর মিশ্রণ খেলে আরাম পাওয়া যায়। এর সাথে একটু আদার রস মেশাতে পারেন। আমলকি ও মধু গলার সংক্রমণের সাথে লড়াই করে। হজমের সমস্যা সমাধানে এসিডিটি আর হজমের সমস্যা সমাধানে আমলকি ও মধু খুব ভালো উপাদান। এটি খাবার ভালোভাবে হজমে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও সাহায্য করে। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে আমলকি ও মধুর মিশ্রণ শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে এই মিশ্রণ খেলে অন্ত্র ও রক্তের বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়।

  • ব্রেস্ট ক্যান্সার “ কি করে রোধ করবেন ? জানতে হলে লিংক এ ক্লিক করুন…..

    এখন প্রচুর মানুষের এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে অনেকটাই সাহায্য করে ব্রেস্ট ম্যাসাজ। ব্রেস্ট ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং মেয়েদের শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোনের পরিমাণ বাড়ে। যা কিনা ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোন ব্রেস্ট ক্যান্সার হাওয়া থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত ব্রেস্ট ম্যাসাজ করলে ব্রেস্টের টিস্যুগুলির পরিবর্তন হয়। যা ক্যান্সার থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করে। ব্রেস্টে ব্যথা অনেকেরই ব্রেস্টে ব্যথা হয় যখন পিরিয়ড চলে। এই ব্যথা কমাতে ব্রেস্ট ম্যাসাজ করা দরকার। নিয়মিত ব্রেস্ট ম্যাসাজ করলে এই ধরনের ব্যথা, অস্বস্তি কমে যায়। কিন্তু যদি খুব বেশি ব্যথা করে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। ব্রেস্ট স্যাগিং অনেকেরই ব্রেস্ট খুব অল্প বয়সেই ঝুলে যায়। এতে খুবই অস্বস্তি হয় ও বাজে দেখতে লাগে। এটি আটকাবার জন্য ব্রেস্ট ম্যাসাজ দরকার। রোজ একটু করে, বা সপ্তাহে তিনদিন করলে এই সমস্যা আটকান যায়। ব্রেস্ট ম্যাসাজ ব্রেস্টকে টাইট রাখতে বেশ সাহায্য করে। তার ফলে ব্রেস্ট ঝুলে যায় না। ব্রেস্ট শেপ অনেকেরই শরীরের বৃদ্ধি ঘটার সাথে সাথে ব্রেস্টের বৃদ্ধি সেই ভাবে ঘটে না। এর জন্য নিজের খুবই অস্বস্তি হয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ব্রেস্ট ম্যাসাজের থেকে ভালো আর কিছু হয়না। নিয়মিত ব্রেস্ট ম্যাসাজ করলে ব্রেস্টে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। টিস্যুগুলির পরিবর্তন হয়। তার ফলে ধীরে ধীরে ব্রেস্ট বাড়তে থাকে। রোজ স্নানের সময় ব্রেস্ট ম্যাসাজ করলে দেখবেন আস্তে আস্তে ব্রেস্টের বৃদ্ধি ঘটছে। ডিপ্রেশন ব্রেস্ট ম্যাসাজ শুধু ব্রেস্টের বৃদ্ধি ঘটাতে, বা ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে না, বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত ব্রেস্ট ম্যাসাজ নাকি ডিপ্রেশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ব্রেস্ট ম্যাসাজ তিনটি এমন হরমোনের বৃদ্ধি ঘটায় যা এই ডিপ্রেশনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ সাহায্য করে। এগুলি শরীরের এজিং প্রসেসকেও নিয়ন্ত্রণ করে। যেটি ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ব্রেস্ট ম্যাসাজ করার কিছু নিয়ম আছে:- ১. ব্রেস্ট যদি বেশি ঝুলে যায় তাহলে, অয়েল ম্যাসাজ করুন। অলিভ তেল বা নারকেল তেল ম্যাসাজ করতে পারেন। এছাড়াও বরফ ম্যাসাজ ব্রেস্টকে সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। কয়েকটা বরফের টুকরো নিয়ে ব্রেস্টের চারপাশে গোল করে ম্যাসাজ করুন। বা কাপড়ের মধ্যে বরফ নিয়েও ম্যাসাজ করতে পারেন। এতেও কাজ হবে। ২. এছাড়াও সরষের তেল সবার বাড়িতেই থাকে। একটু সরষের তেল গরম করে ব্রেস্টএর চারপাশে গোল করে হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করুন। বা ব্যবহার করতে পারেন খাঁটি মধু। এটি ব্রেস্টের শেপ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সাথে সাথে ম্যাসাজের ফলে রক্ত সঞ্চালনও বাড়ে। ৩. যদি হাতের কাছে কোন তেল না থাকে তাহলে, হাত দুটো ঘষে প্রথমে গরম করে নিন। তারপর গরম হাত দুটো ব্রেস্টের তলায় রাখুন। এরপর দুটো হাত দুদিক থেকে, একটা হাত ঘড়ির কাঁটার দিকে আর অন্য হাতটি ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে ম্যাসাজ করুন। রোজ ১০ থেকে ১৫ মিনিট এই ম্যাসাজ করুন। তাহলে দেখলেন তো ব্রেস্ট ম্যাসাজেরও কত গুণ রয়েছে। তাই ব্রেস্ট ম্যাসাজ শুধু ব্রেস্টের সৌন্দর্য বাড়াতে নয়, ব্রেস্ট ক্যান্সারের মত ভয়াবহ রোগের হাত থেকে নিজেকে দূরে রাখতে রোজ একটু করে ব্রেস্ট ম্যাসাজ করুন ।              - জিৎ বর্মন

  • জ্বর নিয়ে হাজার মতামত ! জেনেনিন জ্বর হলে আপনার করনীয় কি?

    News bazar24: রাজ্য জুড়ে ভাইরাল জ্বরের কবলে অসংখ্য মানুষ। জ্বর নিয়ে মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। বেশ কিছু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মানুষের অনভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে লুটে চলেছে পয়শা। অথচ একটু সচেতন হলেই মানুষ জানতে পারবেন জ্বরের প্রকার ভেদ ও লক্ষ্মণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক জ্বর নিয়ে নানা তথ্য আমাদের জানালেন  ডা: সূর্য কান্ত ত্রিপাঠী।     চিকেন পক্সের লক্ষণ, চিকিৎসা, প্রতিকার জীবানুঃ ভ্যারিসেলা জোস্টার নামক ভাইরাস। বিবরণঃ খুব ছোয়াচে একটি রোগ, মূলত শিশুরাই এর আক্রমনের শিকার হয় তবে বয়স্করাও এর হাত থেকে নিরাপদ নয়। লক্ষনঃ সাধারণত আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংষ্পর্শে এলে ২-৩ সপ্তাহ পরে এই রোগের লক্ষন দেখা দেয়। প্রথম দিকে হঠাৎ করেই জ্বর আসে, পিঠের পিছনের দিকে ব্যথা হয় এবং গা ম্যাজ ম্যাজ করে। জর আসার ১ অথবা ২ দিন পর প্রথমে শরীরের উপরের অংশে এবং পরে মুখ ও হাতে পায়ে ফুস্কুরির মতো গোটা উঠে। ১ দিনের মধ্যেই এটা পেকে যায় বা এতে পুঁজ জমে। অল্প কিছু দিনেই এটা শুকিয়ে চল্টা পড়ে। জটিলতাঃ অনেক সময় এর জটিলতা হিসাবে                নিউমোনিয়া, এনকেফেলাইটিস, গ্লুমেরুলোনেফ্রাইটিস সহ ইত্যাদি রোগ হতে পারে। চিকিৎসাঃ শিশুদের লক্ষন উপশম ব্যতিত তেমন কোন চিকিৎসার প্রয়জন নেই। তবে ফুস্কুরিতে ইনফেকশন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়টিক খেতে হতে পারে। যেসব রোগীর রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কম অথবা যাদের বয়স বেশী কিংবা রোগের তীব্রতা বেশী তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিভাইরাল (এসাইক্লোভির) খেতে হতে পারে। টাইফয়েড টাইফয়েড রোগের জীবাণু হলো সালমোনেলা টাইফি (প্যারা টাইফয়েডের-সালমনেলা প্যারা টাইফি)। লক্ষণঃ প্রথমে অল্প মাত্রার জর হলেও এর তীব্রতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং ৪ -৫ দিন পর তা অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় পৌছে। এর সাথে মাথা ব্যথা, শরীর ও হাতে পায়ে ব্যথা সহ গা ম্যাজ ম্যাজ করা ভাব ও থাকে। পরীক্ষাঃ ব্লাড কালচার এর নির্দিষ্ট পরীক্ষা, এ ছাড়া ভিডাল (widal) টেষ্ট দ্বারাও এরোগ নির্ণয় করা যায় । চিকিৎসাঃ ব্লাড কালচার এর ফলাফল অনুযায়ী অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট এন্টিবায়োটিক সেবন করতে অথবা শিরায় গ্রহন করতে হয়। সাবধাণতাঃ চিকিৎসা না নিলে এ রোগের জটিলতা হিসাবে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।      কালাজ্বর কালাজ্বরের কারন, লক্ষণ ও চিকিৎসা হিন্দি দুটি শব্দ কালা এবং আজর থেকে কালাজ্বর শব্দটি এসেছে। কালা অর্থ কাল এবং আজর শব্দের অর্থ ব্যাধি। তাই যে অসুখে ভুগলে শরীর কালো হয়ে যায় তাকে কালাজ্বর বলে। লিশমেনিয়া ডোনোভানি জাতীয় প্রটোজোয়া যা স্যান্ড ফ্লাই দাড়া মানুষে সংক্রমিত হয়। লক্ষনঃ প্রথমে অল্প মাত্রার জর থাকলেও পরবর্তীতে তা তীব্র মাত্রা ধারণ করে এবং নিয়মিত বিরতিতে আসা যাওয়া করে। ধীরে ধীরে মুখের রঙ কালচে হয়ে যাওয়া সেই সাথে কাশি এবং ডায়রিয়া ও থাকতে পারে। পরীক্ষাঃ অস্থি মজ্জা থেকে স্মেয়ার নিয়ে জীবানু সনাক্ত করা হয়, লিম্ফ নোড, লিভার বা প্লিহা (spleen) থেকেও স্মেয়ার নেয়া যায়, এসব কালচার করেও জীবানু নিশ্চিত করা যায়। রক্ত (সেরোলোজিকাল) পরীক্ষার মাধ্যমে ও এই রোগ নির্ণয় (৯৫%) করা যায়। চিকিৎসাঃ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সোডিয়াম স্টিলবোগ্লুকোনেট নামক ঔষধ শিরায় প্রয়োগ করতে হয়।              ইনফ্লুয়েঞ্জা ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) এর কারন, লক্ষণ ও চিকিৎসা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এ অথবা বি মানব দেহে এই রোগ করে থাকে। লক্ষনঃ কাপুনি দিয়ে জর, সমস্ত শরীর ও হাতে পায়ে ব্যথা, তীব্র মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা এবং শুকনো কাশি এই রোগের লক্ষন হিসাবে পরিচিত। পরীক্ষাঃ তেমন কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হয়না তবে সি,এফ,টি পরীক্ষাটি করে অনেক সময় রোগ নির্ণয় করা হয়। চিকিৎসাঃ বিশ্রাম নেয়া সেই সাথে জর উপশমের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেলে এই রোগ এমনিতেই ভালো হয়ে যায়, তবে সাথে অন্য ইনফেকশন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। জটিলতাঃ এ রোগের জটিলতা হিসাবে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, নিউমনিয়া সহ অন্যান্য রোগ দেখা দিতে পারে।       ম্যালেরিয়া ম্যালেরিয়া জ্বরের কারন, লক্ষণ ও চিকিৎসা প্লাজমোডিয়াম, ফেলসিপেরাম*, ভাইভক্স, ওভালে অথবা ম্যালেরি এর যেকোনো একটি জীবানু বহনকারী মশার দংশন থেকে এ রোগ হয়। লক্ষনঃ খুব উচ্চ তাপমাত্রায় (চল্লিশ ডিগ্রি ফাঃ পর্যন্ত) কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা এবং তা ঘাম দিয়ে ছেড়ে যাওয়া। জ্বর আসা যাওয়া নিয়মিত ও নির্দিষ্ট বিরতিতে (যেমন ১ দিন পর পর ৩-৪ ঘন্টা দীর্ঘ) হতে পারে তবে এটা ঠিক কোন জীবানু টি আক্রমণ করেছে তার উপর নির্ভরশীল। পরীক্ষাঃ রক্তের ব্লাড ফিল্ম নামক পরীক্ষাটি দ্বারা জীবানু নিশ্চিত করা যায়। চিকিৎসাঃ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্লোরোকুইন, কুইনাইন, ফেন্সিডার ইত্যাদি নির্দিষ্ট নিয়মে সেবন করতে হয়। জটিলতাঃ রক্ত শুন্যতা, প্লিহা (Spleen) বড় হয়ে যাওয়া, কোমা সহ মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিরোধঃ কোনো অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব থাকলে সে স্থানে যাবার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কলোরোকুইন বা প্রগুয়ানিল জাতীয় ঔষধে এ রোগের প্রকোপ থেকে বাচা যায়।               ডেংগু / ডেঙ্গী জ্বরের কারন, লক্ষণ ও চিকিৎসা দুই ধরণের ডেঙ্গু রোগ লক্ষ্য করা যায়, ক্লাসিকাল ডেংগু ও হেমোরেজিক ডেংগু। ক্লাসিকাল ডেংগু রোগ হলে হঠাৎ করে তীব্র জর, মাথা ব্যাথা, তীব্র শরীর ব্যাথা সেই সাথে rash উঠতে পারে, যা প্রথমে পায়ে এবং পরে বুকে এবং পিঠের দিকে ছড়ায়। সাধারণত ৩-৪ দিন পর জর চলে যায় এবং পরে তা আবার অল্প মাত্রায় আসতে পারে। হেমোরেজিক ডেংগু হলো দুই ধরণের ডেঙ্গুর সবচেয়ে খারাপ ধরণ টি। সাধারণত একই রোগীর দ্বিতীয় বার ডেংগু জর হলে এমনটি হয় বলে ধরে নেয়া হয়। রোগটি শুরু হয় অল্প মাত্রার জর দিয়ে এবং শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। এ রোগ হলে হঠাৎ করেই রোগী শক এ চলে যেতে পারে এবং ত্বক, কান, নাক এমনকি পায়ুপথ দিয়ে রক্তপাত শুরু হতে পারে। এই ধরনের ডেংগু জরে রোগীর মৃত্যুর হার বেশী। পরীক্ষাঃ বিভিন্ন পরীক্ষার (নিউট্রালাইজেশন, সিএফটি, হিমাগ্লুটিনেশন) মাধ্যমে রক্তে ডেংগুর এন্টিবডি দেখে এই রোগ শনাক্ত করা হয়। রক্তে প্লাটেলেট কমে যায় বলে বার বার প্লাটেলেট কাউন্ট ও এস,জি,পি,টি পরীক্ষা সহ অন্য পরীক্ষাও করা হয়ে থাকে। চিকিৎসাঃ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হয়েই এই রোগের চিকিৎসা নেয়া উচিত। এর পরেও কোনো সমস্যা হলে আপনার নিকটতম স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। জ্বর সংক্রান্ত যে কোনো পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয়। আপনি খবরটি পড়লেন newsbazar24 এ।