Newsbazar24.com / রাজ্য

  • তৃনমুল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের পথের কাঁটা কি এমন ছিলো, যে তিনি হেরে গেলেন ?

    24-May-19 08:03 pm


    পুজা দাস, বালুরঘাট ২৪ মে ;, গোষ্ঠী কোন্দলই পথের কাঁটা হয়ে গেল বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃনমুল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ এর। তিনি বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদারের কাছে বত্রিশ হাজার ২৯৩ ভোটের ব্যবধানে হারেন। তৃন্মুল পায় ৫০৫৪৬৩ এবাং বিজেপি ৫৩৯৩১৭ ভোট।বামেরা পায় ৭২৯৯০। গত বার বামেরা ভোট পেয়েছিল তিন লাখের বেশি। বামেদের ভোট ব্যাংকের অধিকাংশই বিজেপির দিকে গিয়েছে, বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তৃনমুলের গোষ্ঠী কোন্দলই কার্যত আরো বিপাকে ফেলেছে তৃণমূলকে। বিশেষ করে তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রের খাস তালুক গঙ্গারামপুরে কিন্তু এবারে অবাক করে দিয়েছে সকলকে। সেখানে কিন্তু পদ্ম ফুলের ছড়াছড়ি হয়ে যাওয়াতেই এবারে হার নিশ্চিত হয়ে যায় তৃণমূল প্রার্থীর। 2014 সালে প্রায় কুড়ি হাজার লিড নেওয়া গঙ্গারামপুর বিধানসভাতে, এবার কুড়ি হাজারের বেশি ভোট ডাউন গিয়েছে তৃণমূল প্রার্থীর। প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের যে বিবাদ বেঁধেছিল, এবারে সেই বিবাদেরই প্রভাব পড়েছে গঙ্গারামপুর বিধানসভায় বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ হার স্বীকার করে নিয়েই বলেন, যে ট্রেণ্ড চলছে তাতে এবার জয়ের সম্ভাবনা নেই আমাদের। গঙ্গারামপুরে এমন ফলের কারণ নিয়ে জবাব দেবার দায় জেলা সভাপতির। শীঘ্রই এ নিয়ে পর্যাআলোচনা করা হবে। এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অনেক গুরুত্ব রাখে পর্যালোচনা। তৃনমুল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র বলেন, এলাকাভিত্তিক রিপোর্ট হাতে পেলে যা বলার বলব। তবে বিপ্লব অনুগামীরা এই হারের জন্যে কিন্তু অর্পিতা ঘোসষ্কেই দায়ি করেছে। তাদের অভিযোগ, অর্পিতা দেবী নিজের কবর নিজেই অনেক দিন আগেই খুড়ে ফেলেছিলেন,তার অহংবোধের জন্য। তাদের আরও অভিযোগ ২০১৪ সালে এই আসন থেকে জয় পেয়ে সংসদে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিজেকে এই জেলায় পুলিশের একাংশের মদতে লাল আলো লাগানো গাড়ির পাশাপাশি পুলিশি এস্কর্ট নিয়ে সাইরেন বাজিয়ে চলাফেরা করার সময় নিজেকে জেলার চিফ মিনিস্টারের মত আচরন করতে শুরু করেন। এছাড়া বন্যার সময় না থাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যুতে গংগারামপুরের বিরুদ্ধাচারন করা সবই তার বিরুদ্ধে গিয়েছে। যার ফলে তিনি ক্রমশই জেলার মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি এই একই কারনে তার নিজের দলের সভাপতির সাথে দুরত্ব বাড়তেও দেখা যায়। ফলস্বরুপ এবার বালুরঘাট আসনে যাতে অর্পিতাকে প্রার্থী করা না হয় তার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র, তৃনমুল সুপ্রীমো মমতা । কিন্তু দলনেত্রী সেই অনুরোধে কান না দিয়ে প্রার্থী হিসেবে অর্পিতা ঘোষকেই এই আসনে প্রার্থী করেন। এরপরেই প্রকাশ্যে এই নিয়ে বিরোধীতা করেন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র। যদিও নেত্রীর নির্দেশ মেনে জেলা সভাপতি বিষয়টি নিয়ে আর না এগোলেও তার অনুগামীরা প্রকাশ্যে ও সোসাল মিডিয়ায় অর্পিতা ঘোষকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে ট্রোল করতে থাকে। এই নিয়ে দলের অভ্যন্তরে জোর ঝামেলা দেখা দিলে নেত্রীর নির্দেশে গৌতম দেব সহ একঝাক মন্ত্রী নিয়ে এসে বৈঠক বসে একপ্রকার জোড়াতালি দিয়ে ইলেকশন টা এবারের মত পার করে দেওয়ার কথা বলে। সেই মত সাময়িক ঝামেলা মিটিয়ে দুই পক্ষ আসরে নামলেও দুরত্ব একপ্রকার বজায় ছিলই। এমনকি প্রার্থীর সাথে জেলা সভাপতির কথা বার্তা একপ্রকার বন্ধই ছিল। এরই প্রভাব পরেছে ফলাফলে বলে মনে করা হচ্ছে। গংগারমপুর,বালুরঘাট, তপনে ব্যাপক লিড নিয়েছে বিজেপি। এদিকে বিজেপি নেতা নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী বালুরঘাটে গত ২০ এপ্রিল জেলার বুনিয়াদপুরে তাদের দলের প্রার্থীর সমর্থনে যে সভা করেছিলেন তা ছিল জন জোয়াড়ের সমান। সেদিন থেকেই এই আসনে বিজেপি প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চত হয়ে যায় বলে জেলার রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারনা। তৃনমুল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বিষয়টি যে আন্দাজ করেন নি তা নয়, একদিকে দলের অন্তর্ঘাত, অন্যদিকে মোদী ক্যারিশমা, একবার নয়, বালুরঘাটের দলের প্রার্থীর জন্য তিনি জেলাতে চার চারটি সভা করতে এসেছিলেন।এবং যথারীতি অর্পিতার সব দোষ নিজের কাধে নিয়ে তাকে আড়াল করবার সব রকম প্রয়াস চালিয়েছিলেন। কিন্তু ফল দেখে মনে হচ্ছে জেলার মানুষ তৃনমুল নেত্রীর সেই কথায় সায় দিতে চায় নি। তাই যা হবার তাই হলো। সব চেয়ে বড় কথা তৃনমুল কর্মীরা এবার যে তারা এই আসন টি থেকে বিদায় নিতে চলেছে তা আন্দাজ করেই সকাল থেকে গননা কেন্দ্রের আশে পাশে অনান্য বারের মত ভীড় জমান নি। গননা কেন্দ্রের বাইরে দেখলে মনে হবে যেন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। যদিও গননার প্রথম রাউন্ড থেকেই এই আসনে তৃনমুল বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে থাকে। কিন্তু চার রাউন্ড পর থেকেই তৃনমুল প্রার্থী কে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায় বিজেপি প্রার্থী। শেষ মেষ প্রায় ৩৩ হাজার ভোটে তৃনমুলের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়ে । হারের কারণ হিসেবে আরএসপির জেলা সম্পাদক বিশ্বনাথ চৌধুরী তৃণমূলের অত্যাচার এবং সন্ত্রাস কে দায়ী করেছেন। বিজেপি জয়ী প্রার্থী ডঃ সুকান্ত মজুমদার ও এই জয় তৃণমূলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষের রায় বলেই উল্লেখ করেছেন। -

    Read : 0
    Edit

Related Posts

ধোঁয়া মুক্ত করার জন্য মানিকচকের নারায়নপুর চরের বাসিন্দাদের দেওয়া হল বিনামূল্যে এলপিজি গ্যসের কানেকশান।
শুরুহল মালদার মহা ঐতিয্যবাহী রামকেলি উৎসব ২০১৯
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় রাজি জুনিয়র চিকিৎসকরা, তবে একটি শর্তে
ভস্মীভূত গৃহস্থ বাড়ি, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি নিয়ে অসহায় দম্পতি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে
মুখ্যমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্ত করে আমাদের বিরুদ্বে ব্যবহার করতে চাইছেন অভিযোগ জুনিয়র চিকিৎসকদের
মুখ্যমন্ত্রীকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পরামর্শ রাজ্যপালের।
মানিকচক থানা পুলিশের সাফল্য,মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয়ের চুরি যাওয়া কম্পিউটার সামগ্রী উদ্ধার
রাজ্যজুড়ে পালিত হলো বিশ্ব রক্ত দাতা দিবস
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন মালদা শহরে