Newsbazar24.com / রাজ্য

  • দক্ষিন দিনাজপুরে সীমান্ত এলাকায় পীর বাবার মেলা উপলক্ষ্যে দুই বাংলা মিলেমিশে একাকার।

    27-Jan-19 10:38 pm


    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৭ জানুয়ারিঃ পীর বাবার মেলা উপলক্ষ্যে দুই বাংলা মিলেমিশে একাকার হল মেলায় এসে চোখের জলে ভাসল দুদেশের আত্মীয়রা দীর্ঘদিন পরে নিজেদের ভাই-‌বোন দাদা কাকাকে দেখতে পেয়ে কেউ কান্নায় ভেসে পড়ল, কেউবা তাদের প্রিয়জনদের জন্য আনা পোশাক, খাবার একে অপরকে দিল দুই বাংলার সম্পৃতির এই অনন্য নজির দেখল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের ত্রিকূল এলাকা প্রতি বছরের মতো এবারেও রবিবার বসেছিল মেলা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার এপারেই এই মেলা উপলক্ষ্যে দু-‌দেশের  প্রায় ২০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন ওই এলাকায়যদিও সীমান্ত রক্ষী জওয়ানরা আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য

    কড়া ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন আগে থেকেই খবর পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশেও সকাল সকাল বাংলাদেশের নজিপুর, মহাদেবপুর, সাপাহার, নিয়ামতপুর থানা এলাকার মূলতঃ কুমরইল, মহেশপুর, শীতল, আগ্রাদুগুন, সাপাহার, শিয়ালা, নজিপুর, ধামরহাট সহ প্রায় ৩০ টি গ্রামের ২০ হাজার বাংলাদেশি হাজির হয়েছিলেন কাঁটাতারের ওপারের সীমান্তে অন্যদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের জলঘর এলাকা ছাড়াও তপন ব্লকের অভিরামপুর, ভাড়িলা, বালাপুর, চেঁচাই, শ্রীবই, মনিপুরলস্করহাট, ভবানীপুর, মালঞ্চা সহ প্রায় ৫০ টি গ্রামের লোক জমায়েত হয়েছিলেন সেখানে দুপুর হতেই ভীড়ে উপচে পড়ে গোটা এলাকা প্রত্যেকেই তাদের নিকটাত্মীয়দের খোঁজ করতে ছোটাছুটি শুরু করেন কাঁটাতারের বেড়ার এপার থেকে ওপারে তাদের দাদা-‌কাকা-‌ভাই বোনদের দেখতে পেতেই আনন্দ উচ্ছাস কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন চেঁচাই এর বাসিন্দা সত্তোরোর্ধ সুরেশ টিগ্গা ছোটোবেলায় বাংলাদেশের নজিপুর থানা এলাকায় নজিপুর গ্রামে ছেড়ে আসা তাঁর ভাইদের দেখতে হাজির হয়েছিলেন সেই মেলায় সঙ্গে ভাই এর জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন লুঙ্গি, জামা ও বাড়িতে রান্না করা পায়েস ভাই মদন টিগ্গাকে দেখতে পেয়েই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পরে কাঁটাতারের উপর দিয়ে ছুঁড়ে দেন নিজের আনা জিনিষপত্র অন্যদিকে ভাইয়ের আনা বাংলাদেশের গুড় সহ অনেক জিনিষ হাতে পেয়ে দারুন উচ্ছসিত সুরেশ বাবু তিনি জানান, বছরের এই দিনটির জন্যই সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন দেশ ভাগের পর আর নিজের জন্মভিটেয় যাওয়া হয়নি কিন্তু প্রতি বছরের এই মেলাতে এসে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা হয় ফেরার আগে তিনি মেলা থেকে গরম জিলিপি কিনে তা তাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানান অনেকেই তাদের আত্মীয়দের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ান কাঁটাতার ঘেষে চেষ্টা করেন একবার নিজের চোখে দেখার জন্য না পেলে ওই গ্রাম থেকে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জেনে নিচ্ছেন তাদের সম্পর্কে এভাবেই মেলা জমে ওঠে প্রতিবছর জলঘরে এবারে কেবলমাত্র জলঘর এলাকাই নয়, আশপাশের প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে লোকজন হাজির হয়েছিলেন মেলায় বেচাকেনা করতে মেলাতে মিষ্টির দোকানের পাশাপাশি হরেক রকমের মনোহারি দোকান বসেছিল দিনভর চলে দেদার বেচাকেনা যদিও সন্ধ্যে নামতেই ফের এক বছরের জন্য নিজেদের স্মৃতিটুকু সম্বল করে ফিরে যান তাদের ঘরে বাস্তবিক অর্থেই এবারে জলঘরের ত্রিকূল এই মেলা দু-‌ দেশের সম্পৃতি মিলন মেলার রুপ

    Read : 0
    Edit

Related Posts

ধোঁয়া মুক্ত করার জন্য মানিকচকের নারায়নপুর চরের বাসিন্দাদের দেওয়া হল বিনামূল্যে এলপিজি গ্যসের কানেকশান।
শুরুহল মালদার মহা ঐতিয্যবাহী রামকেলি উৎসব ২০১৯
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় রাজি জুনিয়র চিকিৎসকরা, তবে একটি শর্তে
ভস্মীভূত গৃহস্থ বাড়ি, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি নিয়ে অসহায় দম্পতি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে
মুখ্যমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্ত করে আমাদের বিরুদ্বে ব্যবহার করতে চাইছেন অভিযোগ জুনিয়র চিকিৎসকদের
মুখ্যমন্ত্রীকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পরামর্শ রাজ্যপালের।
মানিকচক থানা পুলিশের সাফল্য,মানিকচক উচ্চ বিদ্যালয়ের চুরি যাওয়া কম্পিউটার সামগ্রী উদ্ধার
রাজ্যজুড়ে পালিত হলো বিশ্ব রক্ত দাতা দিবস
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন মালদা শহরে