কৃষি কথা

  • জেনে নিন পটল চাষের অভিনব পদ্ধতি

    newsbazar24:  পটল একটি জনপ্রিয় উচ্চমূল্য সবজি। পটল বর্তমানে সারা বছর ধরেই পাওয়া যায়।  গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালে বাজারে যখন অন্যান্য সবজি কম পাওয়া যায় তখন পটল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।দেশের সকল এলাকাতেই পটল চাষ করা সম্ভব। পটল চাষে জলবায়ুঃ পটল গাছের দৈহিক বৃদ্ধি এবং ফলনের জন্য উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়া প্রয়োজন। পটলের জন্য উচ্চতর তাপমাত্রা এবং অধিক সূর্যালোক প্রয়োজন হয়। বৃষ্টিপাতের আধিক্য ফুলের পরাগায়নে বিঘ্ন ঘটায় এবং ফলন কমে যায়।  পটল চাষে মাটিঃ জল নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন উঁচু ও মাঝারী উঁচু জমি এবং বেলে দো-আঁশ থেকে দো-আঁশ মাটি পটল চাষের জন্য উপযোগী। পটল বেশ খরা সহিষ্ণু। তবে জলের ঘাটতি দীর্ঘায়িত হলে ফলন কমে যায়। পটল চাষে রোপণের সময়ঃ বর্ষার শেষে আশ্বিন-কার্তিক মাস এবং শীতের শেষে ফাল্গুন-চৈত্র মাস পটল লাগানোর উপযুক্ত সময়। পটল চাষে জমি তৈরি ও রোপণঃ আমাদের দেশে পটলের চাষ করা হয় বাণিজ্যিকভাবে। পটলের জমি গভীর করে ৪-৫ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে প্রস্তুত করতে হবে। জমি চাষ করার পর বেড তৈরি করে নিতে হবে। বেড পদ্ধতিতে পটল চাষ করা ভাল। এতে বর্ষাকালে ক্ষেত নষ্ট হয় না। সাধারণত একটি বেড ১.০-১.৫ মিটার চওড়া হয়। বেডের মাঝামাঝি এক মিটার থেকে দেড় মিটার পর পর মাদায় চারা রোপণ করতে হবে। এক বেড থেকে আর এক বেডের মাঝে ৭৫ সেমি. নালা রাখতে হবে। মাদা বা পিট তৈরি মাদা বা পিটের আকার- দৈর্ঘ্য- ৫০ সেমি. প্রস্থ- ৫০ সেমি. গভীরতা- ৪০ সেমি. নালা- ৭৫ সেমি. মাদা থেকে মাদার দূরত্ব-১.০-১.৫ মিটার মাদায় গাছের দূরত্ব-৭.০-১০.০ সেমি. গভীরতা-৫০ সেমি. মোথার সংখ্যা ১০,০০০ হেক্টর স্ত্রী গাছপ্রতি ১০টি স্ত্রী গাছের জন্য ১টি পুরুষ গাছ যথাযথ পরাগায়নের ক্ষেত্রে ১০% পুরুষ জাতের গাছ লাগানো উচিত এবং এসব গাছ ক্ষেতের সব অংশে সমানভাবে ছড়িয়ে লাগাতে হবে। পটল চাষে সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ পটলের ভাল ফলন পেতে হলে গোবর বা আবর্জনা সার ভালোভাবে পচানো দরকার। পটল দীর্ঘমেয়াদি সবজি ফসল, এ জন্য মে মাস থেকে ফসল সংগ্রহের পর প্রতি মাসে হেক্টরপ্রতি ১৮ কেজি ইউরিয়া, ২৫ কেজি টিএসপি এবং ১৪ কেজি এমপি সার উপরি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এতে ফলন বেশি হবে। পটল ক্ষেতের পরিচর্যাঃ পটল একটি লতানো উদ্ভিদ। পটল গাছ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে জমিতে মাচা তৈরি করে ইহার গোড়ায় বাঁশের কঞ্চি বা কাঠি পুঁতে মাচায় তুলে দিতে হবে। এক মিটার উচ্চতায় মাচা দিলে পটলের ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়। পটলের মাচা দুই ভাবে দেওয়া যায়। বাঁশের তৈরি আনুভূমিক এবং রশি দ্বারা তৈরি খাড়া বা উল্লম্ব। মাচার দৈর্ঘ ও প্রস্থ হবে বেডের সমান। পটলের মাচা বেশ খরচ সাপেক্ষ। তাই অনেক এলাকায় পটল চাষীরা বাউনির বদলে মাটির উপর খর-কুটা বা কচুরিপানা দিয়ে তার উপর গাছ তুলে দেয়। এতেও ভাল ফলন পাওয়া যায় এবং উৎপাদন খরচও কম হয়। প্রতিবার ফসল সংগ্রহের পর মরা, রোগ ও পোকা আক্রান্ত পাতা ও শাখা ছাঁটাই করতে হবে। এতে ফলধারী নতুন শাখার সংখ্যা বেড়ে যায় এবং ফলন বেশি হয়। পটল চাষে আগাছা দমনঃ পটলের জমিতে নানা ধরণের আগাছা জন্ম নেয়। এসব আগাছা জমি থেকে খাদ্য গ্রহণ করে পটল গাছকে দুর্বল করে দেয় ফলে পটলের ফলন কমে যায়। তাই পটলের জমি সবসময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। পটল চাষে পরাগায়নঃ পটল চাষের ক্ষেত্রে কৃত্রিম পরাগায়ন একটি জরুরি বিষয়। চারা লাগানোর তিন মাসের মধ্যে পটলের ফুল আসতে শুরু করে। পটল একটি পরপরাগায়িত উদ্ভিদ। স্ত্রী ফুল ও পুরুষ ফুল আলাদা গাছে ফোটে। কাজেই পরাগায়ন না হলে পটলের ফলন পাওয়া যাবে না। পটলের পরাগায়ন সাধারণত বাতাস এবং কীটপতঙ্গের দ্বারা হয়ে থাকে। তবে জমিতে পুরুষ ফুলের সংখ্যা খুব কমে গেলে কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন করা প্রয়োজন হয়। পটল গাছে পরাগায়নের জন্য স্ত্রী ও পুরুষ ফুল দরকার। একটি সদ্য ফোটা পুরুষ ফুল তুলে নিন এবং পুংকেশর নির্বাচন করে ফুলের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ফেলুন। তারপর প্রতিটি স্ত্রী ফুলের গর্ভকেশরের মুন্ডু পুংকেশর দ্বারা আস্তে আস্তে ২-৩ বার ছুঁয়ে দিন। এর ফলে গর্ভকেশরে পুংকেশর থেকে রেণু আটকে পরাগায়ন হবে। একটি পুরুষ ফুল দিয়ে সাধারণত ৭-৮টি স্ত্রী ফুলে পরাগায়ন করা সম্ভব। তা ছাড়া পুরুষ ফুল সংগ্রহ করে তা থেকে পরাগরেণু আলাদা করে জলযুক্ত একটি প্লাস্টিক পাত্রে নিয়ে হালকা ঝাকি দিয়ে পরাগরেণু মিশ্রিত করে টিউবের মাধ্যমে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডের ওপর ২-৩ ফোঁটা ব্যবহার করেও পরাগায়ন সম্পন্ন করা যায়। এ পদ্ধতিতে পটলের ফলন অনেক বৃদ্ধি পায়। মুড়ি ফসলঃ পটল গাছ থেকে প্রথম বছর ফসল সংগ্রহ করার পর গাছের গোড়া নষ্ট না করে রেখে দিয়ে পরবর্তী বছর পরিচর্যার মাধ্যমে গুড়িচারা থেকে যে ফসল পাওয়া যায় তাকেই মুড়ি ফসল বলে। পটল চাষে রোগ প্রতিরোধঃ ফলের মাছিপোকা পটলের বেশ ক্ষতি করে। স্ত্রী পোকা কচি ফলের ত্বক ছিদ্র করে ভিতরে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়া বেড় হয়ে ফলের ভিতরের নরম অংশ খায়। এতে পটল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় ফল ঝরে যায়। প্রতিকারঃ জমি পরিষ্কার রাখতে হবে। আক্রান্ত ফল দেখা মাত্র সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে। বিষটোপ বা ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা দমন করতে হবে। নাহলে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। কাঁঠালে পোকাঃ পূর্ণাঙ্গ পোকা ও কীড়া পাতার সবুজ অংশ খেয়ে জালের মতো ঝাঝরা করে ফেলতে পারে। ফলে পাতা শুকিয়ে মরে যায় এবং গাছ আস্তে আস্তে পাতাশূণ্য হয়ে পড়ে। আক্রমণ তীব্র হলে গাছ মারা যায়। প্রতিকারঃ এ পোকার আক্রমণ দেখামাত্রই পাতাসহ পোকার ডিম ও কীড়া সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলতে হবে। নিম বীজের মিহিগুড়া ৩০-৪০ গ্রাম এক লিটার জলে ১২-১৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে জল ছেকে নিয়ে ঐ জল আক্রান্ত গাছে স্প্রে করলে পোকা দমন হয়। অথবা কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। পটল চাষে ফলনঃ জাত ও পরিচর্যার উপর পটলের ফলন নির্ভর করে। আধুনিক জাতগুলো চাষ করলে এবং সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে বিঘাপ্রতি ৪০০০ থেকে ৫০০০ কেজি ফলন পাওয়া যায়। পটল সংগ্রহঃ পটল কচি অবস্থায় সংগ্রহ করা উচিত। জাতভেদে ফুল ফোটার ১০-১২ দিন পর পটল সংগ্রহের উপযোগী হয়। পটল এমন পর্যায়ে সংগ্রহ করা উচিত যখন ফলটি পূর্ণ আকার প্রাপ্ত হয়েছে কিন্তু পরিপক্ক হয়নি।

  • জানেন কি টমেটোর চাষ পদ্ধতি ও বাজারে এর চাহিদা ? জেনে নিন

    newsbazar24: টমেটো একটি ফল হলেও সব্জি হিসেবেই সারাবিশ্বে এটি বেশি পরিচিত।এর ইংরেজি নাম Tomato ও বৈজ্ঞানিক নাম Solanum lycopersicum. সব্জি এবং সালাদ হিসেবে ব্যাবহার করা টমেটোকে।চাষীরা দেশের বাজারে টমেটোর চাহিদা মিটিয়ে বাহিরে রপ্তানি করেও অনেক অর্থ উপার্জন করছে। টমেটোর পুষ্টিগুণ টমেটোতে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘সি’ আছে। তাছাড়া, লাইকোপেন নামে টমেটোতে বিশেষ এক ধরণের উপাদান রয়েছে যা পাকস্থলী, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, কোলন, স্তন, প্রোস্টেট, মূত্রাশয় ইত্যাদি অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। টমেটোর চাষ পদ্ধতি শীতকালীন সবজি এবং ফসল হলেও এর কয়েকটি জাত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে চাষ করা যায়। তবে আমাদের দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই শীতকালীন টমেটো চাষ করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশের অনেক স্থানে এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে টমেটো চাষ ও বাজারজাত করা হয়। টমেটোর বীজ সংগ্রহ টমেটোর বীজ সংগ্রহের জন্য প্রথমত পাকা ও পুষ্ট টমেটো সংগ্রহ করতে হবে। তারপর বালতি বা গামলাতে ২-৩ দিন রেখে দিতে হবে। বীজ মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া করতে হবে যাতে বীজগুলো ফলের আঠালো অংশ থেকে আলাদা হয়ে যায়। তারপর চালনির সাহায্যে বীজ আলাদা করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। জমি তৈরি ১. টমেটো গ্রীষ্মকালে চাষের জন্য ২০-২৫ সে.মি. উঁচু ও ২৩০ সে.মি. চওড়া বেড তৈরি করে নিতে হবে। ২. টমেটো চাষের জন্য জমি ৪-৫ বার চাষ দিয়ে মাটি ঝরঝরে করে নিতে হবে। ৩. সেচের সুবিধার জন্য দু’টি বেডের মাঝে ৩০ সে.মি. নালা রাখলে ভাল। টমেটোর বীজ বপন ও চারা রোপণ পদ্ধতি ১. প্রত্যেকটি বেডে দুই সারি করে চারা রোপণ করতে হবে। এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব ৬০ সে.মি. রাখতে হবে। ২. টমেটোর বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিন পর চারা রোপণের উপযোগী হয়। ৩. প্রতি সারিতে চারার দূরত্ব ৪০ সে.মি. রেখে ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হবে। সার প্রয়োগ পদ্ধতি টমেটোর মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরণ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ভালো থাকে। গবাদি পশুর থেকে প্রাপ্ত গোবর ও বিভিন্ন পঁচা আবর্জনা সার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। টমেটোর চাহিদা ও বাজার সম্ভাবনা  আমাদের দেশে টমেটোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।টমেটো চাষ করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয় করা সম্ভব। এছাড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত উৎপাদন বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে।

  • জেনে নিন মাছ চাষের আধুনিক কৌশল

    newsbazar24: মাছ হচ্ছে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস। কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন এবং পুষ্টি সরবরাহে মৎস্য সম্পদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। মাছ চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে, যেমন- একই পুকুরে নানা জাতের মাছ চাষ করা যায়, খাল ও ডোবায় মাছ চাষ করা যায়, আবার চৌবাচ্চায়ও মাছের চাষ করা যায়। সাধারণত মাছের জন্য পুকুরে খাবার উৎপাদনই হচ্ছে মাছ চাষ। এটি কৃষির মতোই একটি চাষাবাদ পদ্ধতি। আবার কোনো নির্দিষ্ট জলাশয়ে/জলসীমায় পরিকল্পিত উপায়ে স্বল্প পুঁজি, অল্প সময় ও লাগসই প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছের উৎপাদনকে মাছ চাষ বলে। মূলত বিভিন্ন নিয়ম মেনে প্রাকৃতিক উৎপাদনের চেয়ে অধিক মাছ উৎপাদনই মাছ চাষ।এসব মাছ খুব দ্রুত বাড়ে; খাদ্য ও জায়গার জন্য একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না; পুকুরে বেশি সংখ্যায় চাষ করা যায়; জলের সব স্তর থেকে খাবার গ্রহণ করে, তাই পুকুরের পরিবেশ ভালো থাকে; এসব মাছ খেতে খুব সুস্বাদু; বাজারে এসব মাছের প্রচুর চাহিদা আছে; সহজে রোগাক্রান্ত হয় না। বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের জন্য পুকুরকে প্রস্তুত করে নেওয়া ভালো। কারণ একটি পুকুর মাছ চাষের উপযুক্ত না হলে এবং পুকুর প্রস্তুত না করে চাষ শুরু করে দিলে বিনিয়োগ ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। ঝুঁকি এড়াতে এবং লভ্যাংশ নিশ্চিত করতেই বৈজ্ঞানিক কৌশল অনুসরণ করে পুকুর প্রস্তুত করতে হবে।   মাছ চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতি ১. পুকুরের পাড় ও তলা মেরামত করা; ২. পাড়ের ঝোপ জঙ্গল পরিষ্কার করা; ৩. জলজ আগাছা পরিষ্কার করা; ৪. রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর করা; ১. পুকুর শুকানো; ২. বার বার জাল টানা; ৩. ওষুধ প্রয়োগ- রোটেনন। পরিমাণ ২৫-৩০ গ্রাম/শতাংশ/ফুট। এর বিষক্রিয়ার মেয়াদ ৭-১০ দিন। প্রয়োগের সময় রোদ্রজ্জ্বল দিনে। ২. ফসটক্সিন/কুইফস/সেলফস ৩ গ্রাম/শতাংশ/ ফুট। মেয়াদ এবং সময় পূর্বের মতো; ৫. চুন প্রয়োগ: কারণ/কাজ/উপকারিতা সাধারণত ১ কেজি চুন/শতাংশ প্রয়োগ করতে যদি ঢ়ঐ এর মান ৭ এর আশেপাশে থাকে। বছরে সাধারণত ২ বার চুন প্রয়োগ করতে হয়। একবার পুকুর তৈরির সময়, দ্বিতীয় বার শীতের শুরুতে কার্র্তিক অগ্রহায়ণ মাসে।   চুন প্রয়োগের উপকারিতা ও সাবধানতা ১. জল পরিষ্কার করা/ঘোলাটে ভাব দূর করা; pH নিয়ন্ত্রণ করে; রোগ জীবাণু ধ্বংস করে; মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়; বিষাক্ত গ্যাস দূর করে; শ্যাওলা নিয়ন্ত্রণ করে। চুন কখনও প্লাস্টিকের কিছুতে গোলানো যাবে না; পুকুরে মাছ থাকা অবস্থায় চুন গোলানোর ২ দিন পর পুকুরে দিতে হয়; গোলানোর সময় এবং দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন নাকে মুখে ঢুকে না যায়; পানি নাড়া চাড়া করে দিতে হবে; সার প্রয়োগ : সার প্রয়োগ প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক; জৈব সার/প্রাকৃতিক যা কিনা প্রাণীকণা তৈরি করে। গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, কম্পোস্ট; অজৈব বা রাসায়নিক বা কৃত্রিম সার ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি যা উদ্ভিদ কণা তৈরি করে।   নতুন পুকুরের ক্ষেত্রে সার প্রয়োগ মাত্রা ১. প্রতি শতাংশে গোবর ৫-৭ কেজি অথবা ২. হাঁস মুরগির বিষ্ঠা ৫-৬ কেজি অথবা ৩. কম্পোস্ট ১০-১২ কেজি এবং ইউরিয়া ১০০-১৫০ গ্রাম টিএসপি ৫০-৭৫ গ্রাম।   পুকুর প্রস্তুতির আনুমানিক মোট সময় * পাড় ও তলা+ঝোপ জঙ্গল পরিষ্কার = ২ দিন; ক্স রাক্ষুসে মাছ পরিষ্কার = ৩ দিন (৭-১০ দিন পর্যন্ত বিষক্রিয়া থাকে)। * চুন প্রয়োগ = ৩-৫ দিন; * সার প্রয়োগ = ৭ দিন; এরপর পোনা ছাড়া হবে। গড়ে মোট ১৭ দিন (২+৩+৫+৭)। পুকুরে চাষযোগ্য মাছের বৈশিষ্ট্য- দ্রুতবর্ধনশীল; রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি; বাজার চাহিদা বেশি।   পুকুর নির্বাচন  ১. পুকুরটি খোলামেলা জায়গায় এবং বাড়ির আশপাশে হতে হবে। ২. মাটির গুণাগুণ পুকুরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দো-আঁশ, এঁটেল দো-আঁশ ও এঁটেল মাটি পুকুরের জন্য ভালো। ৩. পুকুরের আয়তন কমপক্ষে ১০ শতাংশ হতে হবে। ৩০ শতাংশ থেকে ১ একর আকারের পুকুর মাছ চাষের জন্য বেশি উপযোগী। ৪. পুকুরের গভীরতা ২-৩ মিটার রাখতে হবে। ৫. পুকুর পাড়ে বড় গাছ বা ঝোপ-ঝাড় থাকা যাবে না।   পুকুর প্রস্তুত পোনা মাছ ছাড়ার আগে পুকুর তৈরি করে নিতে হবে। সাধারণত পুরনো পুকুরই তৈরি করে নেয়া হয়। পুকুর প্রস্তুতির কাজটি পর্যায়ক্রমে করতে হবে: ১ম ধাপ : জলজ আগাছা-কচুরিপানা, কলমিলতা, হেলেঞ্চা শেকড়সহ তুলে ফেলতে হবে; ২য় ধাপ : শোল, গজার, বোয়াল, টাকি রাক্ষুসে মাছ এবং অবাঞ্ছিত মাছ মলা, ঢেলা, চান্দা, পুঁটি সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলতে হবে; ৩য় ধাপ : এরপর প্রতি শতকে ১ কেজি হারে চুন পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। পুকুরে জল থাকলে ড্রামে বা বালতিতে গুলে ঠান্ডা করে পুরো পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে; ৪র্থ ধাপ : মাটি ও জলের গুণাগুণ বিবেচনায় রেখে চুন দেয়ার এক সপ্তাহ পর জৈবসার দিতে হবে; ৫ম ধাপ : পুকুর শুকনা হলে পুকুরে সার, চুন, গোবর সব ছিটিয়ে দিয়ে লাঙল দিয়ে চাষ করে জল ঢুকাতে হবে; ৬ষ্ঠ ধাপ : পোনা মজুদের আগে পুকুরে ক্ষতিকর পোকামাকড় থাকলে তা মেরে ফেলতে হবে; ৭ম ধাপ : পুকুরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মালে পোনা মজুদ করতে হবে। মৃত্যুর হার যেন কম থাকে সেজন্য পোনার আকার ৮-১২ সেন্টিমিটার হতে হবে।  ৮ম ধাপ : এর পর নিয়মমতো পুকুরে পোনা ছাড়তে হবে। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেমন  ১. পোনা হাড়িতে বা পলিথিন ব্যাগে আনা হলে, পলিথিন ব্যাগটির মুখ খোলার আগে পুকুরের জলে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে; ২. তারপর ব্যাগের মুখ খুলে অল্প করে ব্যাগের জল পুকুরে এবং পুকুরের জল ব্যাগে ভরতে হবে। ৩. ব্যাগের জল ও পুকুরের জলএর তাপমাত্রা যখন সমান হবে তখন পাত্র বা ব্যাগের মুখ আধা জলে ডুবিয়ে কাত করে সব পোনা পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে। সকাল ও বিকালই পোনা ছাড়ার ভালো সময়।  ৯ম ধাপ : দিনে দুইবার অর্থাৎ সকাল ১০টায় এবং বিকাল ৩টায় খৈল, কুঁড়া, ভুসি ইত্যাদি সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।   সতর্কতা : ১. রোগ প্রতিরোধী মাছের চাষ করতে হবে। ২. সঠিক সংখ্যায় পোনা মজুদ করতে হবে। ৩. পোনা ছাড়ার আগে পোনা রোগে আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. পুকুরে পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং পুকুরে যাতে আগাছা না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ৫. প্রতি ৩-৪ বছর পরপর পুকুর শুকিয়ে ফেলতে হবে।   বাণিজ্যিকভাবে চাষযোগ্য মাছ দেশি কার্প- রুই, কাতলা, মৃগেল, কালি বাউশ; বিদেশি কার্প- গ্রাস কার্প, সিল্ভার কার্প, কার্পিও, মিরর কার্প, বিগহেড কার্প ছাড়াও পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, সরপুঁটি/রাজপুঁটি, কৈ, চিংড়ি এসব। বিভিন্ন স্তরের মাছ একসাথে চাষের আনুপাতিক হার উপরের স্তর ৪০%; মধ্য স্তর ২৫%; নিম্ন স্তর ২৫%; সর্বস্তর ১০% মোট ১০০%। সাধারণত শতাংশ প্রতি ১৫০টি পোনা ছাড়া যায়। এ হিসাবে ৩০ শতাংশের একটি পুকুরে মোট ৪৫০০টি পোনা ছাড়া যাবে। এবং উপরের স্তরের মাছ থাকবে {(৪০x৪৫০০)/১০০}=১৮০০টি পোনা   পুকুরে মাছ চাষ ১. সনাতন পদ্ধতির মাছ চাষ : এ পদ্ধতিতে পুকুরের কোনো ব্যবস্থাপনা ছাড়াই মাটি ও পানির উর্বরতায় পানিতে যে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয় মাছ তাই খেয়ে জীবন ধারণ করে। এক্ষেত্রে আলাদা কোনো পরিচর্যা নিতে হয় না।  ২. আধা-নিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ : এ পদ্ধতিতে নিয়মমতো পুকুর প্রস্তুত করে আংশিক সার ও খাদ্য সরবরাহ করে মাছের খাদ্য উৎপন্ন করতে হয়। পুকুরের বিভিন্ন স্তরে উৎপাদিত খাদ্যের সঠিক ব্যবহারের দিকে লক্ষ্য রেখে মাছের পোনা ছাড়তে হয়।  ৩. নিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ : অল্প জায়গায়, অল্প সময়ে বেশি উৎপাদনের জন্য সার ব্যবহার করে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হয়।  ৪. কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ : পুকুরের বিভিন্ন স্তরে উৎপন্ন খাবার সম্পূর্ণ ব্যবহার করার জন্য রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস, বিগহেড, সিলভারকার্প, কমনকার্পসহ প্রজাতির মাছ একত্রে চাষ করা যায়।   মাছের প্রক্রিয়াজাতকরণ ১. মাছ প্রক্রিয়াজাতের সময় হাত দিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করা যাবে না; মাছ ধরার পর মাছের আকৃতি অনুযায়ী আলাদা করে ফেলতে হবে; বাক্সে বা পাত্রে বরফ দিয়ে স্তরে স্তরে মাছ সাজাতে হবে।   পরিচর্যা ১. বর্ষার শেষে পুকুরের জলে লাল বা সবুজ সর পরলে তা তুলে ফেলতে হবে; জলের সবুজভাব কমে গেলে অবশ্যই পরিমাণমতো সার দিতে হবে; মাঝে মাঝে জাল টেনে মাছের অবস্থা দেখতে হবে; পুকুরে জাল টেনে মাছের ব্যায়াম করাতে হবে।

  • সঠিক পদ্ধতি মেনে রেশম চাষ করে আয় বাড়াতে পারেন চাষীরা,বিস্তারিত জেনে নিন

    newsbazar24: ঝাড়খণ্ড, বিহার, বাংলার প্রত্যন্ত জঙ্গলময় এলাকার গরীব আদিবাসী মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহের একটি পথ তসর পালন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভাবে এখানে বহু বছর আগে শুরু হয়েছিল এই  চাষ‌। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এই সব প্রত্যন্ত অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজস্ব প্রযুক্তিতে তসরের চাষাবাদ করে আসছে। আমাদের দেশে চার ধরনের রেশমের চাষ করা হয়, ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে তুঁত, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় তসর, , এরি এবং মুগা চার রকমের বাণিজ্যিক রেশমই উৎপাদিত হয়। এগুলির মধ্যে সোনালি হলুদ উজ্জ্বলতার জন্য মুগার চাহিদা বেশি। কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাডু ও জম্মু ও কাশ্মীর-এই পাঁচটি রাজ্যে দেশের মোট তুঁত উৎপাদনের ৯৭ শতাংশ উৎপাদিত হয়। ভারত পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রেশম উৎপাদনকারী দেশ। ২০১৩-১৪ অর্থ বর্ষে ভারতে মোট কাঁচা রেশম উৎপাদন হয় ২৬৪৮০ মেট্রিক টন, এর মধ্যে ১৯৪৭৬ মেট্রিক টন তুঁত সিল্ক, ২৬১৯ মেট্রিক টন তসর সিল্ক, ৪২৩৭ মেট্রিক টন এরি সিল্ক এবং ১৪৮ মেট্রিক টন মুগা সিল্ক। তসর- একটি বন্য রেশম প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বছরের পর বছর চাষাবাদ হলেও ফলন অত্যন্ত কম, বর্তমানে ভারতে উৎপাদিত সমগ্র তসর চাষের ৮১ শতাংশ অবদান আছে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের। তসরের পোকা আসান, শাল ও অর্জুন পাতা খেয়ে তসর মথ-এ পরিণত হয়। তসর মত এর আগের দশা হলো কোকুন দশা বা সাধারণ কথায় গুটি দশা, যার থেকে সুতো বার করা হয়। চক্রটি সম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে ৪০-৭০ দিন। অর্থাৎ, বছরে তিনটি চাষ সম্ভব। যদি বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়  তাহলে চাষীরা কয়েক গুণ বেশি লাভবান হবেন। তা ছাড়া, বন্য  জমিতে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে গাছ লাগানোয় এক দিকে বনসৃজন হবে আর বাড়বে তসর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা, অন্য দিকে স্থানীয় মানুষের জ্বালানি কাঠের জোগানও মেটাবে পুরানো অর্জুন গাছগুলিই। আবার তসর চাষের প্রতি ধাপে পেশাদারিত্ব সহজ প্রযুক্ত থাকবে বলেও তিনি জানান। তসর-গুটি চাষের সঙ্গে যুক্ত চাষীরা জানিয়েছেন, ২০০ টাকায় এক গ্রাম ডিম কিনতে হয় মহাজনদের কাছ থেকে। তার পর তা অর্জুন গাছে ছেড়ে দিলে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে পোকা ও পরে ধীরে ধীরে গুটি তৈরি হয়। গোপীবল্লভপুরের পায়রাশুলি গ্রামের কারুরাম মান্ডির কথায়, “এখন আমরা বছরে একবার কোকুন চাষ করি। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর— ৪৫ দিনেই গুটি পাই। ২২০০ টাকা কাহন (চার গুটিতে এক গণ্ডা, ২০ গণ্ডায় ১ পণ, ২০ পণে ১ কাহন) দামে গুটি বিক্রি করি মহাজনদের কাছেই। তাতে প্রায় ৫ হাজার টাকা লাভ থাকে।”  লাভজনক হলে সারা বছর চাষ হয় না কেন? (১)দালাল দের মাধ্যমে বেশিরভাগ তসর গুটি বিক্রি করেন স্থানীয় চাষীরা, দালাল দেয় নামমাত্র মূল্যে। (২) বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষাবাদ না করার ফলে চাষীদের নানান জটিলতা সাথে লড়তে হয় যেমন (রোগ মুক্ত ডিম উৎপাদন , নানান প্রতিকূল পরিবেশে থেকে ও রোগ পোকা হাত থেকে রক্ষা) দেখা গেছে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে চাষাবাদ না করে পরম্পরা গত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে ৮০-৯০% ফলন ক্ষতি হতে পারে। (3)আরো একটি অন্যতম দিক হলো এই চাষিরা সংগঠিত নয় , বিভিন্ন স্থানে ছরিয়ে ছিটিয়ে আছেন বা এক সঙ্গে কাজ না করবার জন্য অনেক ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন। (4) চাষীদের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ এবং শিক্ষার মান উন্নত না থাকার জন্য অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। (5) রেশম চাষী শুধু গুটি বিক্রি জন্য চাষাবাদ করেন কিন্তু তারা যদি , মেশিনে গুটি থেকে সুতো বের করেন তাহলে লাভের পরিমাণ বাড়বে কয়েকগুণ বেশি।

  • কিভাবে করবেন আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষ, জেনে নিন

    newsbazar24: পুষ্টিমানঃ টমেটো একটি অতি প্রয়োজনীয়, জনপ্রিয় এবং পুষ্টিকর সবজি। এটি ভিটামিন এ এবং সি-এর অন্যতম উৎস। কাঁচা ও রান্না করে-এ দুইভাবেই টমেটো খাওয়া যায়। টমেটো বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয় যেমন জ্যাম, জেলি, সস্, কেচাপ, আচার, সালাদ ইত্যাদি। টমেটোর পুষ্টিমান পাকা টমেটোর ভক্ষণযোগ্য অংশের প্রতি ১০০ গ্রামে পুষ্টি উপাদানসমূহ নিম্ন লিখিত পরিমাণে পাওয়া যায় : টমেটো চাষের জন্য জলবায়ুঃ টমেটো এদেশে রবি বা শীতের ফসল হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট  থেকে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। রাতের তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর নিচে থাকলে তা গাছের ফুল ও ফল ধারণের জন্য বেশি উপযোগী। গড় তাপমাত্রা ২০-২৫ ডিগ্রি সে. টমেটোর ভালো ফলনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। রাতের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর কম হলে টমেটোতে ফল হয় না। মাটির বৈশিষ্ট্যঃ আলো-বাতাসযুক্ত উর্বর দো-আঁশ মাটি টমেটো চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা বেলে দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ সব মাটিতেই টমেটোর ভালো জন্মে। মাটির অম্লতা ৬-৭ হলে ভালো হয়। মাটির অম্লতা বেশি হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করা দরকার। চাষের মৌসুমঃ টমেটো দীর্ঘমেয়াদী একটি ফসল। বীজ বোনা থেকে শুরু করে গাছের প্রথম ফল পাকা পর্যন্ত কমপক্ষে ১০০ দিন লাগে এবং ফলধারণ জাতভেদে ৩০-৬০ দিন স্থায়ী হয়। এ জন্য রবি মৌসুমের অনুকূল আবহাওয়ার সম্পূর্ণ সুযোগ নিতে হলে মৌসুম আসার আগেই চাষের আয়োজন করতে হবে।বর্ষাকালের চাষের জন্য এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এবং আগাম জাতের ক্ষেত্রে জুলাই থেকে আগস্ট মাস এবং শীতকালীন চাষের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলায় বীজ বপন করা যায়। বীজতলা তৈরিঃ চারা তৈরির দুই মাস আগে বীজ বপনের জন্য বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নিতে হবে। বীজতলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ জৈব সার এবং নিম্ন লিখিত অন্যান্য সার এবং রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করতে হবে। বীজতলায় বীজ বপনঃ বীজ বোনার আগে  প্রোভক্স/ব্যাভিস্টিন বা ভিটাভ্যাক্স বা সিনকার দ্বারা বীজ শোধন করে নিতে হবে। সুস্থ সবল চারা উৎপাদনের জন্য প্রথমে ১০ গ্রাম মানসম্মত ভাল বীজ ঘন করে প্রতিটি বীজতলায় (বীজ তলার আয়তন হবে দৈর্ঘ্য ১ মিটার ও প্রস্থ ৩ মিটার) বুনতে হয়। এই হিসেবে প্রতি হেক্টরে (প্রায় ২৫০ শতক)) ২০০ গ্রাম (১ গ্রাম/শতাংশ) বীজ বুনতে (গজানোর হার ৮০%) ২০টি বীজতলার প্রয়োজন। গজানোর ৮-১০ দিন পর চারা দ্বিতীয় বীজতলায় প্রতিটি চারা ৪ সেমি. দূরত্বে স্থানান্তর বা রোপণ করতে পারলে ভালো হয়। এক হেক্টর জমিতে টমেটো চাষের জন্য এ রকম ২০-২২টি বীজতলার প্রয়োজন হয়। বীজতলায় প্রতি ইঞ্চিতে ৪০-৬০টি ছিদ্রযুক্ত নাইলন নেট দিয়ে ঢেকে চারা উৎপাদন করলে চারা অবস্থায়ই সাদা মাছিপোকার কারণে পাতা কোঁকড়ানো ভাইরাস রোগ ছড়ানোর হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। এ রকম সুস্থ সবল ও ভাইরাসমুক্ত চারা রোপণ করে ভালো ফলন পাওয়া যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও রোদের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে পলিথিন ও চাটাই এর আচ্ছাদন ব্যবহার করা দরকার । বীজের পরিমাণঃ বীজতলায় বীজ বপনের ক্ষেত্রে শতাংশ জমি প্রতি ১ গ্রাম (২০০ গ্রাম/হেক্টর) বীজ লাগে। তবে জাত ভেদে বীজের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। মূল জমি তৈরিঃ জমি ভালভাবে চাষ দিয়ে বেড তৈরি করে নিতে হবে। সারের পরিমাণ ও প্রয়োগঃ টমেটো গাছ মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন গ্রহণ করে। বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যের অভাব হলে গাছ দ্রুত বাড়ে না এবং পরবর্তী পর্যায়ে খাদ্যের ঘাটতি ফলণ অনেক কমিয়ে দেয়। মাটি পরীক্ষা করে জমির চাহিদা অনুযায়ী সার প্রয়োগ করাই সবচেয়ে ভাল। তবে গড়পড়তায় টমেটো চাষের জন্য প্রতি শতাংশ জমিতে যে সারের দরকার হয় তা হলোঃ সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ ইউরিয়া ও এমওপি সার ব্যতীত বাকি সব সার মূলজমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে এবং মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ফেলতে হবে। তবে দস্তা ও টিএসপি এক সাথে প্রয়োগ করা উচিত নয়। ইউরিয়া ও এমওপি সার সমান তিন ভাগে ভাগ করে তিনবারে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম ভাগ চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর, দ্বিতীয় ভাগ চারা রোপণের ২৫-৩০ দিন পর, তৃতীয় ভাগ চারা রোপণের ৪০-৪৫ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণঃ চারার বয়স ২৫-৩০ দিন অথবা ৪-৬ পাতা হলে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। বীজতলা থেকে চারা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তুলতে হবে যাতে চারা শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ জন্য চারা তোলার আগে বীজতলার মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে। চারা রোপণের আগে উপড়ে তোলা চারাগাছটির গোড়া (শিকড়) ২% ইউরিয়া +২% বোরিক এসিড দ্রবণে ডুবিয়ে নিলে চারা গাছটি তাৎক্ষণিকভাবে খাবার পায়। ফলে পাতা হলুদ বা বিবর্ণ হবে না। প্রথমে ১ মিটার চওড়া বেড তৈরি করে নিতে হবে। প্রতি বেডে দুই লাইন করে চারা রোপণ করতে হবে। লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব হবে ৬০ সেমি. এবং প্রতি লাইনে চারা থেকে চারা ৬০ সেমি. দূরত্বে লাগাতে হবে। একটি বেডে দুই লাইনে টমেটোর চারা রোপণ করার ক্ষেত্রে চারাগুলো ত্রিভূজ আকৃতিতে লাগাতে হবে। বিকেলের পড়ন্ত রোদে চারা রোপণ করাই উত্তম এবং লাগানোর পর গোড়ায় হালকা সেচ প্রদান করতে হবে। সেচ ও নিষ্কাশনঃ চারা রোপণের ৩-৪ দিন পর পর্যন্ত হালকা সেচ ও পরে প্রতি কিস্তিতে সার উপরি প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে টমেটো চাষের জন্য ঘন ঘন সেচের প্রয়োজন হয়। বর্ষা মৌসুমে তেমন একটা সেচের প্রয়োজন হয় না। টমেটো গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। সেচ অথবা বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নালা পরিমিতি চওড়া (৩০-৪০ সেন্টিমিটার) এবং এক দিকে সামান্য ঢালু হওয়া দরকার। সেচ দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, সেচের পানি কখনোই যেন বেডের উপর উঠে না আসে। নালাতে সেচ দিতে হবে, নালা থেকে শোষণের মাধ্যমে বেড ও গাছ পানি সংগ্রহ করতে হবে। আচ্ছাদনের ব্যবস্থাঃ  সূর্যের প্রখরতা থেকে চারা গাছকে বাঁচানোর জন্য ছায়াদানের ব্যবস্থা করতে হবে। মালচিংঃ প্রতিটি সেচের পরে মাটির উপরি ভাগের চটা বা চাকামাটি ভেঙে দিতে হবে যাতে মাটিতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে। আগাছা দমনঃ টমেটোর জমিতে প্রয়োজনীয় নিড়ানি দিয়ে আগাছামুক্ত রাখতে হবে। বিশেষ পরিচর্যাঃ প্রথম ফুলের গোছার ঠিক নিচের কুশিটি ছাড়া নিচের সব পার্শ্বকুশি ছেঁেট দিতে হবে।বাউনিয়া দেয়া-গাছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকনা দিতে হবে। ফসল তোলাঃ ফলের নিচে ফুল ঝরে যাওয়ার পর যে দাগ থাকে ঐ স্থান থেকে লালচে ভাব শুরু হলেই বাজারজাতকরণের জন্য ফল সংগ্রহ করতে হবে। এতে ফল অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। অপরিপক্ব অবস্থায় ফল তুলে হরমোন প্রয়োগে ফল পাকানো হলে ফলের স্বাভাবিক স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় এবং ফলনও কম হয়। তাই এভাবে ফলন সংগ্রহ ও পাকানো মোটেই সমীচিন নয়। মেয়াদঃ ১০০-১৪০ দিন। ফলনঃ জাত ভেদে ফলন ১৫-৫০ টন/একর হয়। মৌসুম, জাত, আবহাওয়া এবং পরিচর্যা অনুযায়ী প্রতি একর জমিতে ৫০ টনের বেশি টমেটো পাওয়া সম্ভব। টমেটোর জাতঃ মৌসুম অনুযায়ী এ দেশে চাষযোগ্য টমেটো জাতসমূহকে মোটামুটিভাবে নিম্নলিখিত শ্রেণীসমূহে ভাগ করা যেতে পারে: আগাম জাতঃ এসব জাত শীতকালেই হয়, তবে আগাম ফলে। আগাম জাতসমূহের বীজ বপন করা হয় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। আগাম জাতসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বারি টমেটো ৪, বারি টমেটো ৫, রোমা ভিএফ, রোমারিও, টিপু সুলতান, গ্রেট পেলে, ডেল্টা এফ ১, উন্নয়ন এফ ১, পুষারুবী, নিউ রূপালী এফ ১ ইত্যাদি। ভরা মৌসুমী জাতঃ শীতকালে স্বাভাবিক সময়েই এসব জাতের গাছে ফল ধরে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বীজ বুনে অক্টোবর-নভেম্বরে এসব জাতের টমেটোর চারা রোপণ করা হয়। অধিকাংশ জাতই শীতকালে ফলে। এসব জাতের মধ্য থেকে মানিক, রতন, বারি টমেটো ৩, বারি টমেটো ৬, বারি টমেটো ৭, বারি টমেটো ৯, বাহার, মহুয়া ইত্যাদি জাতকে বেছে নেয়া যেতে পারে। নাবি শীত মৌসুমী জাতঃ এসব জাতের বীজ বুনতে হয় জানুয়ারিতে, ফল পাওয়া যায় মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত। বাহার, রোমা ভিএফ, রাজা, সুরক্ষা ইত্যাদি জাত নাবি চাষের জন্য ভাল। সারা বছর চাষের উপযোগি জাতঃ বছরের যে কোন সময় টমেটোর বীজ বুনলে চারা ও সেসব চারা লাগালে গাছ হয় সত্য, এমনকি সেসব গাছে ফুলও আসে। কিন্তু সব জাতের গাছে ফল ধরে না। এজন্য সারা বছর চাষের উপযোগি জাত যেমন বারি টমেটো ৬ (চৈতী) চাষ করা যায়। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় চাষ পদ্ধতি: গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে টমেটো চাষ করার জন্য বারি-৪ হাইব্রিড টমেটো জাত অনুমোদন করা হয়েছে। ২৩০ সেন্টিমিটার (প্রায় ৯০ ইঞ্চি) চওড়া (মাঝে ৩০ সেন্টিমিটার নালাসহ) ২টি বেডে লম্বালম্বিভাবে একটি করে ছাউনির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছাউনির দু’পাশে উচ্চতা ১৩৫ সেন্টিমিটার ও মাঝখানের উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার হয়। চারা লাগানোর আগেই জমিতে নৌকার ছইয়ের আকৃতি করে ছাউনি দিতে হয়। ছাউনির জন্য বাঁশ, স্বচ্ছ পলিথিন, নাইলনের দড়ি ও পাটের সুতলি প্রয়োজন। পলিথিন যাতে বাতাসে উড়ে না যায় সেজন্য ছাউনির ওপর দিয়ে উভয় পাশ থেকে আড়াআড়িভাবে দড়ি পেঁচানো হয়ে থাকে। পাশাপাশি দুই ছাউনির মাঝে ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া নিষ্কাশন নালা রাখতে হবে। জমি থেকে বেডের উচ্চতা ২০-২৫ সেন্টিমিটার হতে হবে। প্রতিটি ছাউনিতে ২টি বেডে ৪টি সারি থাকবে। ২৫-৩০ দিন বয়সের চারা প্রতি বেডে ২ সারি করে রোপণ করতে হবে। গ্রীষ্মকালীন টমেটো গাছে প্রচুর ফুল ও করলেও উচ্চ তাপমাত্রা পরাগায়নে বিঘœ ঘটায়। কাজেই আশানুরূপ ফলন পেতে হলে ‘টমাটোটোন’ নামক কৃত্রিম হরমোন ২ সেমি. ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ছোট সিঞ্চনযন্ত্রের সাহায্যে সপ্তাহে দুইবার শুধুমাত্র সদ্য ফোটা ফুলে স্প্রে করতে হবে।তবে নতুন উদ্ভাবিত হাইব্রিড জাতসমূহের হরমোন প্রয়োগ ছাড়াও লাভজনক ফলন পাওয়া যায়।

  • ধান ফলন বৃদ্ধিতে কি কি করণীয়, জেনে নিন -

    newsbazar24: আউশ ধান আমন-বোরোর মতো যত্ন নিলে ফলন কোনো অংশেই কম হয় না। ধান সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়, জীবনকাল কম এবং জল সাশ্রয়ী। কথায় আছে জ্যৈষ্ঠে খরা ধানে ভরা। অথ্যাৎ জ্যৈষ্ঠ মাসে একটু বৃষ্টি পেলেই ধানের জমি সবুজ ধানে ভরে যায়। এ জন্য ধান আবাদে বৃষ্টি ছাড়া অতিরিক্ত পানির তেমন দরকার হয় না। সার দেয়ার প্রয়োজনীয়তাও বোরোর চেয়ে কম। এক সময় সারাদেশে অনেক এলাকাজুড়ে এ ধানের আবাদ করা হতো। আমাদের দেশে শুকনো মওসুমে বোরো চাষে সেচ কাজে জলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়- যা মেটাতে ভূ-গর্ভস্থ জল অধিক উত্তোলন করা হয়। ফলে ভূ-গর্ভস্থ জলের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে ও ভৌগোলিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। তাই বোরো এলাকা আর না বাড়িয়ে বরং আউশ ধানের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।বাংলা আশু শব্দ থেকে আউশ শব্দের উৎপত্তি। আউশ মানে আশু ধান্য। আশি থেকে একশ বিশ দিনের ভেতর এ ধান ঘরে তোলা যায়। দ্রম্নত (আশু) ফসল উৎপন্ন হওয়ার বিচারে এই ধানের এমন নামকরণ হয়েছে। খনার বচনে আছে 'আউশ ধানের চাষ, লাগে তিন মাস, কোল পাতলা ডাগর গুছি, লক্ষ্ণী বলে হেথায় আছি অর্থাৎ আউশ ধান চাষে তিন মাস লাগে। ফাঁক ফাঁক করে লাগালে গোছা মোটা হয় এবং ফলনও বেশি হয়'। আরো সহজ কথায় আউশে আমন-বোরোর মতো যত্ন নিলে ফলন কোনো অংশেই কম হয় না। আউশ সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়, জীবনকাল কম এবং জল সাশ্রয়ী। কথায় আছে জ্যৈষ্ঠে খরা ধানে ভরা। অথ্যাৎ জ্যৈষ্ঠ মাসে একটু বৃষ্টি পেলেই আউশের জমি সবুজ ধানে ভরে যায়। এ জন্য আউশ আবাদে বৃষ্টি ছাড়া অতিরিক্ত পানির তেমন দরকার হয় না। সার দেয়ার প্রয়োজনীয়তাও বোরোর চেয়ে কম। এক সময় সারাদেশে অনেক এলাকা জুড়ে এ ধানের আবাদ করা হতো। আমাদের দেশে শুকনো মওসুমে বোরো চাষে সেচ কাজে জলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়- যা মেটাতে ভূ-গর্ভস্থ পানি অধিক উত্তোলন করা হয়। ফলে ভূ-গর্ভস্থ জলের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে ও ভৌগোলিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। ব্রির গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি কেজি চাল উৎপাদনে ২০০০-২৫০০ লিটার জলের প্রয়োজন যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল তাই বোরো এলাকা আর না বাড়িয়ে বরং আউশের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। স্বাধীনতার পরপর আউশের জমি ছিল ৩.০ মিলিয়ন হেক্টর। আর বোরোর জমি ছিল ১ মিলিয়ন হেক্টরের কাছাকাছি। বোরো শুধু হাওর আর বিল এলাকার আশপাশে চাষ করা হতো। আউশ করা হতো কিছুটা উঁচু জায়গায়। দুরকমের আউশ হয়। যেমন- বোনা ও রোপা আউশ।  বোনা আউশ: বোনা আউশে সাধারণত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের ২৫ তারিখের মধ্যে (১০ চৈত্র হতে ১০ বৈশাখ) বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের জন্য হেক্টর প্রতি ৭০-৮০ কেজি বীজ ছিটিয়ে বপন করে হালকাভাবে একটা চাষ ও মই দিয়ে মাটি সমান করতে হয়। সারি করে ২৫ সে.মি. দূরত্বে ৪-৫ সি.মি. গভীর সারি করতে হয়। এতে হেক্টর প্রতি ৪০-৫০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। তারপর মই দিয়ে মাটি সমান করতে হয়। ডিবালং পদ্ধতিতে বাঁশ বা কাঠের দন্ড দিয়ে ২০ সি.মি. পরপর মাটিতে গর্ত করে প্রতি গর্তে ২/৩ বীজ বপন করে মই দিয়ে সমান করে দিতে হয়। এই পদ্ধতিতে বীজ হার হলো ২৫-৩০ কেজি/হেক্টর। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোনো বীজ মাঠের ওপরে না থাকে। জমিতে প্রচুর পরিমাণে রস থাকলে বীজ বপন করতে হবে। চারাগুলোর ১ সপ্তাহ পর আঁচড়া দিয়ে জমির মাটি আলাদা করে দিতে হবে। এতে চারার ঘনত্ব ঠিক থাকবে গাছের বাড় বাড়তি ভালো হবে, আগাছা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।  রোপা আউশ: বীজ বপনের সময় হলো ১৫ চৈত্র হতে ৫ বৈশাখ (৩০ মার্চ-১৫ এপ্রিল) এবং চারা রোপণের সময় ৫-৩০ বৈশাখ (১৫ এপ্রিল -১০ মে)। উর্বর ও উঁচু জমিতে বীজতলা করতে হবে যেখানে হঠাৎ বৃষ্টিতে/বন্যায় জল উঠার সম্ভবনা নেই। এ ক্ষেত্রে চারার বয়স হবে ১৫-২০ দিনের এবং রোপণ দূরত্ব রাখতে হবে সারি থেকে সারি ২০ সে.মি. ও চারার দূরত্ব ১৫ সে.মি.। সম্পূরক সেচঃ আউশ চাষাবাদ পুরোটাই বৃষ্টি নির্ভর। তবে প্রতি বৎসর সব স্থানে বৃষ্টিপাতের ধরন এক রকম হয় না। এমন কি একই বছরে একই স্থানে সবসময় সমানভাবে বৃষ্টিপাত হয় না। বিশেষত বোনা আউশে এশটি বৃষ্টিপাতের পর জমিতে জো আসলে বীজ ছিটানো হয়। যদি সময়মতো বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে যে কোনো পর্যায়ে সাময়িকভাবে বৃষ্টির অভাব দেখা দিলে অবশ্যই সম্পূরক সেচ দিতে হবে। একইভাবে রোপা আউশের সময়ও যদি প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হয় তবে বৃষ্টির আশায় না থেকে প্রয়োজনে একাধিক সম্পূরক সেচ দেয়া যেতে পারে। এ জন্য আউশ মৌসুমে নিশ্চিত ভালো ফলনের জন্য ধান জমিতে প্রতিষ্ঠিত করতে সম্পূরক সেচের প্রয়োজন পড়ে। বীজ বপনঃ বোনা আউশের বীজ তিনভাবে বপন করা যায়-ছিটিয়ে- এতে শতকরা ৮০ ভাগ অঙ্কুরোদগম সম্পন্ন ভালো বীজ হেক্টরপ্রতি ৭০-৮০ কেজি হারে বুনে দিতে হবে, এরপর হাল্কাভাবে একটা চাষ ও মই দ্বারা মাটি সমান করতে হবে। সারি করে- এতে ২৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে ৪-৫ সে.মি. গভীর করে সারি তৈরি করতে হবে এবং হেক্টর প্রতি ৪৫-৫০ কেজি হারে বীজ বপন করতে হবে। এবার মই দিয়ে মাটি সমান করতে হবে। ডিবলিং পদ্ধতিতে- এতে বাঁশ বা কাঠের দন্ড দিয়ে ২০ সেন্টিমিটার পর পর মাটিতে গর্ত করে গর্তপ্রতি ২/৩ টি করে বীজ বপন করে মই দিয়ে মাটি সমান করে দিতে হবে। এ পদ্ধতিতে বপনের জন্য বীজের হার হলো হেক্টর প্রতি ২৫-৩০ কেজি। সার ব্যবস্থাপনাঃ মাটির উর্বরতার মান যাচাই এবং ফলন মাত্রার ওপর ভিত্তি করে সারের মাত্রা ঠিক করা প্রয়োজন। বোনা/রোপা আউশে ইউরিয়া- টিএসপি-এমওপি-জিপসাম- দস্তা (মনোহাইড্রেট) হেক্টর প্রতি ১৩৫ - ৫৫- ৭৫ - ৩৫- ৫ হারে প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির শেষ চাষের সময় বোনা আউশের সব সারই প্রয়োগ করতে হবে। বৃষ্টিবহুল বোনা আউশে ইউরিয়া সমান দুকিস্তিতে প্রয়োগ করলে গাছের বাড় বাড়তি ভালো হয় ও ফলন বৃদ্ধি পায়। ১ মণ কিস্তি শেষ চাষের সময় ও ২য় কিস্তি ধান বপনের ৩০-৪০ দিন পর।রোপা আউশে ইউরিয়া ১ কিস্তি (১/৩) শেষ চাষের সময়, ২য় কিস্তি (১/৩) ৪-৫টি কুশি দেখা দিলে (সাধারণত রোপনের ১৫-১৮ দিন পর) এবং ৩য় কিস্তি (১/৩) ইউরিয়া কাইচথোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি সার জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। জমিতে গন্ধক এবং দস্তার অভাব থাকলে শুধুমাত্র জিপসাম এবং দস্তা (মনোহাইড্রেট) প্রয়োগ করতে হবে। আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে বোনা আউশ ধানে আগাছার খুবই উপদ্রব হয়। সময়মতো আগাছা দমন না করলে শতকরা ৮০-১০০ ভাগ ফলন কমে যায়। সাধারণত হাত দিয়ে, নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে অথবা আগাছানাশক ব্যবহারের মাধ্যমে আগাছা দমন করা যায়। হাত দিয়ে আগাছা নিড়ানো কষ্টকর ও শ্রমসাধ্য। এ ক্ষেত্রে বীজ বপনের ১৫-২০ দিন পর প্রথমবার এবং ৩৫-৪০ দিন পর দ্বিতীয়বার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সারি করে বপন বা রোপণ না করলে নিড়ানি যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না। আগাছানাশক ব্যবহারের মাধ্যমে আগাছা দমন করা সহজ ও সাশ্রয়ী।  পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ নিবিড় চাষাবাদের কারণে আউশে পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব ও আক্রমণ আগের চেয়ে বেড়েছে। ফলে ক্ষতিকর পোকা দমন এবং ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। আউশে মুখ্য পোকাগুলো হলো- মাজরা পোকা, পামরী পোকা, থ্রিপস, পাতা মোড়ানো পোকা, সবুজ পাতা ফড়িং, গান্ধি পোকা ইত্যাদি উলেস্নখযোগ্য। পোকার ক্ষতির মাত্রা, পোকার প্রজাতি, পোকার সংখ্যা, এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ, উপকারী পরভোজী ও পরজীবী পোকামাকড়ের সংখ্যা ইত্যাদি দেখে প্রয়োজনে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। প্রধান প্রধান ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ দমন করলে বোরো, আউশ এবং রোপা আমন মওসুমে যথাক্রমে শতকরা ১৩, ২৪ এবং ১৮ ভাগ ফলন বেশি হতে পারে। রোগ ব্যবস্থাপনাঃ আউশে ৬টি রোগকে প্রধান বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এগুলো হলো- খোলপোড়া ও খোলপচা রোগ, বাকানি রোগ, ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া ও লালচে রেখা রোগ এবং টুংরো রোগ ইত্যাদি।  সম্ভাবনা ও সুপারিশঃ কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েব পোর্টাল থেকে জানা যায়, দেশে মোট আবাদযোগ্য জমি ৮৫.৭৭ লাখ হেক্টর, মোট সেচকৃত জমি ৭৪.৪৮ লাখ হেক্টর, আবাদযোগ্য পতিত জমি ২.২৩ লাখ হেক্টর। সেচ নির্ভর জমি বোরো উৎপাদনে ছেড়ে দিয়ে দেশজুড়ে থাকা আবাদযোগ্য পতিত জমিতে আউশ আবাদ সম্প্রসারণ করা গেলে গড় ফলন ৩.০ টন/ হে. ধরলেও বিপুল পরিমাণ ফলন জাতীয় উৎপাদনে যোগ হবে। সেচ নির্ভর বোরো ধান আমাদের খাদ্য নিরাপত্তায় সর্বাধিক অবদান রাখা সত্ত্বেও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে ও ভৌগলিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন্ন রাখার স্বার্থে বোরো আবাদি এলাকা যথাসম্ভব কমিয়ে পানি সাশ্রয়ী আউশের আবাদ বৃদ্ধি করা জরুরি। 

  • ভাঙছে সুপারস্টারের দ্বিতীয় বিয়েও

    ডেস্কঃ(I.D).০৮ মার্চ ২০১৮ঃ- ভাঙছে সুপারস্টারের দ্বিতীয় বিয়েও,যে কোনও সময় বন্ধনহীন হয়ে যেতে পারে সাতপাকের বাঁধনগুলো। শুধু স্ত্রী-র উপরই নয়, বলিউডের এই সুপারস্টার নাকি তাঁর সন্তানকেও ভুলতে বসেছেন। এক সহকর্মীর প্রেমে পড়েছেন এই সুপারস্টার। শুটিংয়ের সময় নাকি মাঝে মধ্যেই ওই মহিলা সহকর্মীর বাড়িতে চলে যেতেন তিনি। ফলে, মাঝে মধ্যেই একসঙ্গে বেপাত্তা হয়ে যেতেন তাঁরা। বিষয়টি জানাজানি হতেই চটে যান ওই সুপারস্টারের স্ত্রী। শুরু হয় অশান্তি। এরপর থেকেই স্ত্রী এবং সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে তাঁর। জানা যাচ্ছে, মুম্বইতে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে সুপারস্টারের বান্ধবী নাকি এখন তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে রয়েছেন। এবং সেখানেই নাকি যাতায়াত করছেন ওই জনপ্রিয় অভিনেতা। বিষয়টি নিয়ে প্রথম ঢাক গুড়গুড় শুরু হলেও, বর্তমানে ওই সুপারস্টার বেশ খোলাখুলি তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে। শোনা যাচ্ছে, বেশিদিন আর টিকবে না সুপারস্টারের ঘর, সংসার। বাঁধন তো আলাদা হয়েছেই, এবার শুধু ছাদ আলাদা হওয়ার পালা বলে শোনা যাচ্ছে।

  • আমি স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করি না।‘ প্রকাশ্যে জানালেন

    ডেস্ক ঃ আমি স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করি না।‘ প্রকাশ্যে জানালেন অভিনেত্রী তথা রাষ্ট্রসঙ্ঘের ‘এনভায়রনমেন্ট গুডউইল অ্যাম্বাসাডর’ দিয়া মির্জা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিয়া মির্জা জানান, তিনি স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন না। তার নেপথ্যে একটি যুক্তিযুক্ত কারণও দেখান তিনি। দিয়া বলেন, ''স্যানিটারি ন্যাপকিনের খুব খারাপ প্রভাব পড়ে পরিবেশের ওপর। পরিবেশ নানা ভাবে দূষিত হয়। তাই আমি পিরিয়ডসের সময়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করি না। ডাইপারসের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি প্রযোজ্য।’ দিয়া মির্জা আরও জানান, স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপনী প্রচারের প্রস্তাব এলেও, তিনি তা ফিরিয়ে দেন। দিয়া জানিয়েছেন, বাজার চলতি ন্যাপকিনের বদলে তিনি বায়োডিগ্রেডেবল ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। এই ধরনের ন্যাপকিন পরিবেশ বান্ধব হয়। ফলে ব্যবহার করার পরে, প্রাকৃতিক ভাবেই এই ধরনের ন্যাপকিন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।